7 copy
নিজস্ব প্রতিবেদক ।
দুই বন্ধু কালাম ও শামীম একই নারীকে ভালবাসেন। দুজনই তাকে কাছে পেতে চান। প্রেম করতে গিয়ে কালামের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন শামীম।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
ধারের টাকা প্রেমিকার পেছনে খরচ করেন।
এক পর্যায়ে ধার দেয়া টাকা ফেরত চান কালাম। বিপত্তি বাঁধে ঠিক তখন। একদিকে টাকা খরচ করে প্রেমিকাকে বাগে আনতে পারছেন না, তার ওপর টাকা শোধের চাপ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কালামকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শামীম।

সেই অনুযায়ী কালামকে কৌশলে মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের এক পুকুর পারে নিয়ে স্বাধীন নামে অপর এক বন্ধু ও দুই ভাড়াটে খুনির সহযোগিতায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন শামীম। পরে প্রথমে তারা লাশ লুকিয়ে রাখেন ঝুপড়ির নিচে। লাশ পঁচে গন্ধ বের হয়ে বিষয়টি জানাজানি হতে পারে—এই চিন্তায় পরদিন রাতে আবারো শামীম ও স্বাধীন যান দু’জন যায় সেই পুকুরপাড়ে। লাশটি একটি বস্তায় ভ্যানে করে নিয়ে যান মিরপুরের দুয়ারীপাড়ার ৫ নম্বর গলির বাসায়। ঘরের ভেতরে লাশ রেখে দুই দিন ধরে খাটের নিচে গর্ত করেন শামীম। গন্ধ যেন না ছড়ায় সেজন্য তিব্বত পাউডার দিয়ে রাখেন। দুই দিন পর কাঁথা দিয়ে লাশ মুড়ে সেই গর্তে চাপা দেন। স্বাভাবিকভাবে খাট ফেলে রাখেন আগের মতোই। তারপর প্রায় সাড়ে ছয় মাস ধরে সেখানেই রাত কাটাতেন শামীম।

শুক্রবার এই রহস্যের পুরো দ্বার উদ্ঘাটন করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সকালে সেই ঘরের মাটি খুঁড়ে কালামের হাড়গোড় উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বুধবার আটক হন শামীম। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী স্বাধীনকে আটক করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শাহাদাত হোসেন সুমা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, তারা দীর্ঘ দিন ধরে কালামের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছিলেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কালামের বন্ধু শামীমকে প্রথমে আটক করা হয়। কিন্তু সে কিছুতেই মুখ খুলছিল না। পরে নানা তথ্য-উপাত্ত তার সামনে হাজির করলে এক পর্যায়ে সে কালামকে হত্যার কথা স্বীকার করে। কিন্তু লাশ কোথায় গুম করেছে তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকে।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, শামীমের কথা মতো প্রথম দুদিন বোটানিক্যাল গার্ডেনের একটি পুকুরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি নিয়ে লাশ খোঁজা হয়। সেখানে কিছু না পেয়ে পরে শামীমকে লাশের বিষয়ে আরো বেশি চাপ দেয়া হলে সে তার নিজের বাসার খাটের নিচে পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কালামের হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হাড়গোড় পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন মিরপুরের ইর্স্টান হাউজিংয়ের বাসিন্দা আবুল কালাম। রাতে তার বড় ভাই আবুল বাশার ফোন বন্ধ পেয়ে বন্ধুদের কাছে খোঁজ-খবর করতে থাকেন। থানায় গিয়েও খোঁজ নেন। থানা পুলিশ তাকে আরেকটু খুঁজে দেখতে বলেন। পরের দিন আত্মীয়-স্বজন সবার বাড়ি খুঁজে না পেয়ে রাতে আবার থানায় যান। রূপনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। থানা পুলিশ এক মাস ধরে চেষ্টার পরও তার কোনও খোঁজ পায়নি।

আবু বাশার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, সিআইডি পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারেন কালামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পটুয়াখালীর গলাচিপায় শামীম নামে এক তরুণ ব্যবহার করছে। ঠিকানা নিয়ে বাশার গলাচিপায় চলে যান। শামীমের বাসায় গিয়ে তার ভাইয়ের সন্ধান চাইলে সে কিছু জানে না বলে জানায়। শামীম সেসময় বলে কালাম তার বন্ধু। নিখোঁজ হওয়ার আগেই দুই হাজার টাকা দিয়ে ফোনটি কিনেছে। কামাল নামে সে আরেকজনের সামনে এই ফোন কিনেছে বলে জানায়। স্থানীয় লোকজন শামীমকে বাশারের সঙ্গে ঢাকায় আসতে বললেও ঘরে কাপড় আনার কথা বলে সে পালিয়ে যায়। বাশার স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান লিখনের কাছে গিয়ে ঘটনা খুলে বলেন। কিন্তু সেখান থেকেও কোনও সহায়তা পাননি। পরে তিনি ঢাকায় এসে রূপনগর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। তিন মাস পর মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গত বুধবার শামীমকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/10/7-copy12.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/10/7-copy12-300x300.jpgশিশির সমরাটএক্সক্লুসিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক । দুই বন্ধু কালাম ও শামীম একই নারীকে ভালবাসেন। দুজনই তাকে কাছে পেতে চান। প্রেম করতে গিয়ে কালামের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেন শামীম। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। ধারের টাকা প্রেমিকার পেছনে খরচ করেন। এক পর্যায়ে ধার দেয়া টাকা ফেরত চান কালাম। বিপত্তি...