নিজস্ব প্রতিবেদক ।
পদত্যাগকারী প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা স্বপদে ছিলেন ১ হাজার ২৮ দিন। যদিও তার ১ হাজার ১১০ দিন থাকার কথা ছিল।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
কিন্তু উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া রায়ের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগ করেন। যদিও অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে তিনি এক খোলা চিঠিতে আবার দেশে ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আর আসলেন না।

প্রসঙ্গত, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে গত ৩ জুলাই রায় দেন প্রধান বিচারপতি সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ। পুনর্বহাল করা হয় সামরিক ফরমানের মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের মূল রায়টি লিখেছেন প্রধান বিচারপতি সিনহা। ৭৯৯ পৃষ্ঠার রায়ে প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্র ও সমাজ, সামরিক শাসন, রাজনীতি, নির্বাচন কমিশন ও সংসদ ও বিচার বিভাগ নিয়ে নানা পর্যবেক্ষণ দেন। কড়া সমালোচনা করেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আমি ও আমিত্ব’-এর সংস্কৃতির। বেঞ্চের অপর বিচারপতিরাও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে তাদের অভিমত তুলে ধরেন রায়ে।

এরপরই ওই রায় ও রায়ে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দেওয়া পর্যবেক্ষণের তীব্র সমালোচনা করেন সরকার ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা। তাতে যোগ দেয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলও। এমনকি সরকার ও সরকারপন্থী বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারাও প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে সরব হন। পাশাপাশি রায়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া পর্যবেক্ষণও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে একটি প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়। তবে রায়কে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দেয় বিএনপি ও তার সমর্থিত আইনজীবীরা। এ দিকে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে যাওয়ার পরেই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৩ অক্টোবর থেকে এক মাসের ছুটিতে যান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। কিন্তু ওই মেয়াদ শেষ না হতেই গত ১০ অক্টোবর ছুটির মেয়াদ আরো দশ দিন বৃদ্ধি করেন প্রধান বিচারপতি। ওইদিনই সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি চিঠি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, বিচারপতি এসকে সিনহা দীর্ঘদিন বিচার কাজে থাকায় এবং অবসর গ্রহণের তারিখ নিকটবর্তী হওয়ায় মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত। মানসিক অবসাদ দূর করার জন্য প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য গমন ও অবস্থান করতে চান। চিঠির এ বিষয়টি প্রধান বিচারপতি তার একান্ত সচিবকে বাচনিক (মৌখিক) নির্দেশনা প্রদান করেছেন বলে সুপ্রিম কোর্টের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ে এ চিঠি যাওয়ার পরই তা পাঠিয়ে দেয়া হয় রাষ্ট্রপতির দপ্তরে। কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ প্রধান বিচারপতির বিদেশ গমন সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন। পরদিন ১২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি বর্ধিত ছুটিকালীন বিদেশে অবস্থানকালে ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অথবা পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করেন। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে এসকে সিনহা শপথ নেন।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/419.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/419-300x300.jpgশিশির সমরাটএক্সক্লুসিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক । পদত্যাগকারী প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা স্বপদে ছিলেন ১ হাজার ২৮ দিন। যদিও তার ১ হাজার ১১০ দিন থাকার কথা ছিল।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। কিন্তু উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া রায়ের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি পদত্যাগ করেন। যদিও...