তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক।
কালো রঙের সঙ্গে সবার পরিচয় আছে। কিন্তু আমরা যে কালো রঙ চিনি সেটি শতভাগ কালো নয়। তাই এই রঙের জিনিস আলাদা করে দেখা এবং ছোঁয়া যায়। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
কিন্তু একদল ব্রিটিশ বিজ্ঞানী এমন এক কালো রঙ উদ্ভাবন করেছেন যা প্রায় শতভাগ কালো। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভ্যানটাব্ল্র্যাক’। এই ভ্যানটাব্ল্র্যাক রঙ দিয়ে নির্মিত জিনিস এতটাই কালো যে তার উপস্থিতিই বোঝা ভীষণ কঠিন। মানুষের খালি চোখে মনে হবে ওই স্থানটা অন্ধকার, সেখানে কিচ্ছু নেই। ঘরের একটি দেয়াল যদি ভ্যানটাব্ল্র্যাক দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় তবে মানুষ ওই পাশটাকে ফাঁকা এবং অন্ধকার মনে করে সেদিক দিয়ে বের হবার চেষ্টা করবে আর ধাক্কা খাবে।

গবেষকরা বলেছেন, কালো আসলে কোনো রঙ নয়। এটি আলোর অনুপস্থিতি। একটি বস্তু যত বেশি আলো শোষণ করতে পারে সেটি তত বেশি কালো দেখায়। আমরা যেসব কালো বস্তু দেখি তা থেকে বেশ খানিকটা আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে ফিরে আসে। ফলে এগুলো পুরোপুরি কালো দেখায় না। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ‘ভ্যানটাব্ল্র্যাক’ ৯৯ দশমিক ৯৬ ভাগ আলো শোষণ করে নিতে পারে। আলোর যে সামান্য অংশ চোখে ফিরে আসে তা আলাদা করা মানুষের মস্তিষ্কের পক্ষে কঠিন। একারণে ‘ভ্যানটাব্ল্র্যাক’ পুরোপুরি ফাঁকা স্থান বলে মনে হয়। একটি ত্রিমাত্রিক বস্তু (থ্রিডি) যদি ‘ভ্যানটাব্ল্র্যাক’ দিয়ে রঞ্জিত করা হয় তবে সেটি ফ্ল্যাট বা দ্বিমাত্রিক হিসেবে চোখে ধরা পড়বে।

কিভাবে এই ‘ভ্যানটাব্ল্র্যাক’ তৈরি করা সম্ভব হলো। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এটি তৈরি করতে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে এক বিলিয়ন কার্বন ন্যানোটিউব ব্যবহার করা হয়েছে। এর উপর আলো পড়তেই তা শোষিত হয়ে তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যেতে পারে না। ৪৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফেলে ন্যানোটিউবগুলো তৈরী করা হয়। ব্রিটিশ গবেষক জেনসেন বলেছেন, ‘ভ্যানটাব্ল্র্যাক’ উদ্ভাবনের পর তারা বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে এই রঙটি সাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি আসছে। কেউ বলছেন, তারা এই রঙের পোশাক বানাতে চান যাতে তাকে অন্ধকারের মতো লাগে। আবার কেউ বলছেন তার ঘরের দেয়ালে এই রঙ দিতে চান। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, বাজারের তরল রঙের মতো এটি বাজারজাত করা কঠিন। কারণ এটি ল্যাবরেটরিতে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করতে হয়। সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমসিটি তাদের একটি ঘড়ির মডেলে ‘ভ্যানটাব্ল্র্যাক’ ব্যবহার করেছেন। ফলে মনে হচ্ছে এর কাঁটাগুলো কালো গর্তের উপর ভেসে রয়েছে! তারা বলছেন, হয়তো অদূর ভবিষ্যতে ‘ভ্যানটাব্ল্র্যাক’ সবার নাগালে চলে আসবে।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/12/1028.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/12/1028-300x214.jpgশিশির সমরাটবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদক। কালো রঙের সঙ্গে সবার পরিচয় আছে। কিন্তু আমরা যে কালো রঙ চিনি সেটি শতভাগ কালো নয়। তাই এই রঙের জিনিস আলাদা করে দেখা এবং ছোঁয়া যায়। খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। কিন্তু একদল ব্রিটিশ বিজ্ঞানী এমন এক কালো রঙ উদ্ভাবন করেছেন যা প্রায়...