pic-05_260067
করদাতার সন্ধানে বাড়ি বাড়ি হাজির হবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা। আগামী মাসের (সেপ্টেম্বর) প্রথম সপ্তাহ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের অভিজাত এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হবে। পর্যায়ক্রমে যা দেশের অন্যান্য এলাকায়ও চালানো হবে। তবে প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর বারিধারা, বসুন্ধরা, সেগুনবাগিচা, বনানী, গুলশান, নিকেতন, মিরপুর, ধানমণ্ডি, নিকুঞ্জ, উত্তরা, পান্থপথ, মগবাজার, পুরান ঢাকা, কাকরাইলসহ আরো কিছু এলাকায় এনবিআর কর্মকর্তারা অভিযানে নামবেন। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এনবিআরের এ অভিযানে কর প্রদানে সক্ষম করদাতা ইটিআইএন গ্রহণ করেছে কি না, তা যাচাই করা হবে। করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছে কি না, রিটার্নে দেওয়া তথ্যও খতিয়ে দেখা হবে। এনবিআরের মূল দপ্তর থেকে বিভিন্ন কর অঞ্চলে পাঠানো নির্দেশে বলা হয়েছে, কোনো এলাকায় অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযান পরিচালনাকালে কোনো করদাতার বাসা বা বাড়িতে একই সঙ্গে দুজনের বেশি এনবিআর কর্মকর্তা উপস্থিত হতে পারবেন না। বিশেষ প্রয়োজন না হলে করদাতার বাসা বা বাড়ির মধ্যে তাঁরা প্রবেশ করতে পারবেন না। বাসাবাড়ির প্রধান প্রবেশ দরজায় উপস্থিত থেকে রাজস্বসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা হবে। করদাতাকে কোনো হয়রানি করা যাবে না। অভিযান পরিচালনার কাজে নিয়োজিত এনবিআর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো করদাতা হয়রানির অভিযোগ আনলে তা সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ করতে হবে। তদন্তে করদাতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই এনবিআর কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। অন্যদিকে কোনো করদাতা অভিযান পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করলে অভিযান পরিচালনায় নিয়োজিত এনবিআর কর্মকর্তা প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা নিতে পারবেন। কর প্রদানে সক্ষম করদাতার ইটিআইএন না থাকলে অভিযান পরিচালনাকালে ওই করদাতাকে তাৎক্ষণিক টিআইএন প্রদান করা হবে। কর প্রদানে সক্ষম হয়েও ইটিআইএন গ্রহণ না করায় সংশ্লিষ্ট করদাতার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করতে পারবেন অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা।

বাড়ি বাড়ি হাজির হয়ে করদাতার জীবনযাত্রার মান সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তাঁর আয়কর রিটার্নে দেওয়া তথ্য যাচাই করা হবে। করদাতা বাড়িভাড়া থেকে কত পাচ্ছেন বা ভাড়াটিয়া হলে প্রতি মাসে কত টাকার ভাড়া পরিশোধ করছেন, তা সরেজমিনে যাচাই করে দেখা হবে। আয়ের ওপর ভিত্তি করে হিসাবমতো রাজস্ব পরিশোধ করছেন কি না, তা দেখে কোনো অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে ওই করদাতার আয়কর রিটার্ন, রাজস্বসংক্রান্ত কাগজপত্র, ব্যাংক হিসাব সম্পর্কিত কাগজপত্র জব্দ করে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলে নিয়ে যাবেন অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা। পরবর্তী সময় আরো বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে করদাতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত জুলাই মাসে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের মূল দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠককালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত করদাতাদের সংখ্যা বাড়াতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, এ দেশে নিয়মিত করদাতার সংখ্যা ১১ লাখ। অথচ ১৬ কোটি মানুষের দেশে করদাতার সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়া উচিত। চলতি অর্থবছরে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিরা ইটিআইএন গ্রহণ করেছে কি না, নিয়মিত আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছে কি না বা আয়কর রিটার্নে সত্য তথ্য দিচ্ছে কি না তা যাচাইয়ে এ নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রীর এ নির্দেশ সামনে রেখে এনবিআর করদাতাদের বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহারে করদাতাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে এনবিআর কর্মকর্তারা বাড়ির দরজায় হাজির হবেন। এনবিআরের এ অভিযানের ফলে অতি দ্রুত করদাতার সংখ্যা বাড়বে। কারণ অনেক রাজস্ব ফাঁকিবাজ ব্যক্তি বুঝতে পারবে ইটিআইএন গ্রহণ না করে বা আয়কর রিটার্ন জমা না দিয়ে বা আয়কর রিটার্নে সত্য তথ্য না দিয়ে উপায় নেই।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, এনবিআরের এ উদ্যোগটি অত্যন্ত ভালো। তবে লোকবলের স্বল্পতায় উদ্যোগটি কত দূর সফল হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এনবিআরের এ অভিযান শুরু হলে অনেকে আগেভাগে ইটিআইএন গ্রহণ করবে। কারণ অনেক শান্তিপ্রিয় করদাতা এনবিআর কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে চাইবেন না।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তির অবশ্যই কর প্রদান করতে হবে। ইটিআইএন গ্রহণ করতে হবে। এনবিআর জনগণের পাশে থেকে কাজ করতে চায়। কোনো রকম হয়রানি না করে করদাতার সংখ্যা বাড়াতে এনবিআর বিভিন্ন কৌশলে কাজ করে চলেছে। সরকারের আয় না বাড়লে জনগণের সেবা প্রদান সম্ভব হবে না। দেশ পরনির্ভরশীল থেকে যাবে। বাজেট প্রদানে বিদেশি সাহায্যের আশায় বসে থাকতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে করদাতার সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত হওয়া অসম্ভব নয়।

সুরুজ বাঙালীজাতীয়
করদাতার সন্ধানে বাড়ি বাড়ি হাজির হবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা। আগামী মাসের (সেপ্টেম্বর) প্রথম সপ্তাহ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরের অভিজাত এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হবে। পর্যায়ক্রমে যা দেশের অন্যান্য এলাকায়ও চালানো হবে। তবে প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর বারিধারা, বসুন্ধরা, সেগুনবাগিচা, বনানী, গুলশান, নিকেতন, মিরপুর, ধানমণ্ডি,...