ku_319124
কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। শনিবার সকালে ধরলা নদীর পানি ফেরিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলার ৯টি উপজেলার ৬৩টি ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রামের সাড়ে তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে আরো নতুন নতুন এলাকা। জেলার দুই শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যায় পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
যাত্রাপুর, পাঁচগাছি, বেরুবাড়ী,সাহেবের আলগা, নুনখাওয়া, রাজিবপুর, রৌমারী ও চিলমারীসহ কয়েকটি এলাকায় বেশকিছু ঘরবাড়ি পানির তোড়েভেসে গেছে। বেশ কিছু হাঁস মুরগী ও ছাগল-ভেড়াও ভেসে গেছে পানির প্রবল তোড়ে। গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক। দুর্গত এলাকার বেশীরভাগ মানুষ উঁচু ভিটা, স্কুল, বাঁধে আশ্রয় নিলেও অনেকেই নিজের বাড়িতে মাচা করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এদের অনেককে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ত্রাণের অভাবে দুর্গত এলাকায় হাহাকার পড়ে গেছে। পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে বন্যার্তদের অনেকের ভাগ্যে এখন পর্যন্ত সরকারের ত্রাণ পৌছেনি।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্রে ৮ সেন্টিমিটার, দুধকুমোরে ৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। অবশ্য ধরলায় ৫ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। তবে এখনও বিপদ সীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। ৬৩ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালেব ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, নাগেশ্বরীর বেরুবাড়ী ইউনিয়নের নুর ইসলাম এবং সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব গ্রামের হাবিবুল্যাহ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ‘বাপুরে আমাগো এলাকায় এতটুকু খালি জমিন নাই। সউগ তলায়া গেছে। খুউব কষ্টে আছি। আমাগো বাজার-খরচাদি বন্ধ হয়া গেছে। উনুন জ্বালাইতে পারতাছি না। পোলাপান লইয়া একপ্রকার অনাহারে রইছি।’ এরকম বেহাল দশা গোটা জেলায়।
নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী, বামনডাঙ্গা, কচাকাটা, নারায়ণপুর, রায়গঞ্জ, কেদার, কচাকাটার ইউনিয়নে ৯০ ভাগ এলাকা পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এতে ৭০ গ্রামের মানুষ পানিবিন্দ অবস্থায় রয়েছে।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি, তিলাই, চর ভুরুঙ্গামারী, ভুরুঙ্গামারী, পাইকের ছড়া, বঙ্গ সোনাহাট, বলদিয়া, আন্ধারীর ঝাড়, জয়মনিরহাট ও পাথরডুবি ইউনিয়নের ৬০ গ্রাম পানিবিন্দ হয়ে পড়েছে।
রাজারহাট উপজেলার ঘরিয়ালডাঙ্গা, বিদ্যানন্দ, নাজিম খান, উমরমজিদ, রাজারহাট, চাকিরপশার ও ছিনাই ইউনিয়নের চর ও মেইনল্যন্ডের ৪৫ গ্রাম পানিবিন্দ হয়ে পড়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা, ভোগডাঙ্গা, পাঁচগাছি, মোগলবাসা, যাত্রাপুর, ঘোগাদহ ও কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ৯০ গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে হলোখানা, যাত্রাপুর ও পাঁচগাছির অবস্থা ভয়াবহ।
উলিপুরের বুড়াবুড়ি, বেগমগঞ্জ, হাতিয়া, সাহেবের আলগা, বজরা, থেতরাই ও গুনাইগাছের অবস্থা ভয়াবহ। এখানে শতাধিক গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও চিলমারীর রানীগঞ্জ, রমনা, থানাহাট, চিলমারী সদর, নয়ারহাট ও অস্টমীর চর। রৌমারীর রৌমারী সদর, বন্দবেড়, শৌলমারী, দাঁতভাঙা ও যাদুর চর এবং রাজিবপুরের চর রাজিবপুর, মোহনগঞ্জ ও কোদালকাটি ইউনিয়নে ২ শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শওকত আলী সরকার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, উপজেলার প্রায় ৫৮ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত গত ১৮দিন ধরে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে এসব ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, কুড়িগ্রামের বড় বড় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যা কবলিতদের জন্য ২৫৯ মেট্রিক টন চাল ও ৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিতরণের কাজ চলছে। নতুন করে ১০ লাখ টাকা ও ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চেয়ে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।

তুনতুন হাসানশেষের পাতা
কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। শনিবার সকালে ধরলা নদীর পানি ফেরিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলার ৯টি উপজেলার ৬৩টি ইউনিয়নের চার শতাধিক...