91000_35
নানা অজুহাতে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। বৃষ্টি আর বন্যার কারণে গত কয়েক দিন ধরে বাড়ছে কাঁচা পণ্যের দাম। সঙ্গে বাড়ছে অন্য পণ্যের দামও। দাম বাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। জানা গেছে, রোজার ঈদের পর ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ সব লণ্ডভণ্ড করে দেয়। মানুষের তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পণ্যবাজারে তার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সে সময় জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সুবিধাবাদী ও অতি মুনাফাখোরদের ফন্দিফিকির বেড়ে যায়। চট্টগ্রামের কয়েকজন আমদানিকারক কুক্ষিগত করে রাখে আগের আমদানি করা তেল। শেষ পর্যন্ত ৫০ টাকা দামের খোলা পাম অয়েল ও সুপার অয়েলের দাম হয়ে যায় ৮৫ টাকা। সে তেল এখন নামমাত্র কয়েক টাকা কমে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কোমেন কাণ্ডের পর প্রায় প্রতিদিনই কাঁচাপণ্যের দাম বেড়েছে। মাঝে কাঁচামরিচের কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এখন তা কিছুটা কমে ১৬০, ১৭০, ১৮০ টাকা নানা দামে বিক্রি হচ্ছে। আবার গত মঙ্গলবার খুচরা বাজারে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পণ্যটি নিয়ে যাচ্ছেতাই হচ্ছে। এক জায়গার দামের সঙ্গে অন্য জায়গার দামে কোন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর কয়েক দিন পিয়াজের ঝাঁজ বাড়তে থাকে। পার্শ্ববর্তী ভারতে বন্যার কারণে ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় পণ্য রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দেয়। সে ধাক্কা এসে লাগে দেশের বাজারে। দেশী ও আমদানি পিয়াজের কেজি হয়ে যায় প্রায় ৮৫ থেকে ৯৫ টাকা। তা থেকে কিছুটা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়। বর্তমানে শ্যামবাজারের আড়তে প্রতিকেজি দেশী পিয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, ভারতীয় পিয়াজ ৭০ থেকে ৭২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশে গত কয়েক মাস ধরে পণ্যমূল্য অস্বাভাবিক বেড়েছে। ৭০ টাকার নিচে কোন কাঁচা তরকারি নেই। কাঁচা মরিচের মূল্য ৬০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় পরিসংখ্যান ব্যুরোর উদ্বৃতি দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানালেন আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। বিবিএসের পক্ষ থেকে মন্ত্রী জানান, ‘জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬.৩৬%। আর আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬.১৭ শতাংশে। মরিচ, পিয়াজ মানুষ কতটুকু খাই? চালের দাম বাড়েনি। সব জিনিসের দাম স্থিতিশীল আছে। আপনারা কাঁচা মরিচ কেন খাবেন? আর গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না।
এদিকে চিনি ও লবণে শুল্ক বাড়ানোর পর পণ্য দুটির দামও বাড়ছে। ৩৫ টাকার চিনি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। এছাড়া জ্বালানি তেল ও গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সার্বিক ভাবে। এর বাইরে নতুন করে দাম বাড়ছে রসুনের। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিকেজি দেশী রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ১০০ টাকায়। যা কয়েক দিন আগেও ছিল মাত্র ৬০ থেকে ৭০ টাকা। একইভাবে আমদানি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। কয়েক দিন আগে ছিল যা ১০০ টাকা। এছাড়া রোজার আগে গরুর মাংসের দাম হয় ৪০০ টাকা। সে মাংসের দাম এখনও উল্লেখযোগ্য হারে কমেনি। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেশির ভাগ সবজির দামই কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বর্তমান বাজারে প্রতিকেজি ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, ধুন্দল ও করলা কিনতে ব্যয় করতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা। সস্তার জালি কুমড়া প্রতিটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় উঠেছে। পেঁপে কিনতেও এখন কেজিতে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লাগছে। এছাড়া বেগুন ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, লতি ৮০ টাকা, কুমড়া ৫৫ টাকা ও লেবু হালিপ্রতি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সার্বিক বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়ায় পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। কিছু পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। সঙ্গত কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনের তুলনায় যেন দাম বেশি না বাড়ায় সে বিষয়ে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।

নৃপেন পোদ্দারএক্সক্লুসিভ
নানা অজুহাতে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। বৃষ্টি আর বন্যার কারণে গত কয়েক দিন ধরে বাড়ছে কাঁচা পণ্যের দাম। সঙ্গে বাড়ছে অন্য পণ্যের দামও। দাম বাড়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা। জানা গেছে, রোজার ঈদের পর ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ সব লণ্ডভণ্ড করে দেয়। মানুষের তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও পণ্যবাজারে তার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব...