1443945248
বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের দিনের শুরু হয় এক কাপ উষ্ণ কফির সঙ্গে। তার মনোমুগ্ধকর সুবাস, স্বাদ এবং স্বতন্ত্র গন্ধ ছাড়াও কফি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কফি আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো :

১. কফি পান হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর হার কমাতে পারে এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে অনেক গবেষণায়। ১৫ বছর ব্যাপী ৪১ হাজার নারীর অংশগ্রহণে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩ কাপ করে কফি পান হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। পুরুষদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ তথ্য পাওয়া গেছে। কফিতে ক্যাভনয়েড নামক শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।

২. চা বা চকলেটের চেয়ে কফিতে অধিক পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে। এ ক্যাফেইন রক্তের এলডিএল (ক্ষতিকারক কলেস্টেরল) কমাতে এবং এইচডিএল (উপকারী কলেস্টেরল) বৃদ্ধি করতে ভূমিকা রাখে। এ দুটির অস্বাভাবিক উপস্থিতি রক্তনালীকে সরু করে, যা এর দূরবর্তী অংশে রক্ত সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করবে। ফলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ হতে পারে। যারা এসবের ঝুঁকিতে আছেন, তাদের জন্য প্রতিদিন ৪ কাপ কালো কফি পান করতে পারেন।

৩. কফি নিয়মিত খাদ্যের বিপাকীয় ক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে এবং যাদের হজমজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য কফি উপকারী। বিশেষ করে যাদের দিনে কয়েকবার মল ত্যাগ করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে, তাদের ক্ষেত্রে কফি পান দ্রুত উন্নতি ঘটাতে পারে।

৪. বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সার আতঙ্কজনক হারে বিরাজ করছে। অঞ্চলভেদে বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করছে। অনেক ক্যান্সারের তেমন কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা আমাদের জানা নেই। এর মধ্যেও কিছুটা আশার আলো ছড়াতে পারে নিয়মিত কফি পান। নিয়মিত কফি পান ফুসফুস, প্রোস্টেট, স্টোন, জরায়ু, যকৃৎ, পাকস্থলি এবং অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার হবার ঝুঁকি কমাতে করতে পারে।

৫. সুন্দর দাঁতের সুন্দর হাসি সবার ভালো লাগে, কিন্তু দাঁত ক্ষয়ে যাওয়ায় এখানে বাধা স্বরূপ। নিয়মিত কফি পান (রোস্টেট কফি) এই ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

৬. মাথা ব্যথা হলে কফি পান করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। ব্যথার সময় রক্তনালী প্রসারিত হয়, কফির ক্যাফেইন সংকুচিত হতে সহায়তা করে। ফলে মাথা ব্যথা কমে।

৭. পৃথিবীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত কফি পানে সামগ্রিক মৃত্যু ঝুঁকি কমপক্ষে ৫ শতাংশ কমতে পারে। ৪ লক্ষ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ওপর ১৪ বছর ব্যাপী পরিচালিত গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, কফি পায়ীদের মৃত্যু ঝুঁকি কম। যারা দিনে ২-৩ কাপ কফি পান করেন তাদের ১০ শতাংশ এবং যারা ৪-৫ কাপ কফি পান করেন তাদের ১৪ শতাংশ মৃত্যু ঝুঁকি কমে। নারীরা কফি পানে আরও বেশি উপকার পেতে পারেন। তবে গর্ভাবস্থায় কফি পানে বিরত থাকুন।

৮. নিয়মিত কফি পান ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এর প্রমাণ পেয়েছেন। তারা দেখেছেন, কফির তিনটি যৌগের সমন্বয়ে গঠিত প্রোটিন শরীরে ডায়াবেটিস হওয়ার জন্য দায়ী রক্তের ক্ষতিকর উপাদান প্রতিরোধ করতে সক্ষম। এ ক্ষতিকর উপাদানই মূলত শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস রোগের সূত্রপাত ঘটায়। শরীর যখন প্রয়োজনীয় ইনসুলিন উৎপাদনে কাজ করতে পারে না, কফির নির্যাস রক্তে ইনসুলিন উৎপাদক কোষ ধ্বংসকারী ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান দমন করে মানুষকে ডায়াবেটিসের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়। গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন কফির উপাদান ক্যাফেইন, ক্যাফেইক এসিড ও ক্লোরোজেনিক এসিড ডায়াবেটিক চিকিৎসায় আরও কার্যকর সহায়তা করতে পারে।

৯. এক জরিপে দেখা গেছে যে, কফির মতো অ্যান্টি অক্সিডেন্ট অন্য কোনো খাবারে দেখা যায় না। যদিও ফলমূল এবং শাকসবজিতে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে, কিন্তু তার কোনোটিই কফির ধারকাছে নেই।

১০. বিজ্ঞানবিষয়ক দৈনিক সায়েন্স ডেইলি জানায়, পার্কিনসন রোগীরা কফি পানে দারুণভাবে উপকৃত হতে পারেন। কফি তাদের রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে। শুধু রোগাক্রান্তরাই নয়, নিয়মিত কফি পান করলে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

১১. কফি মানবদেহের লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। বিশেষভাবে কেউ যদি অ্যালকোহল আসক্ত হয়ে থাকে তাহলে তো কোনো কথাই নেই। ২০০৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন কফি পান করেন তাদের লিভার সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা ২০ ভাগ কম। যারা অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ করে থাকেন, তাদের লিভার সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১২. হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিভাগ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২-৪ কাপ কফি পান করলে আত্মহত্যার ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে।

১৩. একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মেয়েরা দৈনিক তিন বা ততোধিক কাপ কফি পান করেন তাদের ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কম।

১৪. কফিতে ক্যাফেইন স্মৃতিভ্রষ্টতা প্রতিরোধ করে। ৬৫ বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩ কাপ কফি খাওয়ার কারণে তাদের স্মৃতিশক্তি বেড়েছে।

১৫. সিএনএন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কফি আপনাকে শুধু চাঙ্গা করবে তাই নয়, আপনার বুদ্ধিকেও কিছুটা শাণিত করতে পারে। কফির উপাদান ক্যাফেইন স্নায়বিক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করতে পারে। নিয়মিত কফি পানে মানসিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে গঠনমূলক মনোভাব তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

আমরা অনেকেই জানি না, দৈনিক কতটুকু কফি পান করা প্রয়োজন। সাধারণত একজন ব্যক্তি প্রতিদিন তিন থেকে পাঁচ কাপ কফি পান করতে পারেন। অথবা ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণ করতে পারবেন। তবে এটা নির্ভর করবে আপনার শরীরের ওপর। অনেকে রয়েছেন যারা কফি খেলে চাঙ্গা অনুভব করেন। আবার অনেকে রয়েছেন যাদের আধাকাপ কফি পানেও পাকস্থলিতে সমস্যা হতে পারে। তাই শরীরের ভালো লাগার ওপর নির্ভর করে কফি পান করুন।

কফির ভালো গুণ যেমন আছে তেমনি আছে খারাপ গুণও। অনেকেই কফি চিনি এবং দুধ ছাড়া খেতে পারেন না। কিন্তু চিনি ক্যালোরি বাড়িয়ে দিতে পারে। দিনে ১৫০ এর বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে ১০ থেকে ১৫ পাউন্ড ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এসব ছাড়া কফি পানের অভ্যাস করুন। কারণ বয়স ও উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওজন থাকলে অনেক রোগ বালাই থেকে আপনি দূরে থাকতে পারবেন।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1443945248.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1443945248-300x300.jpgওয়াজ কুরুনীস্বাস্থ্য কথা
বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের দিনের শুরু হয় এক কাপ উষ্ণ কফির সঙ্গে। তার মনোমুগ্ধকর সুবাস, স্বাদ এবং স্বতন্ত্র গন্ধ ছাড়াও কফি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। কফি আপনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো : ১....