নিজস্ব প্রতিবেদক ।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উদ্বৃত্ত লবণ উৎপাদন করে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন কক্সবাজার উপকূল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাষিরা।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
এতে দেশের ভোক্তা ও শিল্পখাতে চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ লবণ মজুদ থাকবে বলেও আশা চাষিদের।

লবণচাষিরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি লবণ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন চাষিরা। আরো অন্তত ১৫ দিনের বেশি লবণ উৎপাদন করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ও যদি একইভাবে লবণ উৎপাদন হয় তাহলে নিশ্চিত উদ্বৃত্ত থাকবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) সূত্র ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানায়, চলতি মৌসুমে দেশে ভোক্তা ও শিল্পখাতে লবণের চাহিদা রয়েছে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিক দেশে লবণ উৎপাদন এলাকার ৬৪ হাজার ১৪৭ একর জমিতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ, কক্সবাজার সদরসহ কক্সবাজার উপকূল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপজেলায় লবণ উৎপাদনে নামেন লক্ষাধিক চাষি।

চাষ শুরু করার পর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১৩টি লবণ উৎপাদন মোকামের অধীনে লবণ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন।

বিসিকের গবেষণা কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, মৌসুম শেষ হবে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। ওই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন যেভাবে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে তা বিদ্যমান থাকতে হবে।

লবণচাষি সমিতির নেতারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন, উৎপাদন মৌসুমের শুরুতে লবণের ভালো দাম থাকলেও বর্তমানে প্রতিটি মোকামে লবণ উৎপাদন বেড়ে লবণের দাম কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন মাঠপর্যায়ের চাষিরা।

তাঁদের অভিযোগ, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লবণ উৎপাদন দিনের পর দিন বাড়ছে। কিন্তু দেশের বড় বড় মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে ভুল তথ্য দিয়ে এবারও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির পাঁয়তারা শুরু করেছে। যদি ভুল তথ্য উপস্থাপন করে সিন্ডিকেটরা এবারও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির সুযোগ পায় তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন চাষিরা।

বিসিক কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত লবণ উৎপাদন করা যাবে। এ সময় যদি প্রকৃতি বৈরি আচরণ না করে তাহলে লবণ উৎপাদন রেকর্ড গড়বে। তবে পুরোপুরিই তা নির্ভর করবে প্রকৃতির ওপর।’

বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইদ্রিস ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, চলতি মৌসুমে ১৩ কেন্দ্রের (মোকাম) অধীনে কক্সবাজার উপকূল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলার আংশিক এলাকার ৬৪ হাজার ১৪৭ একর জমিতে লবণচাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে চকরিয়া উপজেলার দরবেশকাটা মোকামে ১১ হাজার ৯৪১ একর, ডুলাহাজারা ইউনিয়নে ২০০ একর, খুটাখালী ইউনিয়নের ফুলছড়িতে ৩ হাজার ৮৫০ একর, মহেশখালী উপজেলার লেমশিখালী মোকামে ৬ হাজার ৬১৮ একর, উত্তর নলবিলা মোকামে ৬ হাজার ৫২৮ একর, গোরকঘাটা মোকামে ৩ হাজার ৮৭৭ একর, মাতারবাড়ি মোকামে ৫ হাজার ৫৮ একর, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী মোকামে ১ হাজার ৮৫৩.৭৪ একর, কুতুবদিয়া উপজেলার পূর্ব বড়ঘোনা মোকামে ৫ হাজার ৭৮৮ একর, টেকনাফের মোকামে ২ হাজার ৪৬৬ একর, কুতুবদিয়ার লেমশীখালী, কক্সবাজার সদরের চৌফলদণ্ডী ও মহেশখালীর মাতারবাড়িতে স্থাপিত লবণ প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৯৪.২৬ একর, সদর উপজেলার গোমাতলীর ৩ হাজার ৩০৮ একর, বাঁশখালী উপজেলার সরল ঘোনার প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৩৮৮ একর জমিতে লবণ উৎপাদন চলছে।

তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘চলতি লবণ উৎপাদন মৌসুমের শুরু থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১৫ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। বাকি যে সময় হাতে রয়েছে, সেই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উদ্বৃত্ত লবণ উৎপাদন হবে বলে আশা করছি আমরা।’

বাংলাদেশ লবণচাষি সমিতির নেতা হারুণুর রশিদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘মৌসুমের শুরু থেকে লবণ উৎপাদন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা লবণ উৎপাদনে দিনরাত কাজ করছেন। বিসিকের জরিপে লবণ উৎপাদনের চিত্র কম দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ের চাষিদের হিসাব মতে ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। বাকি যে সময়টুকু এখনো রয়েছে সেই সময় লবণ উৎপাদন ভালোভাবে করা গেলে তা উদ্বৃত্তই থাকবে।’

চকরিয়ার লবণচাষি শহীদুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের লবণশিল্পের সাথে জড়িয়ে আছেন অন্তত ৬ লাখ মানুষ। প্রতিবছর তাঁরা দেশে লবণ উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি করলেও কতিপয় মহল সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির চেষ্টা শুরু করে দেয়। যদি এ ধরনের কোনো পাঁয়তারা এবারও করা হয় তাহলে প্রান্তিক চাষিরা আর্থিকভাবে মার খাবেন।’ তাই বিদেশ থেকে লবণ আমদানির সুযোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে সরকার সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান এই লবণচাষি।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/05/101.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2018/05/101-300x254.jpgজান্নাতুল ফেরদৌস মেহরিনএক্সক্লুসিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক । আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উদ্বৃত্ত লবণ উৎপাদন করে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন কক্সবাজার উপকূল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাষিরা।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। এতে দেশের ভোক্তা ও শিল্পখাতে চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ লবণ মজুদ থাকবে বলেও আশা চাষিদের। লবণচাষিরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন,...