untitled-2_154104
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী নাজনীন নাহারের হাতে অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোন, যার ইন্টারনেট গতির সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৭ এমবিপিএস। স্মার্টফোনের কোনায় এইচ প্লাস সাইন, অর্থাৎ থ্রিজি সংযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্রাউজারে একটা সাইট খুলতে সময় লাগল এক মিনিটেরও বেশি। অথচ থ্রিজি সেবা দেওয়া ওই অপারেটরের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট বলা আছে, তাদের থ্রিজি ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি এক এমবিপিএস। পরে দেখা যায়, ডাউনলোডে মাত্র ৩০ থেকে ৫৬ কেবিপিএস গতি পাওয়া যাচ্ছে, আপলোডের ক্ষেত্রে এই গতি আরও কমে যাচ্ছে। থ্রিজি ইন্টারনেটে এই নিম্নগতির অভিযোগ শুধু একজন নাজনীনের একার নয়, অধিকাংশ গ্রাহকেরই। আলাপকালে নাজনীন জানালেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে তিনি থাকেন। সেখানে দেশের অন্যতম প্রধান অপারেটরের নেটওয়ার্ক সিগন্যাল এত দুর্বল থাকে যে, মাঝেমধ্যে কথা বলাই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে নেটওয়ার্ক মোটামুটি ভালো, ইন্টারনেটের গতিও তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফজালুল ইসলাম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি টেলিটকের সংযোগ থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ঢাকায় এর গতি ভালো হলেও ঢাকার বাইরে গেলেই তেমন নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না।

দেশে তৃতীয় প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ সেবা চালুর প্রায় দু’বছর পার হলেও নিম্নগতির মোবাইল ইন্টারনেট থেকে মুক্তি মেলেনি গ্রাহকদের। দেশের ছয়টি মোবাইল অপারেটরের মধ্যে থ্রিজি সেবা দেওয়া পাঁচটি অপারেটরের প্রত্যেকটিতেই
নিম্নগতির ইন্টারনেটের অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকরা।

এ ব্যাপারে অন্যতম শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিতে বড় সমস্যা হচ্ছে নেটওয়ার্কের জন্য বিটিএস স্থাপনের জন্য জায়গা না পাওয়া। সাধারণত ঢাকায় বড় বড় বাড়ির ছাদেই বিটিএস টাওয়ার বসানো হয়। অনেকেই বাড়ির ছাদে টাওয়ার বসানোর জন্য অস্বাভাবিক অঙ্কের টাকা দাবি করেন। আবার অনেক জায়গায় টাকা দিয়েও সুবিধাজনক স্থানে ব্যবহার করার উঁচু ভবন খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু প্রতি মাসের জন্য এত বেশি ভাড়া চাওয়া হয় যে, তার পরিমাণ ওই এলাকার মোট গ্রাহকের কাছ থেকে কোম্পানির আয়ের চেয়েও বেশি। তিনি জানান, এই অভিজ্ঞতা শুধু এক জায়গায় নয়, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে অনেক জায়গায়। সবাই ভালো নেটওয়ার্ক চান; কিন্তু ভালো নেটওয়ার্ক পাওয়ার জন্য সামান্য সহযোগিতা করতে চান না। তিনি আরও জানান, একাধিক অপারেটরের মধ্যে আন্তঃসংযোগ নিয়েও গ্রাহকদের অনেক অভিযোগ পাচ্ছেন তারা। দেখা যায়, ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জ বা আইসিএক্সের কারিগরি ত্রুটির জন্য আন্তঃসংযোগে সমস্যা হচ্ছে; কিন্তু দায় পড়ছে মোবাইল অপারেটরের কাঁধে।

অন্য একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের একজন কর্মকর্তা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, মোবাইল ইন্টারনেট সেবায় সব অপারেটরই গ্রাহকদের জন্য ব্যবহার করছে শেয়ারিং ব্যান্ডউইথ। ফলে একই এলাকায় একই সময়ে একসঙ্গে অনেক গ্রাহক ব্যবহার শুরু করলে ঘোষিত গতি যাই থাকুক, গ্রাহক অনুপাতে ব্যান্ডউইথ কমতে থাকে, গতিও কমে যায়। আবার শেয়ারিং ব্যান্ডউইথে গ্রাহকদের আনুপাতিক হারে ইন্টারনেটের গতি নিশ্চিত করতে সব অপারেটরই বেশি ডাটার প্যাকেজে ফেয়ার ইউজ পলিসি প্রয়োগ করেন। এর ফলেও একটা প্যাকেজ ব্যবহারের নির্দিষ্ট একটি পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত গতির চেয়ে গতি কমে যায়। শেয়ারিং ব্যান্ডউইথে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর প্রযুক্তি আছে, তবে অনেক ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে বাংলাদেশে অপারেটররা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন না বললেই চলে। তিনি আরও জানান, ইন্টারনেটে সঠিক গতি মোবাইল হ্যান্ডসেট কিংবা ট্যাবের গুণগত মানের ওপরও নির্ভর করে। দুর্বল হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে গতি কম পেলে দোষ দেন অপারেটরের।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সচিব সারওয়ার আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, বিটিআরসি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের সেবার মান সম্পর্কে জরিপ চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ১৫টি জেলার ৪৫টি উপজেলায় জরিপ চালানো হবে। পরে এই জরিপের ভিত্তিতে সেবার মানের একটি র‌্যাংকিং করা হবে, যা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া এর ভিত্তিতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবার গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এখনও যদি কোনো গ্রাহক ঘোষিত গতির চেয়ে কম গতি পান, তাহলে তিনি বিটিআরসির (যঃঃঢ়://িি.িনঃৎপ.মড়া.নফ/) ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘সাবমিট ইউর কমপ্লেইন’ ট্যাবে ক্লিক করে অভিযোগ করতে পারেন। বিটিআরসি গ্রাহকের অভিযোগ বিচার-বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে

ওয়াজ কুরুনীবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী নাজনীন নাহারের হাতে অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোন, যার ইন্টারনেট গতির সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৭ এমবিপিএস। স্মার্টফোনের কোনায় এইচ প্লাস সাইন, অর্থাৎ থ্রিজি সংযোগ রয়েছে। কিন্তু ব্রাউজারে একটা সাইট খুলতে সময় লাগল এক মিনিটেরও বেশি। অথচ থ্রিজি সেবা দেওয়া ওই অপারেটরের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট বলা আছে, তাদের থ্রিজি...