1440961160
কুশিয়ারা নদীর বাঁধ (ডাইক) ভেঙে সিলেটের ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ, হবিগঞ্জ সদরের একাংশ ও নবীগঞ্জ, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ফরিদপুরের পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁয় পানি না বাড়লেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। পিরোজপুরের কাউখালীর কচা ও সন্ধ্যা, গাবখান এবং কালিগঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুশিয়ারা নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ (ডাইক) ভেঙে সিলেটের ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ ও হবিগঞ্জের সদরের একাংশ ও নবীগঞ্জের শত শত পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রোপা আমনের অধিকাংশ জমি। কুশিয়ারা ডাইকের বালাগঞ্জ ও বেতরিমুখ স্লুইস গেট দিয়ে পানি ঢুকছে এলাকায়। তাছাড়া পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের ফাজিলপুর ও ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউনিয়নের লামাতাজপুরেও ডাইক ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে লোকালয়ে। হাওরগুলিতে বন্যার পানি থৈ থৈ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডসূত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৯-১০ এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে কুশিয়ারা নদী এলাকার গ্রামগুলোকে বন্যার কবল থেকে বাঁচানোর জন্য ওসমানীনগরের দক্ষিণ কালনীচর থেকে বালাগঞ্জের পূর্ব গৌরীপুর পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার এলাকায় নির্মিত হয় কুশিয়ারা ডাইক। পরবর্তী সময়ে ওসমানীনগর এলাকায় ডাইকের একাধিক স্থান ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একাধিক স্থান ওয়াটার লেভেলের নিচে থাকলেও তা সংস্কার করা হয়নি।

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অরবিন্দ কর্মকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার কথা জানিয়ে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেছেন, ইতিমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ১ম ও ২য় শ্রেণির শিশুদের ক্লাস নেয়া স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পেলে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নেয়া স্থগিত ঘোষণা করা হবে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি অত্যন্ত ধীরগতিতে কমছে। তবে একইসঙ্গে যমুনায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। গত তিনদিনে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে গোবিন্দপুর গ্রামের ৪শ’ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, কুড়িগ্রামে সবকটি নদ-নদীর পানি হ্রাস পেলেও নিম্নাঞ্চল থেকে এখনো পানি নামেনি। জেলার ৯ উপজেলার ৫৫টি ইউনিয়নে ৫৩ হাজার হেক্টর জমির আমন ক্ষেত দীর্ঘ সময় পানিতে তলিয়ে থাকায় অধিকাংশই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবল ভাঙনে রাজিবপুর উপজেলার নয়ারহাট, মোহনগঞ্জ, চিলমারী উপজেলার রমনাঘাট ও বাসন্তি গ্রামে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, মনপুরার মেঘনায় পূর্ণিমার জোয়ারে বেড়ি বাঁধের বাইরের ঘরবাড়িসহ বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল তলিয়ে গেছে।

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, মেঘনার জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে কমলনগরের বিস্তীর্ণ জনপদ, ভেসে গেছে মাছের ঘের ও পুকুর। ডুবে আছে বিজতলা, রোপা আমন, রাস্তাঘাট, স্কুল ও মাদ্রাসা।

সদরপুর (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁয় বন্যার পানি নতুন করে বাড়েনি। তবে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁয় ভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলার অনেক ঘরবাড়ি, গাছপালা ও দুই শতাধিক একর ফসলের মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, শিবসা, ঢাকী, চুনকুড়ি, পশুর, ঝবঝপিয়া ও মাঙ্গা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তিনটি পৃথক দ্বীপ নিয়ে দাকোপ উপজেলা গঠিত। এখানে সারা বছর ধরে চলে ভয়াবহ নদী ভাঙন। প্রতিনিয়ত এখানকার বাসিন্দারা ভাঙনের কবলে পড়ে তাদের সহায়-সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।

কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে পিরোজপুরের কাউখালীর কচা ও সন্ধ্যা, গাবখান এবং কালিগঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামের মধ্যে রয়েছে উজিয়ালখান, আমরাজুড়ি, আশোয়া, জব্দকাঠী, কুমিয়ান, সোনাকুর, রঘুনাথপুর, ধাবরী, মেঘপাল, বেকুটিয়া, সুবিদপুর, নিলতী, পাঙ্গাসিয়া, জোলাগাতী, শিয়ালকাঠী, চিরাপাড়া, বিড়ালজুরি, আসপদ্দি, জয়কুল, বৌলকান্দা, বাশুরী ইত্যাদি। জানা যায়, জোয়ারের ফলে বেকুটিয়া ও আমরাজুরি গ্যাংওয়ে তলিয়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

নৃপেন পোদ্দারজাতীয়
কুশিয়ারা নদীর বাঁধ (ডাইক) ভেঙে সিলেটের ওসমানীনগর-বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ, হবিগঞ্জ সদরের একাংশ ও নবীগঞ্জ, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ফরিদপুরের পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁয় পানি না বাড়লেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। পিরোজপুরের কাউখালীর কচা ও সন্ধ্যা, গাবখান এবং কালিগঙ্গা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা...