141flags_10248.141flags_102237
জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এমপিরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের তেমন একটা সম্পৃক্ত করছেন না। টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ চাল, গম ও টাকা বিতরণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে। এ নিয়ে সারা দেশে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানতে চাইলে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, জাতীয় পার্টি শক্ত ভূমিকা পালন করতে পারলে এমনটা হতো না। দেখা যাক ভবিষ্যতে কী হয়। জানা যায়, রংপুর-৩ আসনের এমপি জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার এলাকায় সব দলের নেতা-কর্মীরা সুবিধা পান। জানতে চাইলে রংপুর মহানগরীর আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, স্যার নিজেই এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বণ্টন করেন। পল্লী নিবাসে স্যারের অফিস আছে। এখানে যে কোনো দলের নেতা-কর্মীরা এসে আবেদন করতে পারেন। তিনি নিজেই তা দেখে বিবেচনা করেন। ময়মনসিংহ-৪ আসনের জাপার এমপি বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এলাকার উন্নয়নের প্রায় পুরো কাজই করেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। পার্টির নেতা-কর্মীরা উপেক্ষিত। বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর গত দেড় বছরে জেলায় একটা কর্মিসভাও করতে পারেননি তিনি। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চট্টগ্রাম-৫ আসনের এমপি। তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রী। তার এলাকার উন্নয়ন কাজ জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সমন্বয় করে করা হয়। চট্টগ্রাম-৫ আসনের এমপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। তার নির্বাচনী এলাকার বেশির ভাগ উন্নয়ন কাজ করেন জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা। পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি জাপার একটি বড় অংশ এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করেন। রুহুল আমিন হাওলাদার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। সমন্বয়ের মান দিন দিন বাড়ছে। ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। তার এলাকায় রয়েছেন সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের এমপি সানজিদা খানম। যার যার মতো কাজ করেন। তবে শ্যামপুর শিল্পএলাকার বর্জ্য মালামাল ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ বাবলা গ্রুপ ও সানজিদা গ্রুপ সমানভাবে করে। জাতীয় পার্টির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। তিনি এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় উন্নয়ন কমিটি করেছেন। এসব কমিটি দিয়ে উন্নয়ন কাজ করান। জাতীয় পার্টিসহ যে কোনো দলের নেতা-কর্মী সরাসরি তার সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলতে এলে তিনি উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে আসতে বলেন। নীলফামারী-৪ আসনের এমপি সাখাওয়াত চৌধুরী। চাইলেও তিনি আওয়ামী লীগের বাধায় জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের কাজ দিতে পারেন না। এলাকায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় এ অবস্থা। সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার রংপুর-১ আসনে জাপার দুটি গ্রুপ বিদ্যমান। রাঙ্গার সঙ্গে জাপার ছোট একটি অংশ এবং বাকি কাজ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী দিয়ে করান। কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি তাজুল ইসলাম চৌধুরী আওয়ামী লীগ ও জাপার ছোট একটি অংশ দিয়ে কাজ করান। কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এ কে এম মাইদুল ইসলাম আওয়ামী লীগের বাধায় অনেকটা কোণঠাসা। সিলেট-২ আসনের ইয়াহিয়া চৌধুরী অর্ধেক অর্ধেক করে আওয়ামী লীগ ও জাপার মধ্যে বণ্টন করে কাজ করান। জামালপুর-৪ আসনের ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশিদ ৭০ ভাগ কাজ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দিয়ে করান। ময়মনসিংহ-৫ আসনের সালাউদ্দিন মুক্তির এলাকায় জাপার সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় উন্নয়ন কাজ করেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। ময়মনসিংহ-৫ আসনের এম এ হান্নান শুরুর দিকে আওয়ামী লীগকে কাজ দিতে চাইতেন না। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার নাম আসায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয় করে পথ চলতে চাইছেন। নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমান এমপি নির্বাচিত হন। মাঠপর্যায়ের জাপার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা খুব কম। এলাকার অধিকাংশ উন্নয়ন কাজ আওয়ামী লীগ করে। তবে সেলিম ওসমানের অনুসারী জাপার কয়েকজন নেতা ছিটেফোঁটা ভাগ পান। ঢাকা-১ আসনের অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীকে কাজে প্রাধান্য দেন। কুমিল্লা-২ আসনের আমির হোসেন আওয়ামী লীগের বাধায় চাইলেও তেমন একটা জাপা নেতা-কর্মীদের কাজ দিতে পারেন না। ময়মনসিংহ-৮ আসনের এমপি খফরুল ইমাম। এলাকায় প্রায় কাজই আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা করেন। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মজিবুল হক চুন্নু। তিনি শ্রম প্রতিমন্ত্রী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এমপি জিয়াউল হক মৃধা। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করে কাজ করেন। সুনামগঞ্জ-৪ আসনের এমপি পীর ফজলুর রহমান। তিনি আওয়ামী লীগ ও জাপা নেতা-কর্মীদের মাঝে সমানভাবে কাজ বণ্টন করেন। সিলেট-৫ আসনের এমপি সেলিম উদ্দিন। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদের গত সোমবার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, এটা স্বাভাবিক ঘটনা যে জাতীয় পার্টির এমপিরা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা দেবেন। একটি ‘আওয়ামী লীগকে রক্ষা কর আর অন্যটি আওয়ামী লীগ ঠেকাও।’পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সোমবার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, তিনি এমপিদের দলকে শক্তিশালী করার জন্য কাজে লাগাচ্ছেন।

নৃপেন পোদ্দারজাতীয়
জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির এমপিরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের তেমন একটা সম্পৃক্ত করছেন না। টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ চাল, গম ও টাকা বিতরণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে। এ নিয়ে সারা দেশে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।...