83896_e1
দু’দিন বাদেই ঈদ। আর এই ঈদকে ঘিরে সর্বত্র চলছে নানা পরিকল্পনা, আয়োজন। আমাদের শোবিজ তারকারাও পিছিয়ে নেই এক্ষেত্রে। সেসব নিয়েই তারকাদের নিজ বয়ানে এ প্রতিবেদন।
আমরা এবার ঈদ করবো কাতারের রাজধানী দোহায়। সেখানে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৭ই জুলাই কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবো। ১৮ এবং ১৯শে জুলাই সেখানে অবস্থান করে ২০শে জুলাই দেশে ফিরবো। ১৯শে জুলাই ঈদ হলে আমাদের ঈদটা সেখানেই করতে হবে। মা-বোন, ছেলেমেয়েকে রেখে বিদেশে ঈদ করতে খুব একটা ভাল লাগবে না। তবে হাজার হাজার প্রবাসী বাঙালি ভাইবোনকে আনন্দ দিতে পারবো বলে তাদের সঙ্গেই ঈদ করবো। প্রবাসী ভাইবোনেরা আমাদের অনেক ভালবাসেন। তাদের আনন্দ দিতে পারলেই আমাদের ঈদের আনন্দটা পরিপূর্ণ হবে। দেশে ফিরেই পরিবার-পরিজন নিয়ে টানা কয়েকদিন আনন্দ করবো। এ কয়েক দিনের পুরো সময়টাই তাদের দেবো।
রিয়াজ
ঈদ এবার ঢাকাতেই করবো। এবারের ঈদ আমাদের জন্য অন্যরকম অনুভূতি নিয়ে আসছে। এই প্রথম ঈদ করবো আমার মেয়ে আমিরা সিদ্দিকীকে নিয়ে। বলা যায় অন্যরকম একটা ঈদ হবে। অবশ্য প্রতিদিনই আমাদের বাসায় ঈদের আনন্দ বইছে। মেয়েটা চোখের সামনে বেড়ে উঠছে। দিনে দিনে তার বেড়ে ওঠা চোখে দেখছি, মুগ্ধ হচ্ছি। মেয়ের জন্য বাসা থেকে বের হতে ইচ্ছা করে না। মনে হয় সব সময় ওর পাশে থাকি। মেয়েকে নিয়ে এবারের ঈদটা হবে আমার জীবনের সেরা ঈদ।
জাহিদ হাসান
আমি ঈদটা সব সময় মায়ের সঙ্গেই করতাম। কিন্তু এই প্রথম মাকে ছাড়া ঈদ করতে হবে। কারণ মা এখন পরপারে। ঈদের দিন মায়ের কাছে থাকাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দের ছিল। এবারও প্রতিবারের মতো ঈদে নিজ বাড়ি সিরাজগঞ্জেই থাকবো বলে ঠিক করেছি। মায়ের হাতের রান্না খেতে আমি খুব ভালবাসি। কিন্তু এবার আর সেটা হচ্ছে না। বলা চলে ঈদ যেমন সবার জন্য আনন্দের, আমার কাছেও তা। কিন্তু মা বিহীন ঈদ কতটা আনন্দে পার করতে পারবো সেটা জানি না।
হাবিব ওয়াহিদ
আমার ঈদ ঢাকাতেই করা হয় বেশির ভাগ। এবার ঈদেও ঢাকাতেই থাকছি। পরিবারের সঙ্গেই ঈদটা কাটাবো। বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের বাসায়ও যেতে পারি। আসলে কোন পরিকল্পনা থাকে না ঈদে। তবে রোজা এলেই তো কেনাকাটা শুরু হয়ে যায় বাসায়। আমেজটা তখনই অনুভব করি। আমি যখন যা মন চায় ঈদের দিন সেটাই করবো।
তিশা
ছোটবেলায় ঈদের সময় অনেক ঘুরতাম। কিন্তু এখন আর সেভাবে ঘোরা হয় না। আসলে পারি না। আমার কাজের চাপ তো আছেই, ফারুকীরও একই অবস্থা। একসঙ্গে অবসর তেমন একটা মিলে না বললেই চলে। তবে বিয়ের আগে একভাবে ঈদ করতাম, এখন অন্যভাবে করি। আগে ছিলাম মায়ের মেয়ে, এখন বাড়ির বউ। দায়িত্বও তাই একটু বেশি। তবে আমি ঢাকাতেই ঈদ বেশি করি। এবারের ঈদটাও ঢাকাতেই করব। ঈদের দিন শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যাব। আম্মার সঙ্গেও দেখা করব। আড্ডা হবে, খাওয়া-দাওয়া হবে। তবে ঈদের পরপরই শুটিং শুরু হয়ে যায়। তাই অবসর খুব বেশি মিলছে না।
অপূর্ব
আমি ঈদে ঢাকাতেই থাকি। ঈদে বন্ধুদের নিয়ে ঘোরার বেশ কিছু মজার স্মৃতি আছে। আগে তো পড়াশোনার চাপে সচরাচর কোথায় ঘুরতে যাওয়া হতো না। ঈদ এলে সেই সুযোগটা পেতাম। ঈদের সময়টা আমার জন্য একেবারে আলাদা। সারাদিন শুধু ঘুরে বেড়াতাম। ঢাকার অলিগলি চষে বেড়াতাম। বাবার কাছ থেকে কিছু পকেটমানি নিয়ে নিতাম। সেলামির টাকা তো থাকতোই। খুঁজে খুঁজে বের করতাম কাকে সালাম করে সালামি পাওয়া যায়। সেই টাকা নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হতাম। ঘুরতে ঘুরতে পছন্দের খাবার কিনতাম। তবে ঢাকার বাইরে ঘুরতে যাওয়া হতো না। এবারের ঈদটাও ঢাকায় করবো। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে হয়তো যাবো।
জাকিয়া বারী মম
ছোটবেলায় প্রতি ঈদেই নানাবাড়ি বেড়াতে যেতাম। কাজিনদের সঙ্গে ড্রেস নিয়ে প্রতিযোগিতা চলত। জামা-কাপড়ের তুলনায় ঈদের জুতার ব্যাপারে আমার একটু বেশি আগ্রহ ছিল। অন্যগুলো আর যা-ই হোক, যেনতেন জুতা আমি কখনোই নিতাম না। পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে জুতা কিনতাম। কেউ জুতায় হাত দিলে রঙ নষ্ট হওয়ার ভয়ে আমি নতুন জুতা নিয়েই রাতে ঘুমাতাম। ঈদের দিন নানাবাড়িতে বেড়াতে গেলে অনেক মজা হতো। সবাই একসঙ্গে টিভি দেখাতাম, বাইরে ঘুরতে যেতাম, বিভিন্ন খাবার খেতাম। এখনতো ঈদের আনন্দ আর সেরকম অনুভব করি না। তবে এবারের ঈদটা ঢাকায় করব। এ দিন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরা বাসায় আসবে। আমিও সময় সুযোগ মিলে গেলে হয়তো ঘুরতে বের হবো।
বন্যা মির্জা
ঈদের আনন্দগুলো দিনে দিনে বোধহয় বদলে যায়। আমার মনে হয় ঈদটা এখন আর কোন ছোট শিশুদের কাছেও খুব একটা আনন্দের ব্যাপার নেই। আমরা একটা নতুন জামা পেলেও খুব খুশি হতাম। এই বিষয়গুলোও এখন বদলে গেছে। ওই একটা নতুন জামা পরার যে আনন্দ, সেটা এখন আর কারও জীবনেই কি আছে? ঈদের আনন্দ বরং আগের থেকে এখন কমে গেছে। এটা শুধু ঢাকায়ই নয়, মফস্বলেও। আসলে একটা অভাববোধ আছে। সেটা টাকার নয়, কিছু একটা না থাকার অভাববোধ। সে যাই হোক, ঈদ এলে তো নতুন পোশাক কেনা হয়ই। বাসায় মজার মজার রান্না হয়। আমি নিজেও অনেক আইটেম করি। এবারও পরিবার নিয়ে ঈদ ঢাকাতেই করবো।
সজল
এবারের ঈদ কাটাব ঢাকায়। চাঁদরাত পর্যন্ত হয়তো নাটকের শুটিং থাকবে, তাই ঈদের দিনটিও কাটাতে হবে ক্লান্তি নিয়ে। আমার ঈদগুলো এমনভাবেই কাটে। সকালে ঘুম থেকে উঠে নতুন পাঞ্জাবি পরে নামাজে যাবো। ওখান থেকে ফিরে কিছু খেয়ে লম্বা ঘুম দেবো। এরপর বিকালে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় যোগ দেবো। ওই আড্ডা শেষ হবে গভীর রাতে। বাসায় ফিরে টিভির সামনে বসবো ঈদ অনুষ্ঠান দেখার জন্য।
ন্যান্‌সি
এবারের ঈদ ময়মনসিংহে করবো। আমার স্বামী ও দুই মেয়েসহ আমি আগেই এখানে চলে এসেছি। ঢাকায় কাজ থাকলে কেবল যাচ্ছি। ময়মনসিংহে ঈদে অনেক মজা হয়। দুই মেয়ের শপিং এখন চলছে। আমি নিজেও টুকটাক কিনছি। আর এবারের ঈদে বিভিন্ন খাবারের পাশাপাশি আমি এক্সপেরিমেন্টাল আইটেমও তৈরি করবো। কারণ, আমি গত ছয় মাস ধরে খাঁটি রাধুনি হবার চেষ্টা করছি। অনেক আইটেম শিখেছি। সেগুলো ট্রাই করছি। এবার ঈদে একটু বেশি আইটেম তৈরির চেষ্টা থাকবে। আর ঈদের দিন বাসায় থাকবো। হয়তো বিকালের দিকে বাইরে বের হতে পারি।
কনা
ঢাকাতেই ঈদ করবো। তবে বিকালের দিকে দাদার বাড়ি গাজীপুরে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। ঈদ মানেই অবসর। ব্যস্ততার মাঝে যেটুকু অবসর সময় কাটাতে পারি, তার পুরোটুকুই আমার ভাল লাগার মুহূর্তের মধ্যে পড়ে। ঈদের এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।
হৃদয় খান
দেশের বাইরে না গেলে ঈদ ঢাকাতেই করি। আগের মতো করে ঈদের আনন্দটা আর অনুভব করি না। ছোট থাকতে অনেক আনন্দ করতাম। দাদুর বাড়ি যেতাম। সেখানে কাজিনরা মিলে ঘুরতাম। এখন ঢাকাতেই ঈদ করা হয়। এবারও তাই করবো। সকালে ঈদের নামাজ পড়বো। এরপর খাওয়া-দাওয়া ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েই কাটবে ঈদ।
মাহিয়া মাহি
এবার যেহেতু ঈদে আমার ‘অগ্নি-২’ ছবি মুক্তি পাচ্ছে, তাই ঈদটাও বিশেষ। কিভাবে ছবিটি দর্শক নেয় সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। আর আমি ঈদ গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে করি। এবারও সেটা করবো। হাতে অনেক কাজ থাকলেও গ্রামে আসার সুযোগটা মিস করতে চাই না। ছুটি মিলেছে সব মিলিয়ে মাত্র কয়েক দিন। এই সময়টা পরিবারের সবার সঙ্গে কাটাবো। পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর মজাই আলাদা।
মিথিলা
শৈশব থেকেই ঈদ ঢাকায় করি। তখন আমার একটা অভ্যাস ছিল, ঈদের সকালে সেমাই খেয়েই দৌড় দিতাম দাদির বাড়ি। সেখান একটু সেমাই খেয়েই আবার ছুটতাম ফুফুর বাড়ি। ঈদে আর কোথায় যাওয়া হোক বা না হোক এই দুই বাড়িতে আমার যাওয়া চাই-ই চাই। তখন স্কুল ছুটি থাকত বলে পড়াশোনার বালাই ছিল না। তাই ফুফুর বাড়িতেই কয়েক দিন থেকে যেতাম। ফুফাতো ভাইবোনদের সঙ্গে গল্প করতাম। সকালে ফুফুর কাছে বের হওয়ার জন্য বায়না ধরতাম। ফুফুও আর না করতেন না। আমাদের নিয়ে শিশুপার্কে ঘুরে বেড়াতেন ফুফু। খুব মজা করতাম। চার দেয়ালের বন্দি জীবনের পর একটু ঘুরতে কার না ভাল লাগে! এখন আর ছোটবেলার মতো ঘুরতে না পারলেও মজা কম হবে না। তাহসান ও আমার ছোট্ট মেয়ে আয়রাকে নিয়েই ঈদটা কাটবে।
মৌসুমী হামিদ
ঈদের দিনটা আমার কাছে অন্য রকম। ছোটবেলায় এই দিনটির জন্য মুখিয়ে থাকতাম। নতুন জামা পরে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে বের হতাম। আত্মীয়স্বজনের বাসায় বেড়াতে যেতাম। আমাদের বাড়িটাও আত্মীয়স্বজনে গিজগিজ করতো। সমবয়সী কাউকে পেলেই তার সঙ্গে খেলতাম। প্রতিবারের মতো এবারের ঈদটাও গ্রামের বাড়ি খুলনাতে করবো। সারা বছর যেখানেই থাকি না কেন, ঈদে আমাকে খুলনায় যেতে হবেই। একবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। শুটিং থাকলে তা বাতিল করে হলেও খুলনায় যাই। এবার গ্রামে গেলে বেশ কিছু জায়গায় ঘোরার পরিকল্পনা আছে। আমার বয়সী অনেক বন্ধু আছে সেখানে। ওরা আমার পথ চেয়ে থাকে। ঈদ ছাড়া তো আর সচরাচর গ্রামে যাওয়া হয় না।
নিরব
এবারের ঈদটা আমার কাছে আলাদা। কারণ, প্রথমবার স্ত্রীসহ এবার ঈদ করবো। ওর হাতের খাবার খাবো। আমি প্রতিবারই পরিবারের সঙ্গেই ঈদ করি। এবারও ঢাকায় সবার সঙ্গে ঈদ করবো। আর ঈদে ঢাকার বাইরে খুব কমই যাওয়া হয়। ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় ঈদ করি আমার পরিবারের সঙ্গে। ঈদে সবচেয়ে মজার মুহূর্ত হলো বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে মিলে ঈদের নামাজ পড়া। এটাই আমার কাছে ঈদের সবচেয়ে বেশি আনন্দের বিষয়। আর ঘোরাঘুরি, খাওয়া দাওয়া, টিভি অনুষ্ঠান দেখাতো রয়েছেই।
মেহজাবিন
ঢাকাতেই ঈদ করবো। বন্ধুদের সঙ্গে বিকালে বেড়াতে যাবো। আমার ঈদ আনন্দ ঢাকার ফাঁকা রাস্তা। বন্ধুবান্ধব নিয়ে লংড্রাইভে বের হবো। অবসর বা ছুটিতে লংড্রাইভে যাওয়ার ইচ্ছে সব সময় জাগে মনে। কিন্তু ঢাকার যে জ্যাম তাতে এই ইচ্ছেটা মনের মধ্যে সুপ্ত বাসনা হিসেবেই রেখে দিতে হয়। ঈদের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করার সুযোগ পাওয়া যায়।

হীরা পান্নাবিনোদন
দু’দিন বাদেই ঈদ। আর এই ঈদকে ঘিরে সর্বত্র চলছে নানা পরিকল্পনা, আয়োজন। আমাদের শোবিজ তারকারাও পিছিয়ে নেই এক্ষেত্রে। সেসব নিয়েই তারকাদের নিজ বয়ানে এ প্রতিবেদন। আমরা এবার ঈদ করবো কাতারের রাজধানী দোহায়। সেখানে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৭ই জুলাই কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবো। ১৮...