লাইফস্টাইল ডেস্ক । ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম
জন্ম মৃত্যু সবই মহান রাব্বুল আল আমীনের অমোঘ বিধান। পৃথিবীর কোনো বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী, মনীষীর হাজারো চেষ্টা এখানে মূল্যহীন। এটাই নিয়তি। তবে কিছু কিছু মৃত্যু আছে যা মেনে নেয়া যায় না। তেমনি একটি অকাল মৃত্যুর ঘটনায় জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিল বন্ধু-সহপাঠী অধ্যাপক এএসএম জাকারিয়া স্বপনের। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে ঘাতক ক্যান্সার কেড়ে নিল তার জীবন। গত ৭ বছর ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে নিরন্তন যুদ্ধ করে বেঁচেছিলেন তিনি। তার এই মর্মন্তুদ অকাল মৃত্যু নিয়ে লেখার ইচ্ছা আমার নেই। তবে যে ঘাতক ক্যান্সার এই বিশিষ্ট চিকিৎসকের জীবন কেড়ে নিলো তা আমাদের জানা দরকার। কোলানজিওকার্সিনোমা বা বাইল ডাক্ট বা পিত্তনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার কথা যখন ডা. স্বপন ৭ বছর আগে জানতে পারেন তখন জানতে চেয়েছিলাম কি উপসর্গ ছিলো তার।

শুধু সারা শরীরে চুলকানি, সামান্য জ্বর এবং রক্তের বিলিরুবিন বা পিত্ত বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া আর তেমন কোনো উপসর্গ ছিলো না। মূলত প্রথমে জেনারেলাইজড ইচিং বা শরীরের চুলকানির কারণ শনাক্ত করতে গিয়েই ধরা পড়ে বন্ধু স্বপনের বাইল ডাক্ট তথা লিভারের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার বেদনাদায়ক ঘটনা। পরবর্তীতে ভারতের একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে কয়েক দফা সার্জারি হয়। কিন্তু এই অপারেশনের সফলতা নিয়ে তার উদ্বেগ ছিলো। পরবর্তীতে বহুবার সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়। একাধিকবার ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সর্বশেষ মাসাধিককাল পূর্বে সিঙ্গাপুরের ফেয়ার পার্ক হাসপাতালে যান যিনি। সিঙ্গাপুরে একাধিকবার তার চিকিৎসা নিয়ে কথা হয়েছে। সর্বশেষ গত নভেম্বরেও সিঙ্গাপুরে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা হয়। কিন্তু জীবনের সকল সহায় সম্পদ নিঃশেষ করে দিয়েও সিঙ্গাপুরের মত অতি উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাও ডা. স্বপনকে আশার আলো দেখাতে পারেনি। পরিশেষে দেশে এসে ভর্তি হন তার প্রিয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই তিনি গতকাল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশের সেরা চিকিৎসকরা শত চেষ্টা করেও প্রিয় সহকর্মীর জীবন বাঁচাতে পারলেন না।

এখন দেখা যাক কি এই কোলানজিওকার্সিনোমা। সাধারণত আমাদের লিভার যে বাইল বা পিত্ত তৈরি করে তা বাইল ডাক্টের মাধ্যমে গলব্লাডার ও অন্যত্র সঞ্চালিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে বাইল ডাক্টের ক্যান্সার হলে অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ সার্জারি না হলে রোগীকে ক্যান্সারমুক্ত করা যায় না। সাধারণত অ্যাবনরমাল লিভার ফাংশন টেস্ট, জন্ডিস, পেটে ব্যথা, শরীরে চুলকানো, ওজন হ্রাস, জ্বর, ইউরিন ও স্টুলের কালার পরিবর্তন ইত্যাদি প্রাথমিক লক্ষণ থাকে কোলানজিওকার্সিনোমার ক্ষেত্রে। তবে অনেক ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ ছাড়াও এ ধরনের ক্যান্সার হতে পারে।

সাধারণত কোলনজিও ক্যান্সারকে অনিরাময়যোগ্য ধরা হয় যদি কিনা সার্জারি করে সব ক্যান্সার আক্রান্ত অংশ সফলভাবে ফেলে না দেয়া যায়। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপিও দেয়া হয়। তবে শরীরের অতি দ্রুত ওজন হ্রাস, চুলকানো, জন্ডিস, ইউরিন-স্টুলের রং পরিবর্তনসহ এধরনের উপসর্গ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। প্রাথমিক অবস্থায় এ ধরনের ক্যান্সার ধরা পড়লে অনেকক্ষেত্রে নিরাময়ের আশা করেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও কোলনজিওকার্সিনোমার প্রগনোসিস আশাপ্রদ নয়।

লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/02/142.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/02/142-300x300.jpgশিশির সমরাটস্বাস্থ্য কথা
লাইফস্টাইল ডেস্ক । ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম জন্ম মৃত্যু সবই মহান রাব্বুল আল আমীনের অমোঘ বিধান। পৃথিবীর কোনো বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী, মনীষীর হাজারো চেষ্টা এখানে মূল্যহীন। এটাই নিয়তি। তবে কিছু কিছু মৃত্যু আছে যা মেনে নেয়া যায় না। তেমনি একটি অকাল মৃত্যুর ঘটনায় জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিল বন্ধু-সহপাঠী অধ্যাপক এএসএম...