APORADHER DAYRE THEKE
কারাগারের কনডেম সেলে বসে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রায় এক হাজার কয়েদি। গুরুতর অপরাধের দায়ে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় দেশের নিন্ম আদালত এসব আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য জেলা জজ ও দায়রা আদালত থেকে পাঠানো ৪০৭টি ডেথ রেফারেন্স এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। এসব ডেথ রেফারেন্সের বিপরীতে বিচারাধীন আপিলের (জেল/নিয়মিত) সংখ্যা এক হাজারের অধিক। গত এক যুগে হাইকোর্টে প্রায় ১১ শ ডেথ রেফারেন্স মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তির জন্য অতীতের তুলনায় বর্তমানে হাইকোর্টে বেঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। উচ্চ আদালতে ক্রমান্বয়ে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে হাইকোর্টের ৬টি ডিভিশন বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি চলছে। এর মধ্যে চারটি বেঞ্চ শুধুই ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করে থাকে। এর বাইরে আরো দুটি ডিভিশন বেঞ্চ গ্রহণযোগ্য ফৌজদারি মোশনের পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তির এখতিয়ার প্রদান করেছেন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। ফলে অধিক সংখ্যক বেঞ্চ থাকায় ডেথ রেফারেন্স মামলার নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে হাইকোর্টে ২০১১ সালে নিন্ম আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি চলছে। তবে এর বাইরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শুনানি হচ্ছে বিডিআর এর তত্কালীন সদর দপ্তর পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ঘটনার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্সর। আগামী বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে এই মামলার শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

উল্লেখ্য, ফৌজদারি মামলায় নিম্ন আদালত কাউকে ফাঁসি দিলে ওই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য জেলা ও দায়রা জজ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক দেয়া এই চিঠিতে ফাঁসির রায়ের অংশবিশেষ তুলে ধরে বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে উক্ত মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার আদেশ হলো। তাই হাইকোর্টের সদয় অনুমোদনের জন্য মামলার কাগজপত্র, সিডি, মূল নথি ও যাবতীয় প্রসিডিংস পেশ করা হলো। এরপর রায়ের কপি প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে আসামিরা আপিল দায়ের করেন। পরবর্তীকালে মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, নিম্ন আদালতের আদেশনামা ও রায়, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা, সিআরপিসির ৩৪২ ধারা মোতাবেক অভিযুক্ত ব্যক্তির পরীক্ষা, আসামির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়না তদন্ত রিপোর্ট, ফরেনসিক ও কেমিক্যাল রিপোর্ট, জব্দ তালিকা, খসড়া মানচিত্র ও সূচিপত্রসহ বিস্তারিত নথিপত্র যুক্ত করে বিজি প্রেস থেকে পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়।

চাঞ্চল্যকর কোন হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হলে সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট নিজ তত্ত্বাবধানে পেপারবুক প্রস্তুত করে থাকে। যেমনটি করেছে বিডিআর বিদ্রোহে হত্যা মামলার ক্ষেত্রে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, চার শতাধিক ডেথ রেফারেন্স মামলার মধ্যে ২০১১ সালে ১১৭ জনকে, ২০১২ সালে ১০০ জনকে, ২০১৩ সালে ৩১৫ জনকে, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ২০৫ জন করে ৪১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশের বিভিন্ন দায়রা আদালত। ক্রম অনুযায়ী বর্তমানে হাইকোর্টে ২০১১ সালের ডেথ রেফারেন্স মামলার শুনানি চলছে। তবে ২০০৫ সালে ১টি, ২০০৯ সালে ২টি এবং ২০১১ সালের ১৮টি ডেথ রেফারেন্স মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। এসব মামলায় ৯৯৮ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী এম আমিনুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কনডেম সেলে ফাঁসির আসামিরা মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ করতে থাকেন। তাদের অধিকার রয়েছে যাতে দ্রুত এসব মামলার বিচার শেষ হয়। যত দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হবে ততই মঙ্গল।

এক যুগে নিষ্পত্তি ১ হাজার ৯২টি

বিগত এক যুগে প্রায় এগারশত ডেথ রেফারেন্স মামলা হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ১৩৫টি, ২০১৩ সালে ১১১টি, ২০১২ সালে ১৪৫টি, ২০১১ সালে ৭৪টি, ২০১০ সালে ৪৩টি, ২০০৯ সালে ৪৮টি, ২০০৮ সালে ১২৮টি, ২০০৭ সালে ১৪৮টি, ২০০৬ সালে ৬৫টি, ২০০৫ সালে ৪৯টি, ২০০৪ সালে ১০১টি এবং ২০০৩ সালে ৪৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ রাজন-রাকিব হত্যা মামলা

দুই শিশু শেখ শামিউল আলম রাজন ও রাকিব হত্যা মামলা হাইকোর্টে শুনানির জন্য ৫ বছর অপেক্ষা করা লাগছে না। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির উদ্যোগ নেয়ার জন্য ডেথ রেফারেন্স শাখাকে গত ১১ নভেম্বর নির্দেশ দেন। নির্দেশে অবিলম্বে পেপারবুক প্রস্তুত করতেও সংশ্লিষ্ট শাখাকে বলা হয়েছে। গত ১০ নভেম্বর রাজন ও রাকিব হত্যা মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পাঠানো হয়। মামলার ধারাবাহিকতা অনুযায়ী এটি শুনানি করতে হলে ২০২০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হত। কিন্তু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেয়ার পর এখন আর নিহত স্বজন ও দেশবাসীকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে না বলে জানান আইনজীবীরা। রাজন ও রাকিব হত্যা মামলায় ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। কয়েক জনকে দেয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/12/APORADHER-DAYRE-THEKE1.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/12/APORADHER-DAYRE-THEKE1-300x300.jpgহীরা পান্নাঅপরাধের ডায়েরী থেকে
কারাগারের কনডেম সেলে বসে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রায় এক হাজার কয়েদি। গুরুতর অপরাধের দায়ে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় দেশের নিন্ম আদালত এসব আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য জেলা জজ ও দায়রা আদালত থেকে পাঠানো ৪০৭টি ডেথ রেফারেন্স এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। এসব ডেথ রেফারেন্সের বিপরীতে বিচারাধীন...