1440783734
উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলায় বন্যার পানি নামতে শুরু করছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে ভাঙনের তাণ্ডব। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনা নদী ছয় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মেঘনা ও রাজশাহীর বাঘায় পদ্মায় ভাঙন শুরু হয়েছে।

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুছ আলী মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষিণে ভেকা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যমুনায় শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। গত ৩ বছর যাবত্ ভাঙনে ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীনের পর নতুন করে গত মাসখানেকের মধ্যে ভেঙে গেছে ৩ শতাধিক ঘরবাড়ি এবং হাজার হাজার একর আবাদি জমি।

বর্তমানে এনায়েতপুরের ব্রা?হ্মণগ্রাম, আড়কান্দি, জালালপুর, বাঐখোলা, পাকড়তলা, উতুলী, ভেকায় নদীর পশ্চিমপাড় তীর জুড়ে কেবলই ভাঙনের তাণ্ডবলীলা। নদীতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি। কার্যকরী কোন ব্যবস্থা না থাকায় আশাহত মানুষ হারাচ্ছে তাদের চিরচেনা আবাসস্থল। ঘরবাড়ি হারানোদের আশ্রয় জুটেছে অন্যের বাড়ি বা খোলা স্থানে। নিরুপায় এলাকাবাসী সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করে নদী তীরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, আমি অসুস্থ থাকায় ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারিনি। তবে খোঁজ রাখছি। ভাঙনের হাত থেকে এলাকাকে রক্ষায় পাউবোকে জরুরি ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদীর বাঁধে ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে উলানিয়া বাজারসহ করনেশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বালিকা বিদ্যালয়, উলানিয়া জমিদার বাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আতঙ্কে বসবাস করছেন মেঘনা তীরের মানুষ। মেঘনা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উলানিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাটের কাছে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে দ্রুত নদী উলানিয়া বাজারের দিকে এগিয়ে আসছে। এছাড়া মেঘনার তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, পদ্মার পানি বাড়ার সাথে সাথে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের বারশতদিয়াড়, আতারপাড়া. হরিরামপুর ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর, কিশোরপুর, গোকুলপুর, জোতকাদিরপুর, দিয়াড়কাদিরপুরসহ ১৫টি গ্রামে। এই ভাঙনের কারণে গত ৪-৫ দিনে প্রায় ৬শ বিঘা জমিসহ গাছপালা হারিয়েছেন পাকুড়িয়া ইউনিয়নের লোকজন। অনেকে গাছপালা কেটে নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূলবাঁধও।

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত পাঁচ দিনে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উপজেলার শত শত পরিবার। আমন ও রোয়া ধান ডুবে যাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকে পরিবার পরিজন ও গরু ছাগল নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, যমুনা-ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ।

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া ও বাঙ্গালী নদীর পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। দুইটি নদীর পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৮৯৮৩ হেক্টর জমির রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসল।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার কিছু অংশে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও সর্বানন্দে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার সর্বানন্দ ও বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। টিউবঅয়েল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট।
হাতিয়া (কুড়িগ্রাম) থেকে জানান, কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসিদের। বন্যার পানি ধীরগতিতে নামতে থাকায় নদ-নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের চর ও দ্বীপ চরগুলোর বন্যাপ্লাবিত এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে। বাঁধ ও উঁচুস্থানে আশ্রয় নেয়া বানভাসি পরিবারগুলো খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

শুক্রবার সরেজমিনে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধু পানি আর পানি। বন্যার পানি ধীর গতিতে নামতে শুরু করলেও এখনো ঘরবাড়িগুলোতে কোথাও কোমর, আবার কোথাও হাঁটু পানি। বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোর জরুরি প্রয়োজনে চলাচলের একমাত্র বাহন হচ্ছে কলাগাছের ভেলা। ভেলায় করে নিজেদের পশুগুলোকে অন্যত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। ঘরবাড়িতে পানি থাকায় অনেক পরিবার এখনো আশ্রয় নিয়ে আছে উঁচু রাস্তা-বাঁধে অথবা উঁচু কোন স্কুল ঘরে। এসব এলাকায় ত্রাণ তত্পরতা নেই বললেই চলে। বন্যার্ত এলাকায় কোন নৌকা ভিড়লেই পানি ভেঙে ছুটে আসছে বানভাসি নারী-পুরুষ-শিশু।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১৭ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১২ সেন্টিমিটার এবং নুন খাওয়া পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নৃপেন পোদ্দারজাতীয়
উত্তরাঞ্চলের অনেক জেলায় বন্যার পানি নামতে শুরু করছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে ভাঙনের তাণ্ডব। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনা নদী ছয় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মেঘনা ও রাজশাহীর বাঘায় পদ্মায় ভাঙন শুরু হয়েছে। চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুছ আলী মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে...