4f3a20ff6f68e04d15fc40d77c11730a-23
র‌্যাব ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর ১৩ বছর ধরে কারাবন্দী। গতকাল মঙ্গলবার একটি মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য আলমগীরকে কারাগার থেকে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। গতকাল একই ভবনের চতুর্থ তলায় জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল অপর একটি মামলায় তাঁকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। নথিপত্র অনুযায়ী, এই মামলায় আলমগীর পলাতক।
জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি জাহাঙ্গীর আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বায়েিজদ বোস্তামী থানায় জননিরাপত্তা আইনে করা একটি মামলায় আসামি সাজ্জাদ খান ও আলমগীরকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজ্জাদ ও আলমগীর পলাতক। তাঁদের পলাতক দেখিয়ে পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে।
আলমগীর ১৩ বছর ধরে কারাগারে আছেন—এই তথ্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারি কৌঁসুলি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিষয়টি জানা নেই। পুলিশের পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপক্ষকে জানানো হয়নি। কারাগারে আটক থাকার বিষয়টি জানা থাকলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করতাম।’
জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আসামি আলমগীর পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে থানায় সাজা পরোয়ানা পাঠানো হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, অন্য মামলায় ১৩ বছর ধরে কারাগারে থাকলেও আসামি আলমগীরকে এ মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর জন্য পুলিশ দায়ী। এখানে আদালতের কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, পুলিশ রাষ্ট্রপক্ষকে গ্রেপ্তারের সংবাদ দেবে। পরে রাষ্ট্রপক্ষ কিংবা পুলিশ গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করবে।
ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, কাস্টডি ওয়ারেন্টে সাজা হওয়া মামলার তথ্য না থাকায় অন্য মামলায় জামিন কিংবা খালাস পেলে আসামি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
মামলার নথিতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের আট নেতা হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ খান চট্টগ্রাম নগরের বায়েজীদ বোস্তামীর চালিতাতলী এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন খবরের ভিত্তিতে ২০০১ সালের ২ অক্টোবর নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে। ওই ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও জনমনে ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে সাজ্জাদ, দেলোয়ার হোসেন ও আলমগীরকে আসামি করে দুটি মামলা করে পুলিশ। সাজ্জাদ আলী খান ও আলমগীরকে অভিযুক্ত করে ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ওই দুই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০০২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
গতকাল জনমনে ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে করা মামলার রায় দেন জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হোসনে আরা।
চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবিদ হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, বায়েজীদ বোস্তামী থানায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা একটি মামলায় হাজিরা দিতে গতকাল কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়েছে আসামি আলমগীরকে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর কবির ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বায়েজীদ বোস্তামী থানায় জননিরাপত্তা আইনে করা মামলার তথ্য আলমগীরের হাজতি পরোয়ানায় নেই। তিনি জানান, ১৩ বছর ধরে কারাগারে আছেন আলমগীর।
২০০৮ সালে পুলিশ যখন অভিযোগপত্র দাখিল করে, তখন কারাগারে ছিলেন আলমগীর। কিন্তু তারপরও কেন তাঁকে পলাতক দেখানো হয়েছে—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই), বর্তমানে নগর পুলিশের অভিবাসন শাখার পরিদর্শক এনায়েত কবীর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে আসামির অবস্থান জানতে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে প্রতিবেদন নিয়েছি। সে অনুযায়ী আসামিকে পলাতক দেখানো হয়েছে।’
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ১০ বছর কারাদণ্ড পাওয়া আলমগীরের সাজা পরোয়ানা কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারাগারে থাকলেও এত দিন কেন আলমগীরকে পলাতক দেখানো হয়েছে—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, এ জন্য কারা দায়ী সেটা খতিয়ে দেখা হবে।

নৃপেন পোদ্দারআইন-আদালত
র‌্যাব ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর ১৩ বছর ধরে কারাবন্দী। গতকাল মঙ্গলবার একটি মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য আলমগীরকে কারাগার থেকে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। গতকাল একই ভবনের চতুর্থ তলায় জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল অপর একটি...