lll333_301196

শুক্রবার মধ্যরাতে স্বাধীনতা উৎসব উদযাপন করল ১৬২ ছিটমহলের বাসিন্দারা। দাশিয়ার ছড়া, গারাতি, নাজিরগঞ্জ, পুটিমারী, বেহুলাডাঙ্গা, নাটোককাটা, খাগড়াবাড়ীসহ এতদিন ভারতভুক্ত থাকা ১১১টি ছিটমহলে উড়ল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। এখন অবশ্য সেগুলো আর ছিটমহল নয়, সব বাংলাদেশেরই গ্রাম। রাত ১২টার পর ৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিময় হলো ছিটমহলগুলো। পুড়েছে আতশবাজি। মোমবাতি জ্বালানো হয়েছে বাড়িতে-বাড়িতে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর তারা নতুন করে স্বাধীনতা পেল। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৫১টি ছিটমহলের স্কুলগুলোর শিশুরা গাইত ভারতের জাতীয় সংগীত। ভারতের অভ্যন্তরে ১১১টি ছিটমহলের শিশুরা ওই সব স্কুলে গেয়ে উঠত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। গত রাত ১২টা ১ মিনিটে সব বদলে গেল। দুই দেশের ১৬২ ছিটমহলের ৫০ হাজারের বেশি অধিবাসীর এমন অবরুদ্ধ জীবনের অবসান হলো গত রাতে। এমন শুভক্ষণে অনাবিল মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত এসব ছিটমহলের অধিবাসী। ৬৮ বছরের আত্মপরিচয়হীন গ্লানির অবসান উদযাপন করল আনন্দ-হাসি আর নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। আয়োজন করা হয় হা-ডু-ডু, লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচের। জাতিসত্তার স্বীকৃতি পাওয়ায় ছিটমহলবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে ৪১ বছর পর ১৯৭৪ সালের স্থলসীমানা চুক্তি ও ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত প্রটোকল কার্যকর হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৬৮ বছর পর নিজ দেশের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশ ও ভারতের ১৬২ ছিটমহল বিনিময় হলো। ফিরল স্বাধীন মুক্ত জীবনে। এখন থেকে তাদের আর মিথ্যার সঙ্গে বাস করতে হবে না। চুক্তি ও প্রটোকল অনুযায়ী গত রাত ১২টা ১ মিনিটে উভয় দেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ১৬২টি ছিটমহল ওই দেশের ভূখ-ের সঙ্গে যুক্ত হলো। এর ফলে ইতিহাস হয়ে গেল ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপ’ হয়ে থাকা ছিটমহলগুলো।
শুধু ছিটমহলই নয়, গত রাত ১২টা ১ মিনিটে দুই দেশের সীমানায় থাকা ৫ হাজার ৪৪ একর বিরোধপূর্ণ (অপদখলীয়) ভূমিও বিনিময় হলো। এসব ভূমি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়। গত রাত থেকে দৃশ্যত তারও অবসান হলো। ছিটমহল ও অপদখলীয় ভূমি বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মানচিত্রও বদলে গেল।
দীর্ঘ ৬৮ বছরের কষ্ট আর নাগরিকত্বহীন জীবনের যন্ত্রণার অবসানে দুই দেশের ছিটমহলবাসী নানা কর্মসূচি পালন করছে। ঐতিহাসিক এ মাহেন্দ্রক্ষণ স্মরণীয় করে রাখতে দুই দেশের সব ছিটমহলে গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে ৬৮টি করে মোমবাতি বা প্রদীপ জ্বালানো হয়। এছাড়া ছিটমহলের সড়কগুলোয় মশাল জ্বালিয়ে রাখা হয়। ওড়ানো হয় ফানুস। এর মাধ্যমে অন্ধকার জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোর পথে যাত্রা করল ছিটমহলবাসী। রাত ১২টা ১ মিনিটে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলে ভারতীয় জাতীয় পতাকা নামিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি ভারতের পতাকা ওড়ানো হয় এতদিন বাংলাদেশের মালিকানায় থাকা ৫১ ছিটমহলে।
স্থলসীমানা চুক্তি এবং প্রটোকল অনুযায়ী ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলের ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর জমি বাংলাদেশের ভূখ-ে যুক্ত হলো। অন্যদিকে ভারতের ভেতরে অবস্থিত বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের ৭ হাজার ১১০ দশমিক ২ একর জমি ভারতের হয়ে গেল। এছাড়া বিরোধপূর্ণ (অপদখলীয়) ২ হাজার ২৬৭ দশমিক ৬৮২ একর জমি বাংলাদেশের ভূখ-ে যুক্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে ভারতের ভূখ-ে যুক্ত হয়েছে ২ হাজার ৭৭৭ দশমিক ৩৮ একর। এছাড়া আসামের লাঠিটিলা-ডুমাবাড়ী সীমান্তে অসীমানা চিহ্নিত ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার জমির মধ্যে ১২০ একর জমি (৩ কিলোমিটার) বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নতুন পাওয়া ভূমি দুদেশের মানচিত্রে মিলে যাবে। গত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলে বসবাসরত অধিবাসী বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে গেছেন। অন্যদিকে ভারতের ভেতরে অবস্থিত বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলে বসবাসরত অধিবাসী ভারতের নাগরিক হয়ে গেছেন।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের সভাপতি মঈনুল হক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল আমরা দুদেশের সরকারের কাছ থেকে পেয়েছি। এ আনন্দের শেষ নেই। অতিকষ্টে মা সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে যে আনন্দ পায় সে আনন্দ আমরা ছিটবাসী পাচ্ছি। আমরা এখন বাংলাদেশের নাগরিক।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি বাংলাদেশ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আলোকসজ্জা, আতশবাজি, তোপধ্বনি, মোমবাতি প্রজ্বালন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলাসহ উৎসব পালনের ৩ দিনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ১১১টি ছিটমহলের মধ্যে দাশিয়ারছড়া ছিটমহলটি বড় হওয়ায় সেখানে উৎসব পালনের মঞ্চ বানানো হয়েছে। এ ছিটমহলটির বিভিন্ন স্থানে বানানো হয়েছে ২৫টি তোরণ। রাতে ১১টি স্থানে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। ছিটমহলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নীল কমল নদীতে আয়োজন করা হয় নৌকাবাইচের।
ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির ভারত অংশের সভাপতি দীপ্তিমান সেনগুপ্ত ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, দীর্ঘ ৬৮ বছরের কষ্ট আর নাগরিকত্বহীন জীবনের যন্ত্রণার অবসানের প্রতীক হিসেবে দুই দেশের ছিটমহলবাসী অভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এ দিনটি হবে ছিটমহলবাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দিন ও উৎসবের রাত। এরপর প্রতিবছরই দিনটিকে স্মরণ করে ছিলমহলবাসী নানা কর্মসূচি পালন করবে।
এই ছিটমহল সৃষ্টি হয় মোগল আমলে। মোগল অধিকৃত এলাকায় কুচরাজ্যের অনুগত ছিল কিছু লোক। তাদের সে সময় বলা হতো রাজগীর। কুচরাজ্যের অধিকারভুক্ত এলাকায় মোগলদের কিছু লোক গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বসবাস করত। তাদের পরিচিতি ছিল মোগলাম নামে। এই দুই গোষ্ঠীর অনুগত বাসিন্দাদের সম্পত্তি চিহ্নিতকরণের জন্য সৃষ্টি হয় ছিটমহলের। সে সময় তিনটি পরগনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরগনাগুলো হচ্ছে কইকানা, পাটগ্রাম ও উত্তর পাটগ্রাম। উভয়পক্ষের চুক্তির মাধ্যমে ছিটমহলগুলো দেখভাল ও খাজনা আদায় করা হতো। সন্ধি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কুচবিহার মহারাজ্যের অনুগত রাজগীর প্রজাদের সম্পত্তিগুলো মোগল রাজ্যের ভেতরে কুচরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। কুচবিহারের এ ধরনের ছিটমহলের সংখ্যা ১১১টি। আর কুচবিহার রাজ্যের ভেতরে মোগলাম নামে পরিচিত মোগলদের অনুগত অধিবাসীদের মোগল রাজ্যের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ধরনের ছিটমহলের সংখ্যা ৫১টি।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ১৯৪৯ সালে ভারতের গভর্নর জেনারেলের সঙ্গে কুচবিহার মহারাজার চুক্তির ফলে করদরাজ্য কুচবিহার ভারতভুক্ত হয়। ফলে একই সঙ্গে ১১১টি ছিটমহলও ভারতের অধীনে চলে যায়। অন্যদিকে একই সময় কুচবিহারে অবস্থিত মোগলাম ৫১টি ছিটমহল পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৪৭ সালে বাংলা ও পাঞ্জাবের সীমারেখা টানার পরিকল্পনা করেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রিটিশ আইনজীবী সিরিল রেডক্লিফকে প্রধান করে সে বছরই গঠন করা হয় সীমানা নির্ধারণের কমিশন। ১৯৪৭ সালের ৮ জুলাই লন্ডন থেকে ভারতে আসেন রেডক্লিফ। ছয় সপ্তাহের মাথায় ওই বছরের ১৩ আগস্ট তিনি সীমানা নির্ধারণের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এর তিন দিন পর ১৬ আগস্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় সীমানার মানচিত্র। উত্তারিকার সূত্রেই উপমহাদেশের বিভক্তির পর ৬৮ বছর ধরে এই সমস্যা বয়ে বেড়ায় দুই দেশ। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ও ভারতের ভেতরে থাকা ১৬২ ছিটমহল বিনিময়সহ সীমান্তে ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যা সমাধানে ১৯৭৪ সালের ১৬ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে স্থলসীমানা চুক্তি হয়। যে চুক্তিটি ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকার সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনের মাধ্যমে অনুসমর্থন করে। কিন্তু ভারত সরকার চুক্তিটি অনুসমর্থন করে ৪১ বছর পর গত মে মাসে। পরে গত ৬ জুন ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে দুদেশের জাতীয় সংসদ কর্তৃক ১৯৭৪ সালের স্থলসীমানা চুক্তি ও ২০১১ সালে স্বাক্ষরিত প্রটোকলের অনুসমর্থনের দলিল বিনিময় হয়। বিনিময় হয় চুক্তি বাস্তবায়নের রূপরেখা। ওই রূপরেখা অনুযায়ী গত রাত ১২টা ১ মিনিটে সীমান্ত চুক্তি কার্যকর হয়।
ইতোমধ্যে দুদেশ ছিটমহলে নতুন জনজরিপ করেছে। জরিপকালে ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশি ৫১টি ছিটমহলের কোনো অধিবাসী বাংলাদেশে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তবে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলের ৯৭৯ জন ভারতে ফিরে যাওয়ার জন্য ফরম পূরণ করেছেন।
১৯৭৪ সালে মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির আর্টিকেল ১ এবং ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাওয়ার পথ হিসেবে তিনবিঘা করিডোর এক টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশকে স্থায়ী লিজ দিতে সম্মত হয় ভারত। বিনিময়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ বেরুবাড়ীর আড়াই একর জমি ভারতকে ছেড়ে দিতে হয়। চুক্তি অনুযায়ী দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা চলাচলের জন্য তিনবিঘা করিডোর ব্যবহারের অনুমতি পাওয়া গেলেও এর নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতের হাতে। পরে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর তিনবিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টার জন্য খুলে দেয় ভারত। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভারতের সাথে তিনবিঘা করিডোর সংক্রান্ত লিজ ডকুমেন্ট সই হয়নি। এছাড়া ফেনীর বিলোনিয়া সীমান্তের মুহুরী নদীর মধ্য¯্রােতে ২ কিলোমিটার সীমানা চিহ্নি?ত করার বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে গেল।
নিজ নিজ দেশের মূল ভূখ-ের সঙ্গে ১৬২ ছিটমহলের সরাসরি কোনো যোগাযোগ না থাকায় ৬৮ বছর ধরে সেখানে কোনো রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ছিল না। আরেক দেশের সীমানার ভেতরে হওয়ায় হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, স্কুল-কলেজ বা বিচার-প্রশাসনও ছিল না সেখানে। ফলে ছিটের বাসিন্দাদের ইচ্ছা থাকলেও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানোর সুযোগ ছিল খুবই সীমিত। অনেকেই বাংলাদেশি বা ভারতীয় ঠিকানা ব্যবহার করে লেখাপড়া করে আসছিল। ছিটবাসীদের ভাষায়, ৬৮ বছর ধরে তারা মিথ্যা আর বঞ্চনার সঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। ভারতে সব ছিটমহলের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলায় অবস্থিত। আর বাংলাদেশে ছিটমহলগুলো পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলায়। আজ সকাল ৬টায় ওই ৫ জেলার ছিটমহলগুলোয় স্থানীয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার কথা রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি নেই।
বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে দুই দেশের হাইকমিশনাররা বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে ৩০টি স্ট্রিপ ম্যাপে সই করেন। মুহুরীর চরের দুই কিলোমিটার এলাকার একটি স্ট্রিপ ম্যাপ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে ১ হাজার ১৪৪টি স্ট্রিপ ম্যাপে সই হয়। ২০১৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নতুন করে চিহ্নিত এসব সীমান্তে সীমানা পিলার বসাবে দুদেশ। দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী স্ট্রিপ ম্যাপ সইয়ের পর বলেন, এর মধ্য দিয়ে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হলো। ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ একে উল্লেখ করেন ‘এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে।

তাহসিনা সুলতানাজাতীয়
শুক্রবার মধ্যরাতে স্বাধীনতা উৎসব উদযাপন করল ১৬২ ছিটমহলের বাসিন্দারা। দাশিয়ার ছড়া, গারাতি, নাজিরগঞ্জ, পুটিমারী, বেহুলাডাঙ্গা, নাটোককাটা, খাগড়াবাড়ীসহ এতদিন ভারতভুক্ত থাকা ১১১টি ছিটমহলে উড়ল বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। এখন অবশ্য সেগুলো আর ছিটমহল নয়, সব বাংলাদেশেরই গ্রাম। রাত ১২টার পর ৬৮টি মোমবাতি জ্বালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিময় হলো ছিটমহলগুলো। পুড়েছে আতশবাজি। মোমবাতি জ্বালানো...