1442816108
উৎসবের ছোঁয়া কি কেবল পোশাক-আশাকেই লাগবে? ঈদের দিনে ঘরে অতিথির সমাগম হবেই। তাই ঘরের সাজসজ্জাতেও নিয়ে আসা চাই ঈদের আমেজ। সেই সঙ্গে নিজেকেও আরও একটু সজীব করে রাখতে গৃহসজ্জা একটা আলাদা আবেদন রাখে। চারপাশ অগোছালো রেখে ঠিক মতো কাজেও মন বসে না। উৎসবের গৃহসজ্জা গতানুগতিক থেকে একটু অন্যরকম হলেই ভালো লাগে। তবে এর জন্য খুব বেশি বাজেট রাখার প্রয়োজন নেই।

ঘরে পুরানো আসবাব গুলোকেই একটু নতুন করে সাজান। হাতে সময় থাকলে কাঠের আসবাবে রঙ করিয়ে নিতে পারেন। এত দিন সেগুলো ঘরে যে ডিজাইনে ছিলও সেখান থেকে অন্য কোনো জায়গায় সেট করে দেখুন ভালো লাগবে।

নিত্যদিনের পুরানো পর্দাগুলো যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে সেগুলো এক সপ্তাহ আগে থেকেই ধুয়ে ফেলুন। অথবা যদি অন্য আরেক সেট থাকে তবে সেটা ব্যবহার করুন। আর পুরো বাড়ির পর্দা বদলানো না গেলে শুধু বসার ঘরের পর্দা বদলাতে পারেন। সোফার কাভার আর ফ্লোরের টাইলসের সঙ্গে মিল রেখে পর্দা সিলেক্ট করুন। হাল্কা রঙয়ের নেটের পর্দা সব কিছুর সঙ্গেই ভালো মানিয়ে যাবে । বেড রুমে গ্রামীণ চেকের পর্দা লাগালে নিমিষেই প্রকৃতির ছোঁয়া পাবেন। পর্দা বানানোর ক্ষেত্রে দরজার ডিজাইনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

1442816108_0
এক পাল্লার কাঠের দরজা হলে দুই পাটি করে কম কুচি দিয়ে পর্দা বানান। খুব বেশি ডিজাইনের পর্দা দরজার সঙ্গে ভালো নাও লাগতে পারে। দরজার পেলমেট যদি কাঠের হয় তখন এর ওপর ডিজাইন করে আলগা কাপড় ঝুলিয়ে দিলে অন্যরকম একটা লুক আসবে। এখন অবশ্য অনেক শৌখিন বাসাতেই স্লাইডিং করা কাঁচের জানালা দরজা থাকে। সে গুলোতে ভারি পর্দা লাগাতে হবে। বাজারে অনেক ধরনের পর্দা পাওয়া যায় – থাইকটন, ওয়েভিং, সিল্ক, কোরিয়ান পর্দা ছাড়াও আপনার পছন্দ মতো কয়েক ধরনের কাপড় কিনে পর্দা বানাতে পারেন।

বসার ঘর সাজাতে এই গরমে আপনি ফ্লোরে রঙিন শতরঞ্জি ব্যবহার করতে পারেন। এতে যেমন ঘরে একটা নান্দনিকতা আসবে সেই সঙ্গে ঘরে শীতলতাও থাকবে। বসার ঘরের পাসেই যদি খাবারের টেবিল থাকে তবে সেখানে একটু আড়াল রাখতে ঝুলিয়ে দিতে পারেন নান রকম কাপড় আর পুতির তৈরি জয়পুরি ঝাড়। সেগুলোর মাঝে মাঝে বসিয়ে দিন দু’তিনটা ভিন্ন আওয়াজের চাইম। হালকা টুং টাং শব্দে ঘরময় একটা সুরের আমেজ ছড়িয়ে থাকবে।
1442816108_1
ঘর সাজাতে ব্যবহার করতে পারেন ইনডোর প্ল্যান্ট। ঘরের ভেতর নানা রকম পাতা বাহারের গাছ অনায়াসেই রাখা যায়। সেক্ষেত্রে মাটির সুন্দর ডিজাইন করা টবে গাছগুলো রাখুন। কিছুদিন পর আবার সেগুলোকে বাইরে রেখে দিন। তাতে গাছগুলো তরতাজা থাকবে।

ঈদের দিনে মেহমান তো আসবেনই। খাবারের আয়োজন অনেক করলেন এর সঙ্গে খাবার টেবিলটাও সাজিয়ে রাখুন। ডিজাইন করা টিস্যু বক্সে টিস্যু রাখুন, পাশেই একটা ফলের ঝুড়ি চাইলে রাখতে পারেন। তাতে ডিজাইন করে কোনো ফল বা সবজি কেটে রাখুন। বেসিনে সাবান রাখলে একটা ফ্লোরাল সোপ কেস রাখলে সুন্দর লাগবে ।
1442816108_2
অতিথিকে অভ্যর্থনা জানাতে দরজার সামনে বড় মাটির পাত্রে অর্ধেক পানি দিয়ে কিছু ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে নিন। তারপর ভাসিয়ে দিন কয়েকটি ভাসমান মোম। খুশির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে যাবে মোমের নরম আলো। পাশাপাশি মায়াবী আলো-আঁধারি সন্ধ্যার পরিবেশে নিয়ে আসবে চমৎকার আবেদন।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/1442816108_1.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/1442816108_1-300x300.jpgঅর্ণব ভট্টলাইফ স্টাইল
উৎসবের ছোঁয়া কি কেবল পোশাক-আশাকেই লাগবে? ঈদের দিনে ঘরে অতিথির সমাগম হবেই। তাই ঘরের সাজসজ্জাতেও নিয়ে আসা চাই ঈদের আমেজ। সেই সঙ্গে নিজেকেও আরও একটু সজীব করে রাখতে গৃহসজ্জা একটা আলাদা আবেদন রাখে। চারপাশ অগোছালো রেখে ঠিক মতো কাজেও মন বসে না। উৎসবের গৃহসজ্জা গতানুগতিক থেকে একটু অন্যরকম হলেই...