93477_f2
টাঙ্গাইলে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারে চলছে কান্না, শোকের মাতম। কোন কিছুই তাদের আহাজারি থামাতে পারছে না। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে কালিয়া গ্রামের শামীম, কুষ্টিয়া গ্রামের ফারুক ও সালেঙ্কা গ্রামের শ্যামল দাসের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শামীমের মা আমেনা খাতুন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, জুমার নামাজ পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় শামীম। আর ফিরে আসেনি। ঈদের পর শামীমের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আমার ছেলে তো মিটিং-মিছিলে যায়নি। তবে কেন তাকে পুলিশ গুলি করল? আমি বিচার চাই। স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ শামীমের স্ত্রী বীথি। দুই সন্তান বাদল (৮) ও মীমকে (২) নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি। দোষীদের শাস্তি দাবি করে প্রতিবেশীরা বলছে, শামীম সবসময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়া গ্রামে ফারুকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী ছেলে আসিফকে (৮) নিয়ে কান্নাকাটি করছেন স্ত্রী আসিয়া বেগম। পাশেই বসে আছে তাদের মেয়ে ফাতেমা (৩)। প্রতিবেশীরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়েই ভ্যানচালক ফারুকই সংসার চালাতেন। একই অবস্থা নিহত শ্যামল দাসের (১৫) সালেঙ্কা গ্রামের বাড়িতেও। একটি সেলুনে কাজ করত সে। তিন ভাইয়ের মধ্যে শ্যামল ছিল সবার বড়। সন্তান হারিয়ে কাঠমিস্ত্রি বাবা রবি দাস পাগলপ্রায়, মা ভারতী রানী বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।
টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতীতে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হওয়ার পর সেখানকার ৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, এর মধ্যে তিনজন সাব-ইন্সপেক্টর এবং চারজন কনস্টেবল রয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ঘাটাইল এলাকায় এক মহিলা ও তার ছেলের ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর এক ঘটনার বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজনের বিক্ষোভের সময় পুলিশ গুলি করলে তিনজন নিহত হয়। স্থানীয় লোকজনের ব্যাপক বিক্ষোভ প্রতিবাদের পর গতকাল কালিহাতীতে বাসস্ট্যান্ড ও বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ফলে এদিন এলাকাবাসীকে প্রতিবাদ বিক্ষোভে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি। তবে স্থানীয় লোকজনের মাঝে চাপা আতঙ্ক রয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার। জেলার ঘাটাইল এলাকার বাসিন্দা আল-আমীন এবং তার মা-কে কালিহাতীতে ডেকে এনে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অষ্টম শ্রেণী পাস করা ১৬-১৭ বছরের কিশোর আল আমিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, কালিহাতী উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রোমার স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আলোচনার জন্য রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গেলে তাদের নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়। আল আমীন বলেন, সেসময় তার মাকে তারই সামনে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় এবং তাকে বিবস্ত্র করা হয়। একইসঙ্গে মা ও ছেলের মাঝে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার চেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আল আমীন। বলেন, ‘মায়ের সামনে আমাকে উলঙ্গ করে। মারধর করে। আমার মাকেও মারধর করে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। আমার যৌনাঙ্গ তারা আমার মায়ের মুখে ঢোকাতে বাধ্য করে।’
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মাঝে। তাদের অভিযোগ- এখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ধর্ষণের মামলা নেয়নি। ঘটনার পর থেকেই বিক্ষোভ প্রতিবাদ চলতে থাকলেও গতকাল তা প্রকট আকার ধারণ করে এবং বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় ওই দিনই রফিকুল ইসলাম রোমা, তার বোনের জামাই হাফেজুর রহমানমহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন আল আমীনের মা। সেদিনই অভিযুক্ত একজনকে আটক করে পুলিশ। এখন গুলি ছোড়ার ঘটনায় পুলিশের কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিকে নিহত ৩ জনের ময়নাতদন্ত শনিবার টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনজনই বুলেটবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। কালিহাতী থানার ওসি শহীদুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সকাল থেকেই বাসস্ট্যান্ড ও হামিদপুর বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনার পর এখন সেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সুরুজ বাঙালীশেষের পাতা
টাঙ্গাইলে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারে চলছে কান্না, শোকের মাতম। কোন কিছুই তাদের আহাজারি থামাতে পারছে না। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে কালিয়া গ্রামের শামীম, কুষ্টিয়া গ্রামের ফারুক ও সালেঙ্কা গ্রামের শ্যামল দাসের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শামীমের মা আমেনা খাতুন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, জুমার...