teachere-movement_163359
শিক্ষক আন্দোলনে অস্থির এখন দেশের পুরো শিক্ষাঙ্গন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকরা বেতন-ভাতা ও পদমর্যাদাসহ নানা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ঈদুল আজহার পরে তা আরও ‘কঠোর’ করার জন্য ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এ অবস্থায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে সারাদেশের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের মধ্যে। ৩৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ঈদের পরে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাবেন তারা।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশন-জটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্লাস না হলে ছাত্রছাত্রীদের সিলেবাস শেষ হবে না। আর সিলেবাস শেষ না হলে পরীক্ষাও পিছিয়ে যাবে। অন্যদিকে, গতকাল শনিবার ও আজ রোববার টানা দু’দিন দেশের সব সরকারি কলেজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা। বাধ্য হয়ে এই দু’দিনের সব পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও কোমর বেঁধে আন্দোলনে নেমেছেন। তারা দাবি পূরণ না হলে নভেম্বরে অনুষ্ঠি-তব্য প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে গতকাল শিক্ষামন্ত্রী প্রথমবারের মতো আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন, তাও সফল হয়নি।

অক্টোবর থেকেই শুরু হচ্ছে দেশের বিশ্ববিদ্যা-লয়গুলোতে অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। নভেম্বর ডিসেম্বর মাসজুড়ে রয়েছে কলেজগুলোর টেস্ট পরীক্ষা, বিদ্যালয়গুলোর চূড়ান্ত বার্ষিক পরীক্ষা ও জেএসসি, জেডিসি ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা। এমন সময়ে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের একযোগে আন্দোলনের কারণে মহাদুর্ভাবনায় পড়েছে ছাত্রছাত্রীরা। অভিভাবকরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলছেন, শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের প্রথম দুই মাস বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে এমনিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস শুরু হয়েছে বিলম্বে। সেই দুই মাসের ক্ষতি এখনও পুষিয়ে নেওয়া যায়নি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। এই দুই পাবলিক পরীক্ষার ফল-এ তার দারুণ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এখন শিক্ষাবর্ষের শেষ দুই মাসে এসে শিক্ষকদের এমন আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকটা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতোই দাঁড়িয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী তারানা তাবাসসুম তানহার বাবা শফিকুল ইসলাম শফিক ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, কঠোর বা নরম যে আন্দোলনই শিক্ষকরা করুন না কেন, তার ক্ষতি শিক্ষার্থীদেরই ভোগ করতে হয়। তাই শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে সরকার ও শিক্ষক উভয়েরই আলোচনায় বসা উচিত।

এদিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, চলমান শিক্ষক আন্দোলনকে আরও সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে সরকারবিরোধী কোনো কোনো পক্ষ থেকে। তারা এ আন্দোলন থেকে ‘সুফল’ তোলার চেষ্টা করছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, দেশে বড় ধরনের শিক্ষক আন্দোলন চললেও বিষয়টি যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল, সরকার সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না।

শিক্ষামন্ত্রীর বাসায় বৈঠক: এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষক আন্দোলন চললেও শুক্রবার দেশে ফিরে গতকাল শনিবারই প্রথম আন্দোলনকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। হেয়ার রোডের নিজ বাসায় নব্বই মিনিটের রূদ্ধদ্বার বৈঠক শেষেও পাবলিক বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে ‘নরম’ করতে পারেননি শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষকরা নিজেদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীকে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলনও চলমান থাকবে, সে সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুষ্ঠিতব্য অনার্স ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। এই বৈঠকে শিক্ষকদের চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব এএসএম মাকসুদ কামাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক খবির উদ্দিন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. এহসান। বৈঠক শেষে মন্ত্রী ও শিক্ষকরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে সঙ্গে কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম নাহিদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, শিক্ষকদের সঙ্গে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষকরা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সরকারও তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এ জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পেঁৗছাতে পারবেন। শিক্ষকদের মূল দাবি অনুযায়ী পৃথক বেতন কাঠামো করা হবে কি-না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরকার এটি প্রত্যাখ্যান করেনি। আলোচনা হবে। তবে শিক্ষকদের মর্যাদা কোনোভাবেই খাটো করে দেখা হচ্ছে না।

শিক্ষক নেতা ফরিদ উদ্দিন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকের বলেন, তাদের প্রথম ও প্রধান দাবি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো। এ দাবিতে আন্দোলনও চলবে, আলোচনাও চলবে। দাবি আদায় না হলে সামনের ভর্তি পরীক্ষা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এএসএম মাকসুদ কামাল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, পৃথক বেতন কাঠামোর জন্য অবিলম্বে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। ঈদের আগেই যেন একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আসে সে ব্যাপারে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

সভাসূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপত্তির কথা শুনে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘এর সঙ্গে বসতে পারব না, ওর সঙ্গে বসতে পারব না, দয়া করে এমন কথা বলবেন না। সবাই আমরা শিক্ষা পরিবারের সদস্য। সবার সঙ্গেই সবাই বসতে পারি। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নিয়ে সৃষ্ট সংকটের সম্ভাব্য সমাধান কী হতে পারে সে সম্পর্কে মতামত দিন।’ আসন্ন ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো, অষ্টম পে স্কেলের বৈষম্য দূরীকরণ ও পুনর্নর্ির্ধারণ, শিক্ষকদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠাসহ চার দফা দাবিতে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ভারতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অবস্থান রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রমের ১১তম। সচিবদের মর্যাদাক্রম ২৩তম। অতিরিক্ত সচিবের অবস্থান ২৪তম। ভারতীয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রমে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের অবস্থান ২৫তমে। ভারতে কেবল সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যরাই রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রমে স্থান পেয়েছেন। ভারতে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংখ্যা ৪৬টি। পুরো পশ্চিমবঙ্গে একটিমাত্র সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি রয়েছে- বিশ্বভারতী। ভারতে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিগুলোর উপাচার্যদের বেতন সাকুল্যে ৭৫ হাজার রুপি। তারা অতিরিক্ত ৫ হাজার রুপি দায়িত্বভাতা হিসেবে পেয়ে থাকেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বেতন ৯০ হাজার রুপি। সচিবের বেতন ৮০ হাজার রুপি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সচিবরা ভারতীয় বেতন কাঠামোর ‘এপেক্স স্কেল’ হিসেবে বিবেচিত হন। এটি বিশেষ স্কেল।

কর্মবিরতিতে অচল সরকারি কলেজ: সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল রাখার দাবিতে দেশের ৩০৫টি সরকারি কলেজ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরে গতকাল থেকে টানা দু’দিনের কর্মবিরতি শুরু করেছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। কর্মবিরতির প্রথম দিনে কলেজগুলোতে কোনো ক্লাস হয়নি। জানা গেছে, গতকাল সারাদেশের ২৭০টি সরকারি কলেজ, তিনটি আলিয়া মাদ্রাসা, ১৪টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ ও ১৬টি সরকারি কমার্শিয়াল কলেজে এ কর্মবিরতি পালিত হয়। শিক্ষকরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, বর্তমানে কলেজের অধ্যাপকরা (সর্বোচ্চ পদ) চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। সিলেকশন গ্রেড থাকায় এতদিন আংশিক অধ্যাপক গ্রেড-৩ পর্যন্ত যেতে পারতেন। কিন্তু সিলেকশন গ্রেড বাদ দেওয়ায় এখন এ পথ বন্ধ হয়ে গেল। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা গ্রেড-৫ থেকে পদোন্নতি পেয়ে সরাসরি গ্রেড-৩-এ উন্নীত হন। অথচ শিক্ষকদের বেলায় গ্রেড-৫ থেকে পদোন্নতি হওয়ার পর গ্রেড-৪-এ উন্নীত করা হয়। এই বৈষম্য নিরসনেরও দাবি করেন তারা।

সরকারি কলেজের শিক্ষকদের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, তাদের দাবি পূরণ না হলে ঈদের পর লাগাতার কর্ম?বিরতির মতো কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ঈদের পর ১৮ অক্টোবর শিক্ষা ভবনে তাদের অবস্থান কর্মসূচি আছে। এ সময়ের মধ্যে দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। শিক্ষকরা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকলে তারা বঞ্চিত হবেন। সপ্তম বেতন স্কেলে প্রতিটি টায়ারে সিলেকশন গ্রেড অথবা টাইম স্কেল থাকলেও অষ্টম বেতন স্কেলে নেই। এই সমিতির নেতা মাসুমে রাব্বানী খান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড না থাকলে প্রশাসন ক্যাডার ছাড়া অন্য সব ক্যাডারের সদস্যরা বঞ্চিত হবেন। তাদের আন্দোলন বঞ্চনার বিরুদ্ধে।

আন্দোলনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকরাও: ৭ দফা দাবিতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং বেতন গ্রেড ১১তম ধাপে পুনর্নির্ধারণসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন প্রাথমিক শিক্ষকরাও। প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাসরিন সুলতানা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেতন বৈষম্য কমিয়ে না আনা হলে তারা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সব দায়িত্ব পালন বর্জন করবেন। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও চরম বেতন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ধানমণ্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. ইনছান আলী। তার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনোয়ারুল ইকবাল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ যে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে, তাতে ওই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

শিক্ষাবিদরা যা বলেন: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আমলারা বেতন-ভাতার বাইরে ক্ষমতার চর্চা ও অন্যান্য অনেক সুযোগ-সুবিধা পান, যা শিক্ষকরা পান না। বর্তমানে শিক্ষকরা স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো ও মর্যাদা নিয়ে আন্দোলন করছেন। তবে এটা দুঃখজনক যে, তাদের আন্দোলনকে সরকারি মহলে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। চলমান সংকট উত্তরণে সরকারকে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে দাবিগুলোর যৌক্তিকতা অনুধাবন ও সমাধানের আহ্বান জানান তিনি। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, চলমান সংকটের সমাধান শিক্ষানীতিতেই রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কমিশন গঠনের কথা শিক্ষানীতিতে বলা আছে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের মূল দাবিও তাই।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শুরু থেকেই তাদের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারা আলোচনাও করছেন। কিন্তু সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা যতটা আকস্মিকভাবে আন্দোলনে নামলেন, তা যথাযথ হয়নি। তাদের প্রায় দ্বিগুণ বেতন বেড়েছে। এর পরও কোনো দাবি-দাওয়া থেকে থাকলে তারা তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারতেন। প্রথমে আলোচনা করতে পারতেন।

অথচ তারা তার কিছুই জানাননি। সরাসরি আন্দোলনে চলে গেছেন। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা থাকবে সবচেয়ে আতঙ্কে। তিনি শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আসুন আগে আলোচনা করুন। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা যাবে। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষা পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এই পরিবারের একজন কর্মী হিসেবে মন্ত্রী নিজেও শিক্ষকদের সঙ্গে থাকবেন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেটি নিশ্চিত করাই শিক্ষা পরিবারের সবার পবিত্র দায়িত্ব।

অর্ণব ভট্টজাতীয়
শিক্ষক আন্দোলনে অস্থির এখন দেশের পুরো শিক্ষাঙ্গন। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকরা বেতন-ভাতা ও পদমর্যাদাসহ নানা দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। ঈদুল আজহার পরে তা আরও 'কঠোর' করার জন্য ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এ অবস্থায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে সারাদেশের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের...