image_261179.ashmadimage
ডেটিং সাইট ‘অ্যাশলে ম্যাডিসন’-এর মাধ্যমে গোপনে অন্যের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে ব্যস্ত ছিলেন বিবাহিতরা। আর এদের তথ্য ফাঁস করে দিয়ে ব্যাপক তোলপাড় করে দিয়েছেন হ্যাকাররা। এর মাধ্যমে গোপনীয়তা রক্ষায় ইচ্ছুক অসংখ্য মানুষ বুঝতেই পারছেন, ইন্টারনেটে অজ্ঞাতনামা বলে আর কিছু নেই।

এদিকে, অ্যাশলে ম্যাডিসন ব্যবহারকারী লাখ লাখ মানুষ কানাডার টরেন্টো-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের অভিযোগ ঠুকে দিচ্ছেন। তাদের সাম্প্রতিক অভিযোগ, হ্যাকড হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল তারা সব অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলবে। কিন্তু তা করা হয়নি। এ কারণে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর সংসার জীবনটা শেষ হওয়ার জোগাড় হয়েছে। প্রত্যেকে আশঙ্কায় আছেন, কার তথ্য কখন ফাঁস হয়ে যায়।

আধুনিক যুগে ইন্টারনেটে পরিচয় গোপন রাখার বিষয়টি আর নেই। একান্ত গোপন ছবি প্রকাশ হয়ে যায়। অতি গোপন রাজনৈতিক কথোপকথন বা আলোচনার রেকর্ড জনসমুক্ষে চলে আসে। মানুষ ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য-প্রমাণ সবার কাছে পৌঁছে যায়।

এ বছরের প্রথম দিকে আরেকটি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় ১ লাখ ১৪ হাজার করদাতার তথ্য চুরি করে নেওয়া হয়। এখন জানা গেছে, এ সংখ্যা ৩ লাখ ৩৪ হাজারে ঠেকেছে। ইউবার সব সময় জানছে আপনি কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছেন। আমাজন জানে, আপনি কেনাকাটা সম্পর্কে কি ধরনের মানসিকতা ধারণ করেন। গুগল জানে আপনি ইন্টারনেটে কি খুঁজছেন আর কি পড়ছেন। বাকিটুকু উন্মুক্ত করছেন হ্যাকাররা।

অন্তত অ্যাশলে ম্যাডিসনের এ ঘটনার পর একটি শিক্ষা লাভ করা যায়। তা হলো, একান্ত গোপনীয় কাজে ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করবেন না।

দ্বিতীয় শিক্ষাটি হলো, হ্যাকাররা যেকোনো রূপে দেখা দিতে পারে। সবকিছু কেবলমাত্র উঠতি কিশোর হ্যাকারের মজা নয়। রাশিয়ান হ্যাকার গ্যাংস্টাররা কোটি মানুষের ক্রেডিট কার্ড নম্বর চুরি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। চাইনিং হ্যাকাররা অন্য দেশের গোপন অস্ত্রের ব্লুপ্রিন্ট চুরি করেছেন।

তৃতীয় একটি বিষয় মনে রাখবেন, ডার্ক ওয়েব বলে কিছু নেই। হতে পারে অনেক কিছু গুগলের তালিকায় নেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। হ্যাকাররা নিয়মিত নানা তথ্য কেনা-বেচা করেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এগুলোর দেখা সহজেই পাওয়া যায় টর ব্রাউজারের মাধ্যমে।

বড় ধরনের ঝামেলা ঘটে যখন একটি দেশের গোপন রাজনৈতির বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়ে যায়। আন্তর্জাতিকভাবে ওই দেশটি হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

বিষয়টি অ্যাশলে ম্যাডিসনের মাধ্যমে প্রতারক পরিচয় ফাঁস হওয়া নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, কিছু গোপন রাখতে চাইলে তার জন্যে নিজেরই সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনে তা নিয়ে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় প্রবেশ না করা। ইন্টারনেটের জগতটি ২০ বছর ধরে আরো অনেক বেশি জটিল ও সূক্ষ্ম হয়েছে। কাজেই এখানে কিছু গোপন রাখা প্রায় অসম্ভব বলেই ধরে নিতে হবে। সূত্র : ফক্স নিউজ

সুরুজ বাঙালীবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ডেটিং সাইট 'অ্যাশলে ম্যাডিসন'-এর মাধ্যমে গোপনে অন্যের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে ব্যস্ত ছিলেন বিবাহিতরা। আর এদের তথ্য ফাঁস করে দিয়ে ব্যাপক তোলপাড় করে দিয়েছেন হ্যাকাররা। এর মাধ্যমে গোপনীয়তা রক্ষায় ইচ্ছুক অসংখ্য মানুষ বুঝতেই পারছেন, ইন্টারনেটে অজ্ঞাতনামা বলে আর কিছু নেই। এদিকে, অ্যাশলে ম্যাডিসন ব্যবহারকারী লাখ লাখ মানুষ কানাডার টরেন্টো-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির...