নিজস্ব প্রতিবেদক ।
রাজধানীর কাকরাইলে চলচ্চিত্র প্রযোজক ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী শেখ মো. আব্দুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম শাওনকে হত্যায় নেতৃত্ব দিয়েছে তৃতীয় স্ত্রী শারমিন আক্তার মুক্তার ভাই আল আমিন জনি।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
৫ মাস আগে রাঙামাটির একটি বাগান বাড়িতে আব্দুল করিম ও তৃতীয় স্ত্রী মুক্তা পরিকল্পনা করেন শামসুন্নাহারকে হত্যা করার। মুক্তার বেকার ছোট ভাই জনিকে দিয়ে হত্যা করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। স্বপ্রণোদিত হয়ে জনি এ হত্যা করে- সেজন্য পরিস্থিতি তৈরি করতে থাকেন মুক্তা। কাকরাইলের দুইটি ছয় তলা বাড়ি ও পলওয়েল মার্কেটের তিনটি দোকান প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের নামে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিয়ের কারণে করিম তার প্রথম স্ত্রীর নামে লিখে দেয়া সম্পদ ভোগ করতে পারেন না। এ কারণে শামসুন্নাহারকে সরিয়ে ফেলতে পারলে করিম আবারও তার সম্পদ তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ভোগ করতে পারবেন। হত্যার ঘটনার পর করিম ও মুক্তাকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। এরই সূত্র ধরে শনিবার সকালে গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর থানার মালাদিয়া গ্রাম থেকে মুক্তার ছোট ভাই জনিকে র‌্যাব গ্রেফতার করে।

আল আমিন ওরফে জনি বলেন, তার বোন মুক্তাকে চার বছর আগে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী শেখ মো. আবদুল করিম বিয়ে করেন। বিয়ের পর নয়াপল্টনের ৩৬/এ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকতে দেন করিম। ওই ফ্ল্যাটে তাদের মা ও তার ৭ বছরের মেয়ে থাকতো। বছর দুয়েক পর করিমের প্রথম স্ত্রী তার বোনকে বিয়ে করার ঘটনা জানতে পারেন। এরপর থেকে পারিবারিক কোন্দল শুরু হয়। আব্দুল করিমের সমুদয় সম্পত্তি প্রথম স্ত্রী শামসুন্নহারের নামে ছিল। এসব নিয়ে তার বোনের সাথে করিমের প্রথম স্ত্রীর বিরোধ শুরু হয়। এ নিয়ে তার বোন একবার কাকরাইলের ৭৯/১ নম্বর বাড়িতে গিয়ে শাসসুন্নাহারকে শাসিয়ে আসেন। করিমের সাথেও এসব নিয়ে শামসুন্নাহারের বিরোধ তৈরি হয়। বিরোধ এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে প্রথম স্ত্রীর চাপে তার বোনকে ৩ থেকে ৪ মাস আগে তালাক দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এসব ঘটনায় তার বোন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে যাত্রায় সে তার বোনকে উদ্ধার করে। পরে তার বোনের সংসার টিকানোর জন্য শামসুন্নহারারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

যে ভাবে হত্যাকাণ্ড :
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সে নিউমার্কেট এলাকা থেকে ১১ শ টাকায় একটি ধারালো ছুরি কিনে। বুধবার সন্ধ্যায় একটি ব্যাগে ছুরি, লুঙ্গি ও গেঞ্জি নিয়ে বাসা হতে বের হয়। পরে সে শামসুন্নহারের ফ্ল্যাটে যায়। সন্ধ্যায় গিয়ে সে কলিং বেলে চাপ দেয়। গৃহকর্মী রাশিদা দরজা খুলে দিলে সে ঘরে প্রবেশ করে। ওই সময় শামসুন্নাহার তার বেড রুমে ছিলেন। তাকে দরজা খুলে দিয়ে গৃহকর্মী রান্না ঘরে প্রবেশ করেন। এসময় সঙ্গে সঙ্গে সে রান্না ঘরের দরজা বাইরে থেকে লক করে দেয়। এরপর সে বেডরুমে শামসুন্নাহারকে এলোপাথারি কোপাতে থাকে। ওই সময় শাওন এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শাওনকেও কোপাতে থাকে। এসময় শাওনের সঙ্গে ছুরি নিয়ে ধস্তাধস্তির সময় ছুরির আঘাতে তার আঙ্গুল কেটে যায়। এক পর্যায়ে শামসুন্নাহারের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও পাশে শাওনকে দেখতে না পেয়ে সে বাইরে আসে। বাইরে এসে ৪র্থ তলায় সিড়ির করিডরে শাওনকে দেখে সে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এক পর্যায়ে সিঁড়িতে পড়ে যায়। শাওন সিঁড়িতে পড়ে গেলে সে আবার ৫ম তলায় গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে লুঙ্গ ও গেঞ্জি পড়ে। পরে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপতালে গিয়ে মাসুদ নাম ব্যবহার করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়।

শনিবার বিকালে কাওরানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। ব্রিফিংয়ে মুফতি মাহমুদ খান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, জনি তাদের ঘরে ঢুকে প্রথমে শাওনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বলে, ‘এখানে বসে থাকো। আমি তোমার মায়ের সঙ্গে কথা বলব।’ এরপর শামসুন্নাহারকে সে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে। শাওন মাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তার গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে জনি। শাওন দৌঁড়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে সে সিঁড়িতে পড়ে যায়। পরে বাসা থেকে বেরিয়ে নিচে নেমে জনি দারোয়ানকে বলে- ওপরে ঝামেলা হচ্ছে, আপনি যান। এই বলে সে ভবন থেকে বেরিয়ে আসে।

নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলীর বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় শেখ মো. আব্দুল করিম ও শারমিন আক্তার মুক্তা ছাড়াও ৩ নম্বর আসামি হিসাবে জনির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলায় করিম ও মুক্তাকে ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/65.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/65-300x300.jpgশিশির সমরাটএক্সক্লুসিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক । রাজধানীর কাকরাইলে চলচ্চিত্র প্রযোজক ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী শেখ মো. আব্দুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার ও ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম শাওনকে হত্যায় নেতৃত্ব দিয়েছে তৃতীয় স্ত্রী শারমিন আক্তার মুক্তার ভাই আল আমিন জনি।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। ৫ মাস আগে রাঙামাটির একটি বাগান বাড়িতে আব্দুল করিম ও তৃতীয়...