1437153540
ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই খুশি। আর ঈদের এই আনন্দে আলাদা মাত্রা এনে দেয় নানান স্বাদের খাবার। রমজানের একমাস ভোর রাতে সেহেরি খাওয়ার পর একবারে খাওয়া হয় সন্ধ্যায় তথা ইফতারে। একমাসে শরীর এই নিয়মের সঙ্গে অভ্যস্থ হয়ে যায়। তাই ঈদের সকালে হুট করে নিয়ম ভাঙলে কিছুটা অস্বস্তি অনুভূত হতেই পারে। কাজেই সুস্থ থাকতে ঈদের দিন খাবার গ্রহণে সতর্ক থাকুন। এ দিন সকালে নাস্তায় প্রথমেই ভারি খাবার এড়িয়ে চলুন। শুধু তাই নয়, এদিন একসঙ্গে বেশি খাবারও খাবেন না। তা না হলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ফাস্ট কেয়ার হসপিটালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, এক মাসের নিয়ম ভেঙে আবার আগের নিয়মের সঙ্গে অভ্যস্থ হতে শরীরের কিছু সময় লাগে। তাই ঈদের দিন শুরু করা উচিত হালকা নাস্তা খেয়ে। তবে একসঙ্গে বেশি খাবার না খেয়ে কিছুক্ষণ পর পর খেলে ভালো হয়।

তিনি বলেন, শারীরিক অবস্থা বুঝে খাবার খাওয়া উচিত। যাদের ডায়াবেটিস, প্রেশার বা হার্টের সমস্যা আছে তাদের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সচেতন হওয়া উচিত।

কাজেই সুস্থ থাকতে ঈদের দিন খাবারে কিছু স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলুন-

# বেশি মাংস এবং অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খেলে হঠাৎই পেটব্যথা এবং বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই এসব আবার পরিমিত খাওয়াই ভালো।

# উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার ঢেঁকুর এবং বমি বমি ভাব ঘটাতে পারে। তাই ঈদের দিন এসব খাবারও এড়িয়ে চলুন।

# সারা দিন অন্তত ৩ লিটার পানি পান করুন।

# যেসব খাবার গ্রহণে বুকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে সেসব খাবার পরিহার করুন। এসবের মধ্যে বেশি মশলাযুক্ত খাবার, পেঁয়াজ, রসুন, কফি, মরিচ, চকোলেট, অ্যালকোহল প্রভৃতি।

# সুস্থ থাকতে পানি জাতীয় ও ভিটামিন-সি যুক্ত ফলমূল খান।

# এ দিন ফলের জুস বা ডাবের পানি শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তাই এগুলো বেশি করে খাওয়ার চেষ্টা করুন।

# মাথাব্যথা হলে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। প্রয়োজনে প্যারাসিটামল গ্রহণ করুন।

# মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং পরিশোধিত রুটি পরিহার করুন। এগুলো মস্তিষ্কের উত্তেজনা সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদান ‘ট্রিপটোফ্যান’ নিঃসরণ করে। তাই এ গরমে আপনি হঠাৎই অসুস্থ হতে পারেন।

# বাইরের খাবার খাওয়ার আগে অবশ্যই তা স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা ভালোভাবে দেখে নিন।

# আপনার পছন্দনীয় স্বল্প চর্বি, স্বল্প ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন। চেষ্টা করবেন হালকা খাবার খেতে, কারণ হালকা খাবার কেবল পাকস্থলীর সমস্যাকেই প্রতিরোধ করে না, তা খাদ্যের ক্যালরিকে চর্বিতে রূপান্তর হওয়া কমিয়ে দেয়।

# ঈদের দিন কোমল পানীয় কম খাওয়াই ভালো।

# হঠাৎ ডায়রিয়া বা পেটে সমস্যা হলে ওরস্যালাইন খান।

ঈদে একসঙ্গে বেশি না খেয়ে, কিছুক্ষণ পরপর খাওয়া ভালো। এতে শারীরিক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এছাড়া্ ঈদের দিন বেশি রোদে ঘোরাঘুরি না করাই বেশি ভালো। কাজেই সুস্থ থাকতে উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন। সুস্থ থাকুন।

শুভ সমরাটঅন্যান্য
ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই খুশি। আর ঈদের এই আনন্দে আলাদা মাত্রা এনে দেয় নানান স্বাদের খাবার। রমজানের একমাস ভোর রাতে সেহেরি খাওয়ার পর একবারে খাওয়া হয় সন্ধ্যায় তথা ইফতারে। একমাসে শরীর এই নিয়মের সঙ্গে অভ্যস্থ হয়ে যায়। তাই ঈদের সকালে হুট করে নিয়ম ভাঙলে কিছুটা অস্বস্তি অনুভূত হতেই...