JANATA
কুমিল্লায় ট্রাকের ধাক্কায় ডিবি পুলিশের আসামি বহন করা মাইক্রোবাসে আগুন ধরে নিহত হয়েছে ২ জন। তারা হচ্ছেন- কনস্টেবল আবদুল আজিজ ও আসামি শওকত। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন পুলিশের ৪ সদস্যসহ ৮ জন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সুজাতপুর এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ডিবি পুলিশের এসি মো. মাহমুদ নাসের জনির নেতৃত্বে ১১ সদস্যের টিম চট্টগ্রাম থেকে আসামি নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে সুজাতপুর এলাকায় পৌঁছলে মাইক্রোবাসটিকে স্টিলের পাতভর্তি একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে আগুন লেগে মাইক্রোবাস ও ট্রাকটি পুড়ে যায়। এ সময় ওই মাইক্রো বাসে থাকা পুলিশ কনস্টেবল আবদুল আজিজ আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শওকত। এ ছাড়া পুলিশের এসআই আবদুল মালেক, কনস্টেবল আনোয়ার, মাইক্রোর চালক কনস্টেবল নুরুল হাসান ও কনস্টেবল শরিফুল এবং আসামি শুকুর আহমেদ, নাজিম উদ্দিন, বশির ও সাদ্দাম হোসেন গুরুতর দগ্ধ হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল, পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন, হাইওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হতাহতদের দেখতে যান। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দগ্ধদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মো. ফরহাদ ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে জানান, দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাস থেকে পুড়ে যাওয়া কিছু টাকা, ইয়াবা, ১টি শর্টগান ও ১টি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো ডিবি পুলিশের ওই টিমের জব্দ করা মালামাল বিধায় তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
গতকাল ভোরে দগ্ধদের ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মারা যান শওকত আলী। তিনি গ্রেপ্তারকৃত একজন আসামি ছিলেন। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে জানান, চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২২ হাজার ইয়াবাসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। ওই আসামিদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন ডিবি পুলিশের একটি টিম। ওই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন ডিবি পশ্চিম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদ নাসের জনি। গাড়িটি চৌদ্দগ্রামের চিওড়া মহাসড়কে পৌঁছলে এই ঘটনা ঘটে। এতে গাড়ির ভেতরে পুড়ে মারা যান কনস্টেবল আবদুল আজিজ।
গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে চিকিৎসা করা হচ্ছে দগ্ধ পুলিশ ও আসামিদের। তাদের প্রত্যেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। বার্ন ইউনিটের পঞ্চম তলায় ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তাদের। তারা কেউই ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না। দগ্ধ নাজিম উদ্দিন ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে জানান, একটি বিকট শব্দ হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো গাড়ি। তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আগুন লেগে যায় শরীরে। তখন মাগো, মাগো বলে চিৎকার করেছি। মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েছি। পরে আশপাশের লোকজন এসে সহযোগিতা করেছে বলে জানান তিনি।
বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল ক্রাইম রিপোটৃার ২৪.কমকে জানান, পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার শরীরের ৩৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অন্যদের অবস্থাও শঙ্কামুক্ত নয়। তাদের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে বলে জানান তিনি। অন্যদের মধ্যে কনস্টেবল শরিফুল ইসলামের চার শতাংশ, আনোয়ার হোসেনের পাঁচ শতাংশ, নুরুল ইসলামের আট শতাংশ পুড়ে গেছে। আসামিদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেনের ১৮ শতাংশ, নাজিম উদ্দিনের ৩৩ শতাংশ, আবদুস শুকুরের ২৮ শতাংশ ও বশির উদ্দিনের ২৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
এদিকে, গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দগ্ধদের দেখতে যান পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোখলেছুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে এ সময় অতিরিক্ত আইজি মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলে মনে করছে পুলিশ। তবে এর পেছনে কোন নাশকতা আছে কিনা তা আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

হীরা পান্নাশেষের পাতা
কুমিল্লায় ট্রাকের ধাক্কায় ডিবি পুলিশের আসামি বহন করা মাইক্রোবাসে আগুন ধরে নিহত হয়েছে ২ জন। তারা হচ্ছেন- কনস্টেবল আবদুল আজিজ ও আসামি শওকত। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন পুলিশের ৪ সদস্যসহ ৮ জন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার...