1444556108
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো শিশু ঝরে পড়বে বা রাস্তায় টোকাই হবে তা আমরা চাই না। একটা শিশুও পথে ঘুরবে না। ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে শিশুদেরও খাওয়াতে পারবো। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত ও মায়েদের স্বাস্থ্যহীনতা রোধ করতে হবে। রবিবার বেলা সোয়া ১১টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শিশু শিক্ষা মানেই এক গাদা বই কাঁধে দিয়ে শুধু পড় পড় বললেই হবে না। এর নাম পড়াশুনা নয়। সারাক্ষণ যদি পড় পড় বলা হয় তাহলে মনোযোগ হারিয়ে যাবে। শিশুদের পড়াটাকে দায়িত্ব হিসেবে বোঝাতে পারলে তারা পড়বে। শিশুদের স্কুলে ভর্তি হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাচ্চাদের খেলার মাঠের ব্যবস্থা, খোলামেলা জায়গা রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের ইতিহাস আমাদের শিশুদের জানাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনের শিশুদের জন্য বাসযোগ্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে দিয়ে যেতে চাই। আমাদের বর্তামান আমরা আগামী দিনের শিশুদের জন্য উৎসর্গ করছি।’ সম্প্রতি দেশে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের কয়েকটি ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘অনেকে শিশুদের বাড়িতে নিয়ে আসে কাজ করতে। তাদের লেখাপড়ার অধিকার আছে। ওই শিশুটা ফ্রিজ থেকে একটা মিষ্টি খেলে এভাবে মারে.. এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রীকে কারাগারে যেতে হয়েছে। প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের প্রতি অভিভাবক ও সহপাঠীদের সংবেদশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জন্ম থেকে কেউ কানা হয়, খোঁড়া হয়, চিন্তা শক্তির সমস্যা থাকে। এটা তাদের অপরাধ না।’

মিলনায়তনে উপস্থিত শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের (প্রতিবন্ধীদের) টিজ করবে না- এটা অপরাধ। তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে।’

প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের বিশেষ কাউন্সিলিং করানোর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাতে করে একসময় তারা অন্য শিশুদের সঙ্গে মিলে যেতে পারবে।’ স্কুলে ভর্তি পদ্ধতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের নিজ নিজ এলাকার স্কুলে ভর্তি নিশ্চিত করতে বলেন।

‘তারা যদি লেখাপড়া শিখে ছাপানো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে স্কুলে ভর্তি হতে পারে তাহলে আর স্কুল কি শিখাবে? প্রাক প্রাইমারি বা প্রাইমারি তাদের কি শিখাবে?’, বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিশুরা যে এলাকায় বসবাস করে, সে এলাকার স্কুলে ভর্তি হওয়া তাদের অধিকার। সরাসরি তাদের আগে ভর্তি করিয়ে নিতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু, সমাজকল্যাণ এবং প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্যই এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটা যেন সমন্বয় করা হয়, তারা যেন লক্ষ্য রাখে কাজগুলো ঠিক মতো হচ্ছে কিনা।’

শিশুদের ওপর বইয়ের বোঝা না চাপানোর তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি সব স্কুলে খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার নির্দেশও দেন শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ও বিজয়ের ইতিহাস প্রতিটি শিশুকে এখন থেকেই জানতে হবে। না হলে তারা জীবনযুদ্ধে জয়ের অনুপ্রেরণা পাবে না।’

এ ছাড়া সারাদেশে স্কুলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্কুল ছুটির পর শিশুদের রাস্তা পারাপারে জন্য ট্রাফিক পুলিশকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের আবাসিক প্রতিনিধি অ্যাডওয়ার্ড বেগবেদার, আজিমপুর শিশু বিকাশ কেন্দ্রের ছাত্রী সানজিদা আফরোজ স্মৃতি এবং মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সুবিধাভোগী প্রকল্পের আওতায় মহাখালীর আব্দুল হালিম বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র হাশেম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বিডি নিউজ।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1444556108.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/1444556108-300x300.jpgঅর্ণব ভট্টজাতীয়
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো শিশু ঝরে পড়বে বা রাস্তায় টোকাই হবে তা আমরা চাই না। একটা শিশুও পথে ঘুরবে না। ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে শিশুদেরও খাওয়াতে পারবো। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত ও মায়েদের স্বাস্থ্যহীনতা রোধ করতে হবে। রবিবার বেলা সোয়া ১১টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে...