84991_34
দুই শতাধিক পেশাদার ছিনতাইকারী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কক্সবাজার শহর। দীর্ঘদিন ধরে শহরের দুর্গম এলাকায় আস্তানা গেড়ে শহরজুড়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে তারা। শহরে ছিনতাইকারীরা এতই বেপরোয়া, বৃহস্পতিবার সৈকতের লাবণী পয়েন্ট মোড়ে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পারভেজ হোসেন (৩০) নামের টুরিস্ট পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশ। আটক দুই ছিনতাইকারী শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা ঘটনায় জড়িত আরও ৪ ছিনতাইকারীর নাম প্রকাশ করেছে। আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তির তালিকা ধরে পুলিশ এসব ছিনতাইকারীকে আটকে অভিযান শুরু করেছে। পুলিশি অভিযানে শুক্রবার আরও ৩ ছিনতাইকারী আটক হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারের ছিনতাই ও পুলিশ খুনের ঘটনায় জড়িত একজনও রয়েছে। এদিকে শহর কেন্দ্রিক ছিনতাইকারী ও অপরাধীদের সঙ্গে জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের কিছু নেতার দহরম মহরম সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দলের ওইসব নেতার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকায় অনেক চিহ্নিত অপরাধীকে আটক করতে পারে না পুলিশ। আবার কোন চোর-ছিনতাইকারী পুলিশের হাতে ধরা পড়লেই সে হয়ে যায় আওয়ামী লীগ বা সহযোগী কোন সংগঠনের নেতা বা কর্মী। নেতারা প্রভাব বিস্তার করে চোর-ছিনতাইকারীদের ছাড়িয়ে নেয়। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়া, মোহাজেরপাড়া, বাদশাঘোনা, লাইটহাউস পাড়া, সাহিত্যিকা পল্লী, পাহাড়তলী, দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, পেশকারপাড়া ও কলাতলী আদর্শ গ্রাম কেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি ছিনতাইকারী চক্র রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে দুই শতাধিক ছিনতাইকারী দলে দলে বিভক্ত হয়ে সমুদ্র সৈকতসহ শহরের বিভিন্ন এলাকার নির্জন স্থানে ছিনতাই করে থাকে। বিশেষ করে ভোরে ও রাতে এরা তৎপর থাকে সবচেয়ে বেশি। পর্যটন মওসুমে এরা শহরের সমুদ্র সৈকত ও ঝাউবাগানসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ওত পেতে থাকে। অন্য সময় এরা বৃহত্তর পাহাড়তলী, রুমালিয়ারছড়া ও ঘোনারপাড়ায় পথচারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন সেটসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে থাকে। কেউ বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এসব ছিনতাইকারীর হাতে এমন কোন দিন নেই যেদিন ছিনতাই কিংবা অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সরকারি দলের কিছু নেতার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকায় পুলিশ এসব ছিনতাইকারীকে আটক করেও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
কক্সবাজার থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পেশাদার চোর ছিনতাইকারী ধরলেও সে হয়ে যায় আওয়ামী লীগের কর্মী! তাদের ছাড়িয়ে নিতে শহর আওয়ামী লীগের নেতারা তদবির করে। নেতাদের তদবিরের কারণে ধৃত অধিকাংশ অপরাধীকে কোর্টে পাঠানো সম্ভব হয় না। এমনও ঘটনা ঘটে, ছিনতাইকারীকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসার আগেই নেতারা থানায় এসে তদবির শুরু করে।
সূত্র আরও জানায়, মূলত মাদকের টাকা যোগাতেই উঠতি বয়সের কিছু ছেলে ছিনতাই করে থাকে। ছিনতাইকারী দলে রয়েছে ১৬ বছরের কিশোর থেকে ৩০ বছরের যুবকও। শহরের দুর্গম এলাকায় এদের বসবাস হলেও মূল আস্তানা সাগরপাড়ের কটেজগুলো। ছিনতাই কর্ম সেরে এসব কটেজে জড়ো হয় তারা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এক পুলিশ কনস্টেবল খুন হওয়ার পর নতুন করে ছিনতাইকারীদের তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। এ তালিকা ধরে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় চালানো হবে সাঁড়াশি অভিযান। কোন অবস্থাতেই অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
কক্সবাজার থানার ওসি আতাউল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, পুলিশ কনস্টেবল খুনের ঘটনায় ওইদিন গভীর রাতে ৬ জনকে আসামি করে খুনসহ ডাকাতির অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। এ মামলায় আটক দুই জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আবু তাহের (২৮) ও আবদুল মালেক (২৪) কে শুক্রবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। স্বীকারোক্তিতে তারা বৃহস্পতিবারের ঘটনায় জড়িত আরও ৪ জনের নাম প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া পৃথক ছিনতাই ঘটনায় জড়িত আরও দুজন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। তবে অভিযানের ঘটনা টের পাওয়ায় ছিনতাইকারীরা গা-ঢাকা দিয়েছে।

ওয়াজ কুরুনীঅপরাধের ডায়েরী থেকে
দুই শতাধিক পেশাদার ছিনতাইকারী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কক্সবাজার শহর। দীর্ঘদিন ধরে শহরের দুর্গম এলাকায় আস্তানা গেড়ে শহরজুড়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে তারা। শহরে ছিনতাইকারীরা এতই বেপরোয়া, বৃহস্পতিবার সৈকতের লাবণী পয়েন্ট মোড়ে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পারভেজ হোসেন (৩০) নামের টুরিস্ট পুলিশের এক কনস্টেবল নিহত হন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশ।...