image_259612.shajahan1
বাংলাদেশের নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ‘ক্রসফায়ার’এর পক্ষে আবারও যুক্তি তুলে ধরেছেন।

আজ ঢাকায় বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এবিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় মিঃ খান বলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষ যা চায় সরকার সেধরনেরই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশের পুলিশ বা র‍্যাবের দিক থেকে বিভিন্ন সময়ে অপরাধীদের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’ এ নিহত হবার কথা বলা হয়।

গত বছর বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে নৌপরিবহন মন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন “ক্রসফায়ার গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে”।

সম্প্রতি পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন কর্মী নিহত হয়। এমন প্রেক্ষাপটে নৌপরিবহন মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা হয় যে ক্রসফায়ার এখনও তাঁর দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য রয়েছে কিনা।

শাজাহান খান বলেন “গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে কিনা সেটা আমি বলছি না। আমি বলছি এটার উপরে সাধারণ মানুষের উপর জরীপ করেন।জরীপে দেখা যাক সাধারণ মানুষ কী বলে।”

মি: খান বলেন ক্রসফায়ারের পক্ষে তিনি কথা বলায় অনেকে তার সমালোচনা করলেও সাধারণ মানুষের অনেকেই তার সে বক্তব্যকে সমর্থন করেছিল।

শাজাহান খান বলেন, “আপনারা কি কেউ বলতে পারবেন, এ পর্যন্ত কোন সন্ত্রাসীকে আইনের মাধ্যমে বিচার করা সম্ভব হয়েছে? কেউ বলতে পারবেন? ”

সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন কর্মী ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হবার বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি বলেন যারা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে তাদের কারও কারও ‘সন্ত্রাসী’ পরিচয় রয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি নেতা অবসরপ্রাপ্ত লে: জেনারেল মাহবুবুর রহমান মনে করেন বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সবচেয়ে বড় সমস্যা।

তিনি বলেন, “একটা সভ্য সমাজে বিচারবহির্ভূত হত্যা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। বাংলাদেশে এটাই আজ হচ্ছে। পুলিশ-র‍্যাব যারা এটা করছে, তারা জেনে শুনেই এটা করছে। তাদেরকে এটা করতে বলা হচ্ছে।”

মিঃ রহমান বলেন, আগে বিরোধী দল টার্গেট ছিল, এখন সরকারের দলের যারা ক্যাডার তারাই হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে।

সংলাপের আরেক প্যানেলিস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এম এম আকাশ ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শব্দটির সাথে একমত নন।

তিনি বলেন, “যুদ্ধ মানেই দুটো পক্ষ। আর বন্দুকযুদ্ধ মানে দুই পক্ষের হাতেই বন্দুক আছে। কিন্তু আমরা আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করছি, যারা মারা যাচ্ছে তাদের হাতে বন্দুক নেই।”

‘মন্দ পদ্ধতিতে’ ভালো কাজ করলে শেষ পর্যন্ত সেটির ফলাফল ভালো হয়না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মিঃ আকাশ বলেন, “পরিস্থিতি এখন আরও খারাপের দিকে যাবে। এখন তো প্রশাসন যাকে ইচ্ছা তাকে মারবে আর বলবে যে আমি ক্রসফায়ারের অধীনে মেরে ফেলেছি।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আরেক প্যানেলিস্ট ছিলেন বেসরকারী সংগঠন ‘আর্টিকেল নাইনটিন’ এর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমান।

তিনিও বলেন যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কখনোই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।

সুরুজ বাঙালীএক্সক্লুসিভ
বাংলাদেশের নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ‘ক্রসফায়ার’এর পক্ষে আবারও যুক্তি তুলে ধরেছেন। আজ ঢাকায় বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এবিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় মিঃ খান বলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সাধারণ মানুষ যা চায় সরকার সেধরনেরই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের পুলিশ বা র‍্যাবের দিক থেকে বিভিন্ন সময়ে অপরাধীদের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’ এ নিহত...