89264_mll
ও-লেভেল পরীক্ষায় অসামান্য ফল অর্জন করেছেন কনিষ্ঠতম নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। অনেক অর্জনের ভীড়ে এ অর্জনের মাত্রা একটু অন্যরকম। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়েই তো তার লড়াই। শিক্ষাগ্রহণের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার কারণে তালেবানদের রোষানলে পড়েছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন মাথায়। তারপরও হার মানেন নি। শিক্ষার অধিকার নিয়ে আরও বেশি সোচ্চার হয়েছেন। লড়াই চালিয়ে গেছেন। এর স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ইতিহাসের কনিষ্ঠতম নোবেলজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন ২০১৪তে। ২০১৩ সালে টাইম ম্যাগাজিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন। কখনও জাতিসংঘে বক্তব্য দিয়েছেন। কখনও নোবেল পুরস্কারের মঞ্চে। বিশ্বজুড়ে শিক্ষা প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাগ্রহনে অনুপ্রাণিত করেছেন। এসব কিছুর মাঝেও চালিয়ে গেছেন নিজের পড়াশোনা। ও-লেভেল পরীক্ষায় দারুণ ফল অর্জন করেছেন। ১০ টি বিষয়ের মধ্যে ৬টিতে ‘এ স্টার’ আর ৪ টিতে ‘এ’ পেয়েছেন। তার পিতা-মাতা দারুন উচ্ছসিত। বিশ্বজুড়ে মালালার শুভাকাঙ্খিরাও তাকে স্তুতিবাক্যে সিক্ত করছেন। করবেন নাই বা কেন? নিজের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপটি অতিক্রম করলেন মালালা। ১০ম শ্রেণীর পাবলিক পরীক্ষায় অসাধারন ফল অর্জনের মাধ্যমে সেটা করলেন তিনি। হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে শিরোনাম করা হয়েছে, মালালা ইউসুফজাইয়েরর জিসিএসই পরীক্ষার ফল হলো তালেবানদের মোক্ষম জবাব। গত শুক্রবার মালালার পিতা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই টুইটারে মেয়ের পরীক্ষার ফল জানিয়ে একটি টুইট করেন। টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমার স্ত্রী তুর পেকাই ও আমি মালালার ৬টি এ স্টার ও ৪টি এ পাওয়া নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। #এডুকেশন ফর এভরি চাইল্ড।’ পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলোও মালালার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মালালার অর্জনগুলো এখন আর বিস্ময়ের উদ্রেক করে না বরং সে অব্যাহতভাবে পাকিস্তানকে গর্বিত করে চলেছে। ২০১২ সালে তালেবান বন্দুকধারীদের গুলিতে আহত হওয়ার পর মালালাকে চিকিৎসার জন্য বৃটেনে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃটেনের বার্মিংহ্যামে স্থানান্তর হন তার পিতা-মাতা। বৃটেনে চিকিৎসা চলাকালীন ব্যহত হয় মালালার পড়াশোনা। সুস্থ হওয়ার পর আবারও নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেন। বর্তমানে বার্মিংহ্যামের এজব্যাস্টন হাই স্কুলে পড়াশোনা করছেন তিনি। জিসিএসই ও-লেভেল পরীক্ষায় মালালা সবথেকে ভালো করেছেন বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে। জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে পেয়েছেন এ স্টার। এছাড়া ইতিহাস, ভূগোল, ইংরেজি ভাষা, ইংরেজি সাহিত্যে পেয়েছেন এ। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের যে সোয়াত উপত্যকা থেকে মালালার লড়াই শুরু, সেখানের পড়াশোনার সিলেবাস ছিল ভিন্ন। বৃটেনের জিসিএসই সিলেবাসের সঙ্গে মালালা পরিচিত ছিলেন না। নতুন কারিকুলামে মানিয়ে নেয়ার সুবিধার্থে তাকে প্রথমে তার নিচের ক্লাসের ছাত্রদের সঙ্গে ক্লাস করতে হয়। এখন পরীক্ষার ফলই বলে দেয়, শুধু যে মানিয়ে নিয়েছেন তাই নয়, নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন দারুণভাবে। হাজার হলেও এ শিক্ষার জন্যই তো তার লড়াই।

হাসন রাজাআন্তর্জাতিক
ও-লেভেল পরীক্ষায় অসামান্য ফল অর্জন করেছেন কনিষ্ঠতম নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। অনেক অর্জনের ভীড়ে এ অর্জনের মাত্রা একটু অন্যরকম। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়েই তো তার লড়াই। শিক্ষাগ্রহণের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হওয়ার কারণে তালেবানদের রোষানলে পড়েছিলেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন মাথায়। তারপরও হার মানেন নি। শিক্ষার অধিকার নিয়ে আরও বেশি সোচ্চার হয়েছেন। লড়াই...