FOLOUP
জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (জেএসসি) সহকারী বিচারক নিয়োগের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তরপত্র জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহকারী পরিচালকসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।

শুক্রবার র্যাব আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনের ২য় তলায় অভিযান চালিয়ে সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্য নিয়ে র্যাব জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সামনে থেকে ঐ অফিসের স্টোর কিপার রেজাউল করিম (৩২) ও ঈশান ইমতিয়াজ হূদয়কে (২২) গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ২০১৪ সালের সহকারী বিচারক নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র ২৩টি, একই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ২টি, ২ লাখ টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ৪ লাখ টাকার একটি চেক, বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের সিল, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ৩টি মোবাইল ও ১টি আইপ্যাড উদ্ধার করেছে।

র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড লিগ্যাল শাখার পরিচালক কমান্ডার মাহমুদ খান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান—প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের আরেকটি গ্রুপকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর র্যাব গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া (৪১), ডা. জেড এম এ সালেহীন শোভন (৪০), এস এম সানোয়ার (৩০) ও আকতারুজ্জামান খান তুষার (৩৮)। তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ইউজিসির সহকারী পরিচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার র্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।

র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা কমান্ডার মাহমুদ খান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা, কৃষি ব্যাংকের অফিসার নিয়োগ, জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী বিচারক নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র সরবরাহ করে আসছিল। এই রূপ অসাধু উপায় অবলম্বনের জন্য মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই চক্র প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা, কৃষি ব্যাংকের অফিসার নিয়োগের জন্য ৬ লাখ লাখ ও জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী বিচারক নিয়োগের জন্য ১০ লাখ টাকায় চুক্তি করত।

মূলহোতা ওমর সিরাজ মূলত তিন ধাপে জালিয়াতি করে থাকে। প্রথম ধাপে বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় তার পূর্বে বাছাইকৃত একটি গ্রুপকে পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থী হিসেবে প্রেরণ করা এবং এই গ্রুপের কাজ হচ্ছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কৌশলে হলো থেকে বের করে অপেক্ষমাণ অপর একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা। দ্বিতীয় ধাপে প্রশ্নপত্র সংগ্রাহক গ্রুপটি প্রশ্নপত্রটি দ্রুত সমাধান করে মূলহোতা ওমর সিরাজের কাছে সরবরাহ করে। সর্বশেষ ধাপে মূলহোতা ওমর সিরাজ ও আরো কিছু ব্যক্তির সহায়তায় পূর্বে থেকেই চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের মাঝে অত্যন্ত সুকৌশলে উন্নত প্রযুক্তির ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তরপত্র বাহির থেকে সরবরাহ করে থাকে।

গ্রেফতাকৃতদের মধ্যে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের স্টোর কিপার রেজাউল করিম ও তার সহযোগী ঈশান ইমতিয়াজ ২০১০ সাল থেকে জালিয়াতি করে আসছিল। রেজাউল করিম জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নাজিমের সহায়তায় চুক্তিবদ্ধ পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র বের করে পুনরায় উত্তরপত্র তৈরি করে জমা করে দিত। এ ক্ষেত্রে কিছু পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার উত্তরপত্র সুকৌশলে পরীক্ষার হল থেকে বের করে নিয়ে পুনরায় উত্তরপত্র তৈরি করে ওমর সিরাজের কাছে জমা দেয়ার জন্য দিয়ে দিত।

র্যাব আরো জানায়—ইউজিসি ভবনে ওমর সিরাজের অফিস তল্লাশি করে জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী বিচারক নিয়োগের উত্তরপত্র পাওয়া যায়। এ ছাড়া মিরপুরের ১২২, মধ্য পীরেরবাগে তার বাসায় তল্লাশি করে ওমর সিরাজের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন চলতি বছর জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী বিচারক নিয়োগের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার উত্তরপত্রও উদ্ধার করা হয়। সাবিনা ইয়াসমিনের উত্তরপত্রটিও কৌশলে বের করে পুনরায় জমা করার জন্য ওমর সিরাজের হেফাজতে রাখা ছিল।

হীরা পান্নাপ্রথম পাতা
জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (জেএসসি) সহকারী বিচারক নিয়োগের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তরপত্র জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহকারী পরিচালকসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। শুক্রবার র্যাব আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনের ২য় তলায় অভিযান চালিয়ে সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজকে গ্রেফতার করে। তার দেয়া তথ্য নিয়ে র্যাব জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সামনে থেকে...