93474_f4
চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার দাপটে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চলছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কর্মকর্তাদের জামায়াত-বিএনপির লেভেল সাঁটিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা। অথচ সেখানে বিএনপি-জামায়াতের কোন অস্তিত্বই নেই। এক বছরের চুক্তির শেষ বেলায় ক্ষমতাবান এ কর্মকর্তা নিজের কাজ ফেলে এখন পরনিন্দায় ব্যস্ত রয়েছেন। দিনের প্রথম অংশে তথ্য মন্ত্রণালয় বা সরকারের ঊর্ধ্বতনদের দপ্তরে গিয়ে তোষামোদিতে ব্যস্ত থাকেন। এরপর অফিসে এসেই বিটিভির সিনিয়র কর্মকর্তাদের রুমে গিয়ে আড্ডা দেন। উদ্দেশ্য একটাই, নিজের চুক্তির মেয়াদ শেষের দিকে থাকায় নতুন চুক্তির মাধ্যমে আবারও উঁচু পদ বাগিয়ে নেয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায়শই বিটিভির ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন কর্মকর্তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন ক্ষমতাশীল ওই কর্মকর্তা। নানা আজেবাজে মন্তব্য করছেন। কথায় কথায় ক্ষমতাসীন দলের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে নিজেকে জাহির করছেন। বলছেন, আমি বিটিভির চাকরি করতে চাইনি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে জোর করে এ চেয়ারে বসিয়েছেন। একটি মিশন দিয়ে সরকার আমাকে এ পদে পাঠিয়েছে। জামায়াত-বিএনপির কোন কর্মকর্তা আমার কাজে প্রতিবন্ধক হতে পারবেন না। কিন্তু অনুসন্ধানে মিলেছে ভিন্ন তথ্য। জানা গেছে, দাপুটে এ কর্মকর্তা তার সর্বশেষ কর্মস্থলের প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাকরিহারা হন। এরপর সরকারি কোন চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে দেনদরবার করতে থাকেন। এজন্য নিজের প্রথম জীবনের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডকে কাজে লাগান। এর ভিত্তিতে সরকারের বিভিন্ন পক্ষের আশীর্বাদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান বিটিভিতে। তারপর থেকেই অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এ কর্মকর্তা। যদিও নিজের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে সব সময় তিনি বলে বেড়ান, অনেক উঁচু পদটি আমার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের কারণে ওই পদটি পাইনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিটিভিতে যোগ দেয়ার পর থেকেই একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন এ কর্মকর্তা। এতে বিটিভির কয়েকজন কর্মী ছাড়াও একটি বিভাগের মাঝারি পর্যায়ের দুজন কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা একসঙ্গে বসে চা খান, গল্প-গুজব করেন। কথিত আছে, সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে মিলেমিশে তারা সবকিছু করে থাকেন। এ বিষয়ে বিটিভির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, আমরা তার ভয়ে সবসময় তটস্থ থাকি। ভয়ে থাকলে ঠিকভাবে কাজ করা যায় না। বিএনপি বা জামায়াতের সমর্থক বানিয়ে কখন কি ক্ষতি করে দেয়। এদিকে ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার কাজকর্ম সম্পর্কে এ কর্মকর্তার বাস্তব জ্ঞান না থাকলেও এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই বিটিভি ভবনে হইচই ফেলে দেন তিনি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ধমক দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ সংবাদে নিজের পছন্দের সংবাদ উপস্থাপকদের শিডিউল দিতেই বেশি ব্যস্ত এ কর্মকর্তা। বার্তা বিভাগের কর্মকর্তা হলেও প্রাইম টাইমে প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নতুনদের সুযোগ করে দেয়ার জন্য নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে কখনও মন্ত্রী, কখনও সিনিয়র আমলা বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নাম পর্যন্ত ভাঙিয়ে থাকেন। এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে এ কর্মকর্তাকে নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে মাঝেমধ্যেই অফিস থেকে লাপাত্তা হয়ে যান। বিটিভির এক কর্মচারী এ প্রসঙ্গে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কয়েক দিন আগে স্যার অফিস শেষ করে চলে যান। চলে যাওয়ার পরই তার স্ত্রীর ফোন শুরু হয়। স্যারকে ফোনে চান। কিন্তু বাসায় চলে গেছেন জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরদিন অফিসে আসার পর ঘটনা সম্পর্কে তাকে জানালে যেন আকাশ ভেঙে পড়ে এ কর্মকর্তার মাথায়। বলেন, শরীরটা খারাপ লাগছিল তাই ল্যাবএইডে ভর্তি হয়েছিলাম। সকাল থেকে ভাল লাগছে তাই আবার অফিসে এসে কাজে যোগ দিয়েছি। বিটিভির পরিবহন পুল সূত্রে জানা গেছে, রাতের ডিউটি শেষে আলোচিত কর্মকর্তা এ মধ্যরাতের দিকে মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়া ও মোহাম্মদপুরে নামেন। সপ্তাহে ভাগ করে এ দুই স্থানে নামেন তিনি। এ নিয়েও বিটিভিতে কানাঘুষা রয়েছে। এর আগে চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা বেসরকারি চাকরি করার সময় বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত প্রকাশনা বেতার বাংলায় কর্মরত এক নারীর সঙ্গে জড়িয়ে যান। ভারতে হার্টের চিকিৎসা করানোর সময় বাংলাদেশ বেতারের ওই নারী বিটিভির কর্মকর্তাকে সঙ্গ দেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ই সেপ্টেম্বর ভুল তথ্য উপস্থাপনের দায়ে এ ক্ষমতাবান কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়। শোকজ পাওয়ার পরদিন একটি প্রোগ্রামে অংশ নিতে থাইল্যান্ড যান তিনি। এদিকে এ কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে উঁচু পদে চাকরি করেও বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে যান। এ নিয়ে নানা কথা চালু হয়েছে বিটিভিতে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিটিভির ডিজিসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা কোন মন্তব্য করতে চাননি।

নৃপেন পোদ্দারঅন্যান্য
চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার দাপটে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চলছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কর্মকর্তাদের জামায়াত-বিএনপির লেভেল সাঁটিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা। অথচ সেখানে বিএনপি-জামায়াতের কোন অস্তিত্বই নেই। এক বছরের চুক্তির শেষ বেলায় ক্ষমতাবান এ কর্মকর্তা নিজের কাজ ফেলে এখন পরনিন্দায় ব্যস্ত রয়েছেন। দিনের প্রথম অংশে তথ্য মন্ত্রণালয় বা...