1440575039
বদলে যাচ্ছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফিটলিস্ট নীতিমালা। অধিকতর যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দিতে এ সংক্রান্ত নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা সংক্রান্ত তিনটি বিধানে নতুন করে কিছু বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। পরিবর্তিত নীতিমালা কার্যকর হলে ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে ইংরেজিতে বক্তৃতা দেয়ার দক্ষতাসহ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। নারী কর্মকর্তারা ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘বিশেষ’ সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা, জনপ্রশাসন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতাসম্পন্নরাও ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। গতকাল নীতিমালা সংশোধনের বিষয়ে মতামত চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মাঠ প্রশাসন ৩ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আলিয়া মেহের স্বাক্ষরিত চিঠিতে ডিসি নিয়োগের নীতিমালার তিনটি অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনার কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নতুন করে ডিসি ফিটলিস্ট প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। নতুন ব্যাচ হিসেবে প্রশাসন ক্যাডারের ১৭ ও ১৮তম ব্যাচ থেকে পরীক্ষা নেয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রতিবারের মতো মৌখিক পরীক্ষা নেয়া ছাড়াও সাক্ষাৎকার বোর্ডের সামনে প্রত্যেক প্রার্থীকে বাংলা ও ইংরেজিতে দুই মিনিট করে উপস্থিত বক্তৃতা দিতে হবে। বক্তৃতার বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে ফিটলিস্ট বোর্ডে থাকা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নির্ধারণ করে দেবেন। এছাড়া, প্রত্যেক কর্মকর্তার বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নেয়া হবে। কোন কর্মকর্তা সম্পর্কে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে তিনি অন্য বিষয়ে দক্ষতা প্রমাণ করতে সক্ষম হলেও ডিসি ফিটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত হবেন না। এদিকে ডিসি ফিটলিস্টের বর্তমান নীতিমালায় অনুচ্ছেদ ১(খ)-তে বলা হয়েছে, ‘উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/সচিব, জেলা পরিষদ/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভা পদে কমপক্ষে ২ (দুই) বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ অনুচ্ছেদের বদলে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী অফিসার/সচিব, জেলা পরিষদ/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভা পদে কমপক্ষে ২ (দুই) বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে।’ তবে নারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ সময়কাল ৬ মাস পর্যন্ত শিথিল করা যাবে- এমনটাই যুক্ত করে সংশোধনী আনার কথা বলা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ১ (ঙ) তে বলা হয়েছে, ‘উত্তম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকিতে হইবে।’ এ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার সুপারিশে বলা হয়েছে, ‘উত্তম শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা, জনপ্রশাসন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।’ বর্তমানে বিদ্যমান থাকা অনুচ্ছেদ ১(ঝ)তে বলা হয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রয়োজন বোধে যোগ্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবে। সাক্ষাৎকারে কর্মকর্তার ব্যক্তিত্ব, সততা ও সুনাম, স্বাস্থ্য ও আগ্রহ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় গুণাবলী বিবেচনা করা হবে। এ অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুপারিশ করে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণপূর্বক কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবেন। প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত কর্মকর্তাদের ব্যক্তিত্ব, মেধা ও প্রজ্ঞা, স্বাস্থ্য, আগ্রহ, উত্তম বাচনভঙ্গি, উপস্থাপনার পারদর্শিতা, ভাষা জ্ঞান, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় গুণাবলী যাচাইপূর্বক কমিটি প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ৩রা জানুয়ারি জারিকৃত নীতিমালা অনুযায়ী ডিসি পদে মাঠ প্রশাসনে দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের নির্বাচন/নিয়োগ করা হয়। ওই নীতিমালার তিনটি ধারা বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এ কারণেই তিনটি ধারা সংশোধনের প্রস্তাবে মতামত দেয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিসিরা মাঠ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয় এবং সরকারের অন্যান্য বিভাগগুলোর জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড পরিবীক্ষণ করে থাকেন। সময়ের চাহিদা ও বাস্তবতার আলোকে ডিসিদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা, জনপ্রশাসন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান, উত্তম বাচনভঙ্গি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, উপস্থাপনায় পারদর্শিতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা থাকা জরুরি। তাছাড়া, বিদ্যমান নীতিমালায় জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মকর্তা নির্বাচন/নিয়োগের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে উপ-পরিচালক, স্থানীয় সরকার/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা/সচিব, জেলা পরিষদ/প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভা পদে কমপক্ষে ২ (দুই) বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকার বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক নারী কর্মকর্তাকে ডিসি হিসেবে পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। নারী ক্ষমতায়নে সরকারের আন্তরিক প্রয়াসকে বাস্তব রূপ দিতে বেশি সংখ্যায় নারী কর্মকর্তাকে ডিসি হিসেবে পদায়নের জন্য তাদের মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা প্রয়োজন। এসব পর্যবেক্ষণের আলোকে বিদ্যমান নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা জরুরি বলে প্রতীয়মান হয়। এমন অবস্থায়, ডিসি পদে উপযুক্ত দক্ষতাসম্পন্ন, মেধাবী ও চৌকস কর্মকর্তা নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক নারী কর্মকর্তাকে পদায়নের জন্য বিদ্যমান নীতিমালার প্রথম অনুচ্ছেদের উপানুচ্ছেদ (খ), (ঙ) এবং (ঝ) সংশোধন করা যেতে পারে। এ সংশোধন প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতামত পাওয়ার পর প্রয়োজন মনে করলে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করবেন তারা। এরপর তা অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।

নৃপেন পোদ্দারএক্সক্লুসিভ
বদলে যাচ্ছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফিটলিস্ট নীতিমালা। অধিকতর যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাদের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দিতে এ সংক্রান্ত নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা সংক্রান্ত তিনটি বিধানে নতুন করে কিছু বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। পরিবর্তিত নীতিমালা কার্যকর হলে ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে ইংরেজিতে বক্তৃতা দেয়ার...