CHORACHALANER KHABOR
ল্যাটিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া থেকে আমদানি করা সূর্যমুখী তেলের ৫৯ নম্বর ড্রামের নমুনা পরীক্ষায়ও তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ঢাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে গত সোমবার করা পরীক্ষায় কোকেনের এ অস্তিত্ব ধরা পড়ে। আমদানি করা ওই তেলের চালানের ১২৭টি ড্রামের মধ্যে এ পর্যন্ত দুটি ড্রামে কোকেনের অস্তিত্ব মিলল।
অধিদপ্তরের প্রধান রসায়নবিদ দুলাল কৃষ্ণ সাহা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, প্রথমে আমরা শুধু ৯৬ নম্বর ড্রামে কোকেনের অস্তিত্ব পেয়েছিলাম। পাশাপাশি ৫৯ নম্বর ড্রামেও কোকেন থাকতে পারে বলে ধারণা করি। আমাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে ওই ড্রামটির নমুনা পুনঃপরীক্ষার আবেদন করেন। গত সোমবারের পরীক্ষায় কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে ৫৯ নম্বর ড্রামে কী পরিমাণ কোকেন আছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
এ প্রসঙ্গে দুলাল কৃঞ্চ সাহা বলেন, পরিমাণ নির্ধারণ করতে হলে ড্রামের সব তেল সরিয়ে নিতে হবে এবং কোকেন দানাদার অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে আদালতের কোনো নির্দেশনা না থাকায় আমরা পরীক্ষা করিনি।
এর আগে গত ২৭ জুন ৯৬ নম্বর ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায় বলে জানিয়েছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান। ড্রামটির ১৮৫ কেজি সূর্যমুখী তেলের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ কোকেন থাকতে পারে বলে ধারণা শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের।
গত রোববার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম নুরুল আলম মোহাম্মদ নিপু এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫৯ নম্বর ড্রামটির নমুনা পরীক্ষার আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর সোমবার ঢাকায় পরীক্ষাগারে ড্রামটিতে থাকা তেলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
সূর্যমুখী তেলের ঘোষণা দিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া থেকে কন্টেইনারটি চট্টগ্রাামে খান জাহান আলী লিমিটেডের নামে আমদানি করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৭ জুন চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ইয়ার্ডে থাকা কন্টেইনারটি আটক করে সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। পরদিন ৮ জুন গোয়েন্দা পুলিশ, শুল্ক গোয়েন্দা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর, নৌবাহিনী, কাস্টমসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কন্টেইনারে থাকা ভোজ্যতেলের কায়িক পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় কন্টেইনারে থাকা ১০৭টি ড্রামের কায়িক পরীক্ষায় তরল কোকেনের নমুনা ধরা পড়েনি। পরে ঢাকায় বিসিএসআইআর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা শেষে ২৭ জুন কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানায় শুল্ক গোয়েন্দারা। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুলাই আদালত ঢাকা সেনানিবাসের আর্মড ফোর্সেস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ ল্যাবরেটরি, ঢাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগার এবং সিআইডির ল্যাবরেটরিতে আবারও নমুনা পরীক্ষার আদেশ দেন।
কোকেন জব্দের এ মামলায় এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও পুলিশ। তারা হলেনÑ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, আইটি বিশেষজ্ঞ মেহেদী আলম, গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ম-ল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান খান, আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল এবং শিপিং এজেন্ট প্রতিষ্ঠান কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (করপোরেট, বিক্রয় ও বিপণন) এ কে আজাদ ও সাইফুল ইসলাম।
গত ৩১ অগাস্ট আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল এবং ২৭ অগাস্ট খান জাহান আলী লিমিটেডের কর্মচারী গোলাম মোস্তফা সোহেল ও আইটি বিশেষজ্ঞ মেহেদী আলম এ মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

নৃপেন পোদ্দারচোরাচালানের খবর
ল্যাটিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া থেকে আমদানি করা সূর্যমুখী তেলের ৫৯ নম্বর ড্রামের নমুনা পরীক্ষায়ও তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ঢাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে গত সোমবার করা পরীক্ষায় কোকেনের এ অস্তিত্ব ধরা পড়ে। আমদানি করা ওই তেলের চালানের ১২৭টি ড্রামের মধ্যে এ পর্যন্ত দুটি ড্রামে কোকেনের অস্তিত্ব মিলল। অধিদপ্তরের প্রধান...