1_108138
পদে পদে ভোগান্তি। অসহনীয় যানজট, পরিবহন সংকট, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি, পকেটমার ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য- এমন নানা ভোগান্তি নিয়ে ছুটছে মানুষ আপন ভুবনে। ফলে সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শেষ কর্মদিবসের আগে গতকাল বিকাল থেকে স্টেশনে টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে।
দুই দিন পেরোলেই ঈদুল আজহা। এবার ধরতে হবে বাড়ির গাড়ি। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না কার বিকালে। ভোর থেকেই বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, ট্রেন স্টেশনে যাত্রী ভিড় জমে উঠে। যারা আগে টিকিট পেয়েছেন তারা নিশ্চিন্তে পরিবার-পরিজন নিয়ে সিটে বসেই রওনা হয়েছেন বাড়িমুখে। টিকিট যারা পাননি তারাও কেউ থেমে থাকেননি। ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়েই ছুটে গেছেন বাস টার্মিনাল-লঞ্চ স্টেশনে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঘরমুখো মানুষজন উঠে বসেছেন বাস-ট্রেনের ছাদে ছাদে। গতকাল কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, স্টেশন চত্বর আর প্লাটফর্মে ঘরমুখো মানুষের স্রোত বইছে। স্টেশনে ট্রেন পৌঁছা মাত্রই সেদিকে ছুটে যাচ্ছেন। কমলাপুর স্টেশনে প্রতিটি ট্রেনেই অতিরিক্ত যাত্রী উঠেছে। ছাদে, ইঞ্জিনে, দরজার হাতলে ঝুলে মানুষ ছুটে গেছে। অনেকে জীবনে ঝুঁকি নিয়ে দুই বগির সংযোগস্থলে বসেছেন। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-কালিয়াকৈর ও আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ছাড়াও সড়কের বেহাল অবস্থা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করার কারণে এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া যানজটে সড়কগুলোতে থেমে থেমে যানবাহন চলছে। যানজট নিরসনে পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। অব্যবস্থাপনায় সড়কে দীর্ঘ যানজট, খানাখন্দে ভরপুর রাস্তা আর যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনেও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে গরুবোঝাই ট্রাকের ভিড়, খানাখন্দে ভরপুর সড়ক বাড়তি গাড়ির চাপ নিতে পারছে না। ফলে ঢাকা থেকে বের হতেই দীর্ঘ যানজটের মুখে পড়তে হচ্ছে। ঢাকার পূর্বাঞ্চলের দাউদকান্দি পর্যন্ত, উত্তরাঞ্চলের কালিয়াকৈর, চন্দ্রা, জয়দেবপুর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নবীনগর এবং কেরানীগঞ্জের আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের মুখে পড়তে হচ্ছে। গত দুই দিনের বৃষ্টি যানজটের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরে কালিয়াকৈর থেকে বাসাইল পর্যন্ত দূরপাল্লার যানবাহনগুলো চলছে থেমে থেমে ধীরগতিতে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতেও ছিল রাত থেকে দিনভর যানজট। ভাঙাচোরা এ পথে চলতে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঘরমুখো যাত্রীবাহী যানবাহন এবং পশুবাহী গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির ভিতর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকা পর্যন্ত যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় এবং দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ৫-৭ কিলোমিটার দীর্ঘ গাড়িজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহাসড়কে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন, সব মহাসড়কে কোরবানির পশুবোঝাই ট্রাকসহ অন্যান্য যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা বেড়ে গেছে। যানবাহনের তুলনায় মহাসড়কের পরিধি কম হওয়ায় যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। ঢাকাগামী পশুবাহী গাড়ির চাপে টঙ্গী-কালিগঞ্জ, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের বোর্ডবাজার, গাজীপুর সদর, মীরের বাজার, পুবাইল, উত্তরা, এয়ারপোর্ট, আবদুল্লাহপুর ও আশুলিয়া সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সাভার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক ফরহাদ হায়দার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বাড়তি চাপের কারণে সাভারের বাইপাইল থেকে নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বিমানবন্দর মোড়ে। আশকোনা হাজী ক্যাম্পের অদূরে অপরিকল্পিতভাবে পশুর হাট বসানোর কারণে সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দর মোড়ের উভয় পাশে ৭-৮ কিলোমিটারজুড়ে সার্বক্ষণিক যানজট লেগে থাকে। গাবতলী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি বাসই নির্ধারিত সময়ের ২ থেকে ৩ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যাচ্ছে। রাজধানীর যে কোনো স্থান থেকে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছাতেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। এদিকে ঈদ বোনাসের অজুহাত দিয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে বাস কর্মীরা। দু-একটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন কিছু যাত্রী। রাজশাহীর যাত্রী হাফিজ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, অনেক কষ্টে টিকিট কেটেছি গ্রামে যাব বলে। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা। এখন বলছে ট্রেন ছাড়ার সম্ভাব্য সময় দুপুর ১টা ১০ মিনিট। কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, ট্রেন সঠিক সময়ে ছাড়ার কারণে যাত্রীরা স্টেশনে আসার সঙ্গে সঙ্গে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন। তেমন ভিড় হচ্ছে না। বিলম্বে ট্রেন ছাড়া সম্পর্কে তিনি ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, দু-একটি ট্রেন ১০ থেকে ২০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। তবে বাকিগুলো সঠিক সময়ে ছেড়েছে। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে রাজধানী ঢাকা থেকে কাওড়াকান্দি-শিমুলিয়া নৌরুট হয়ে বাড়ি ছুটছে। ফলে গতকাল সদরঘাটে দুপুর থেকে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। লঞ্চগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিতে পার হয়ে আসা যাত্রীদের অনেককেই কাওড়াকান্দি থেকে গাড়ির ছাদে চড়ে নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড কাজ করে যাচ্ছে। ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা : ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ৪০টি মোটরসাইকেলের মাধ্যমে পুলিশের বিশেষ টহল (প্যাট্রোলিং) চালু রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর রাত থেকে এ বিশেষ টহল শুরু হয়েছে। এতে এ সড়কে যাত্রীদের ভোগান্তির সম্ভাবনা নেই বলে ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানিয়েছেন গোলড়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক।

শুভ সমরাটজাতীয়
পদে পদে ভোগান্তি। অসহনীয় যানজট, পরিবহন সংকট, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি, পকেটমার ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য- এমন নানা ভোগান্তি নিয়ে ছুটছে মানুষ আপন ভুবনে। ফলে সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল উপচে পড়া ভিড়।...