1_106055
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। কালেমা, নামাজ, রোযা ও যাকাতের পরই হজের স্থান। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর হজ ফরজ। এ কারণে আল্লাহ সস্তুষ্টি লাভের আশায় প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ মানুষ হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করেন। তবে অনেকে সৌদি আরবে ভালোভাবে পৌঁছলেও হজ শেষে তাদের জীবন নিয়ে দেশে ফেরা সম্ভব হয় না। এর প্রধান কারণ বয়স। বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকেই হজ পালন শেষ করার আগেই মারা যান। তবে এর বাইরেও দুর্ঘটনায় হজিদের প্রাণ হারানোর ঘটনা কিন্তু কম নয়। ১৯৭৫ থেকে ২০১৫ মক্কায় ৪০ বছরে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মুসল্লি। বিভিন্ন সময়ে একের পর এক হজ ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, সড়ক দুর্ঘটনা, বোমা বিস্ফোরণ, শিয়া-সুন্নি সংঘর্ষ, ভবন ধস, অগ্নিকাণ্ড এবং পদদলিত হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা। সর্বশেষ এর সঙ্গে হয়েছে ক্রেন ভেঙে পড়ার মতো দুর্ঘটনা। আজ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের পাঠকদের জন্য ইতিহাসে ভয়বহ তেমন কিছু হজ দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হলো।

হজ ট্রাজেডির তথ্য অনুসন্ধানে প্রথমে পাওয়া যায় ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হতে তাবুতে আগুন লাগার ঘটনা। এ ঘটনায় নিহত হয় কমপক্ষে ২০০ হাজি।

এ ঘটনার ১১ বছর পর ১৯৮৭ সালের ৩১ জুলাই মক্কায় সৌদি নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শিয়াদের সংঘর্ষে ৪০২ জন হাজি নিহত হন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ইরানি। এ ঘটনায় আহত হন আরও ৬৪৯ জন।

১৯৮৯ সালের ৯ জুলাই মক্কায় দুইটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হন এক হাজি এবং আহত হন আরও ১৬ জন। পরবর্তীতে এ ঘটানায় জড়িত থাকার দায়ে ১৬ কুয়েতি শিয়ার শিরোচ্ছেদ করা হয়।

১৯৯০ সালের ২ জুলাই মক্কায় মারা যান ১৪’শ ২৬ জন হাজি। তাদের বেশির ভাগই ছিলেন মালয়েশীয়, ইন্দোনেশীয় ও পাকিস্তানি। সুড়ঙ্গ পথে পদপিষ্ট হয়ে এই বিপুল মানুষের মৃত্যু হয়। হজ ট্র্যাজেডিগুলোর মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রাণহানীর ঘটনা।

১৯৯৪ সালের ২৩ মে মক্কার আল-জামারাতে পদদলিত হয়ে ২৭০ জন হাজি মারা যান। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ইন্দোনেশীয়।

১৯৯৭ সালের ১৫ এপ্রিল মিনায় তাবুতে আগুন লেগে পুড়ে মারা যান ৩৪৩ জন। এ ঘটনায় আহত হন আরও প্রায় ১৫০০ মানুষ। গ্যাসের চুলা থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়ে বলে পরবর্তীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়।

১৯৯৮ সালের ৯ এপ্রিল মক্কার আল-জামারাতে শয়তানকে পাথর মারতে যাওয়ার সময় একটি ব্রিজের কাছে পদদলিত হয়ে ১৮০ জন হাজির মৃত্যু হয়।

এরপর ২০০১ সালের ৫ মার্চ ওই আল-জামারাতে শয়তানকে পাথর মারতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ৩৫ জন হাজি মারা যান।

২০০৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে ওই একই জায়গায় শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মারার সময় পদদলিত হয়ে মারা যান ২৪৪ জন হাজি। আহত হন প্রায় সমান সংখ্যাক মুসল্লি।

২০০৬ সালে মক্কায় বহুতল আল-গাজা হোটেল ধসে ৭৬ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও ৬৪ জন। একই বছর আল-জামারাতে শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মারতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যান আরও ৩৪৫ জন। সব মিলিয়ে ওই বছর দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪২১ হাজি।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর হজ শুরুর ১০ দিন আগে মক্কার প্রধান মসজিদের (মসজিদ আল-হারাম) নির্মাণ কাজের ক্রেন ভেঙে পড়ে কমপক্ষে ১০৭ জন হাজির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ১৮৮ জন। এদের মধ্যে ৪০ জনের বেশি বাংলাদেশি। যদিও সৌদিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের আশঙ্কামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তারপর এ ঘটনায় হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদিতে যাওয়া মুসলিমদের মধ্যে এক ধরণের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে তাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে।

ওইদিন মক্কার অন্যতম প্রধান মসজিদ মসজিদ আল-হারামে আছরের নামাজের জন্য শত শত মুসল্লি জমায়েত হন। বিকাল যখন ৫টা ৪৫ মিনিট তখন আচমকা ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় মসজিদের সংস্কার কাজের জন্য ব্যবহৃত একটি ক্রেন মসজিদটির ছাদে আছড়ে পড়ে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ৮৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২০ জনের মৃত্যু হওয়ায় এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৭-এ। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, অনেক মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় মরে পড়ে আছেন।

নৃপেন পোদ্দারএক্সক্লুসিভ
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। কালেমা, নামাজ, রোযা ও যাকাতের পরই হজের স্থান। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর হজ ফরজ। এ কারণে আল্লাহ সস্তুষ্টি লাভের আশায় প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ মানুষ হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করেন। তবে অনেকে সৌদি আরবে ভালোভাবে পৌঁছলেও...