1445105881
খাদ্য ও কৃষিক্ষেত্রের নোবেল প্রাইজ খ্যাত ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ’ গ্রহণ করে স্যার ফজলে হোসেন আবেদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেছেন, এ পুরস্কারের পিছনে প্রকৃত নায়ক হচ্ছে গরিবরা। দেশভেদে গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও তাদের স্বপ্ন একই। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের মতো বহুমাত্রিক সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদের আরো বড় চিন্তা করতে হবে।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ায় স্যার ফজলে হোসেন আবেদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ কমিটির চেয়ারম্যান জন রুয়ান। পুরস্কার গ্রহণ করে স্যার আবেদ বলেন, এ পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটি আমার একার পুরস্কার নয়, গত ৪৩ বছর ধরে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের বাইরে যারা ব্র্যাকে কাজ করে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রেখেছেন তারা সবাই এ পুরস্কারের ভাগিদার। এক্ষেত্রে গরিবরাই প্রকৃত নায়ক। বিশেষ করে যেসব গরিব নারী দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে তারা প্রতিদিনই নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করছে। এসময় তিনি আগামী দিনে পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য নির্মূলের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেন।

ওয়ার্ল্ড এফেয়ার্স কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্যার ফজলে হোসেন আবেদ স্বাধীনতার পর থেকে কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের মোট জনগোষ্ঠীর ৭৮ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতো। সাত লাখ মানুষকে খাওয়ানোর মতো খাদ্য আমরা উত্পাদন করতাম না। বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে তা বন্দর থেকে খালাস করার মতো অবকাঠামোও আমাদের ছিল না। কিন্তু স্বাধীনতার ৪০ বছর পর এসে বাংলাদেশ পুরোপুরি বদলে গেছে। বাংলাদেশ খুব দ্রুত উন্নতি লাভ করছে। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। বাংলাদেশের কৃষির উন্নতি প্রসংগে স্যার আবেদ বলেন, স্বাধীনতার পর আমরা দেড় কোটি টন ধান উত্পাদন করতাম। তখন জনসংখ্যা ছিলো সাত কোটি। আর জমি ছিলো নয় বিলিয়ন হেক্টর। জনসংখ্যা বাড়ার কারণে অবকাঠামো তৈরিসহ বাড়িঘর নির্মাণে গত ১০ বছরে আমরা এক বিলিয়ন হেক্টর চাষের জমি হারিয়েছি। এ পর্যায়ে এসে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলেও খাদ্য উত্পাদনও বেড়েছে। এখন আমরা ৫ কোটি টন খাদ্যশস্য উত্পাদন করি। এশিয়ায় ‘সবুজ বিপ্লব’ হয়েছে উল্লেখ করে তিন বলেন, বাংলাদেশ, ভারত এবং চীন যেভাবে সবুজ বিপ্লবের দিকে এগিয়ে গেছে সেভাবে পৃথিবীর অনেক দেশ পারেনি। আফ্রিকা সবুজ বিপ্লব ধরতে পারেনি। এক্ষেত্রে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ বাংলাদেশের থেকে শিখতে পারে।

বাংলাদেশের কৃষিখাতের সমপ্রসারণে ব্র্যাক নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি গবেষণা, চাষিদের কৃষিঋণ প্রদান, কৃষিতে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং উন্নতমানের বীজ উদ্ভাবনে সংস্থাটি কাজ করছে বহুদিন ধরে। দেশের যেসব জমিতে এক ফসলের চাষ হতো সেসব জমিতে কিভাবে দুই বা তিন ফসল করা যায় সে লক্ষ্যে ব্র্যাকের গবেষণা অব্যাহত আছে। শস্য ছাড়াও মাছ এবং পোলট্রি খাতে ব্র্যাকের কাজ উল্লেখযোগ্য। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্র্যাক ৪০ থেকে ৫০ জন প্রান্তিক চাষিকে নিয়ে একটি দল গঠন করে। সংস্থার একজন কর্মকর্তা এসব চাষিকে শস্য, মাছ এবং কৃষি যন্ত্রপাতির বিষয়ে হাতে-কলতে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। এ কর্মকাণ্ড বর্তমানে ১২টি জেলার ৫০টি উপজেলায় বিস্তৃত হয়েছে- যেগুলো শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর আরো পাঁচটি দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ব্র্যাক কাজ করছে। চাষীদের স্বল্পমূল্যে উন্নত বীজ সরবরাহ করা, তাদের উত্পাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ এবং ঋণ সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে ব্র্যাক এ কাজটি করছে। অন্য দেশগুলো হচ্ছে- উগান্ডা, তাঞ্জানিয়া, সিয়েরা লিওন, লাইবেরিয়া এবং দক্ষিণ সুদান।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1445105881.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1445105881-300x214.jpgহাসন রাজাআন্তর্জাতিক
খাদ্য ও কৃষিক্ষেত্রের নোবেল প্রাইজ খ্যাত ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ’ গ্রহণ করে স্যার ফজলে হোসেন আবেদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেছেন, এ পুরস্কারের পিছনে প্রকৃত নায়ক হচ্ছে গরিবরা। দেশভেদে গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও তাদের স্বপ্ন একই। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের মতো বহুমাত্রিক সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদের...