ahsanmanjil-150x93
মনের আবার খাবার আছে নাকি, সেটা কেমন? ‘আছে, আছে ভাই। মনের চোখ দিয়ে তা দেখতে হয়। এই জায়গায় এত মানুষ আসে তাদের সবাই তা দেখতে পারে না।’ মন্তব্য ঘুরতে আসা মনিরুল ইসলামের।
রাজধানীর হাতে গোনা যে কয়টি বিনোদনকেন্দ্র আছে তার মধ্যে অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত আহসান মঞ্জিল জাদুঘর অন্যতম। শনিবার বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড়ে মঞ্জিলের অঙ্গণ গমগম করছিল।
শিশুরা ব্যাস্ত দৌড়াদৌড়িতে, বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদেরা সেলফিতে মোবাইলের মেমোরি লোড করছেন, কেউবা পুরো পরিবার নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন মাঠে। জাদুঘরের ভেতরের ঐতিহ্য দেখার পর অনেকেই বের হয়ে যাচ্ছেন অন্য কোনো বিনোদনকেন্দ্রের উদ্দেশে।
মঞ্জিলের মূল ভবনটিকে ঠিক মাঝে রেখে বুড়িগঙ্গা বরাবর হাটলে কালো একটি দৃষ্টিনন্দন বাতির খুটি দেখা যায়। খুটিটির গায়ে হেলান দিয়ে এক মনে বিল্ডিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন মনিরুল ইসলাম। এত মনযোগ দিয়ে কি দেখছেন? বলতেই মনের চোখে মঞ্জিল দেখার কথা জানালেন মনিরুল।
এক শিশুর প্রশ- ‘এখানে সবাই বেড়াতে আসে, এত বড় বাড়িতে কেউ থাকে না কেন?’ তার বাবার উত্তর- ‘এক সময় নবাবরা এই বাড়িতে থাকতো। এখন তো আর কেউ নবাব নেই, তাই কেউ থাকে না।’
মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন সিরাজ উদ্দিন তালুকদার। পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন দশ বছর। রাজধানীর অনেক বিনোদনকেন্দ্রে যাওয়া হয়েছে। স্ত্রীর আবদার আহসান মঞ্জিল দেখার।
কেমন লাগলো দেখে? ‘যেমনটা ভাবছিলাম তত ভালো লাগেনি। তাও ভেতরের যে ব্যবস্থাপনা আছে তা মোটামুটি চলে কিন্তু বাইরের পরিবেশটা আরো সুন্দর করা যায়। কারণ এখানে এসে সবাই তো সারাক্ষণ ভেতরের আসবাপত্র ও ইতিহাস পড়বে না। বাইরে বসে একটু সময় কাটানোও প্রয়োজন। সেই পরিবেশ নেই,’ মন্তব্য সিরাজ উদ্দিনের।
মাঠের ঘাসগুলো অস্বাভাবিক বড়। ঘাসের সবুজের চেয়ে কাগজ আর প্লাস্টিকের বোতলের আধিক্য। প্রতিটি কোণায় ময়লা পড়ে আছে। র‌্যালিং দেওয়া সীমানার সঙ্গে বসেছে ফুটপাতের দোকান। কয়েক ফুটের রাস্তার পর ময়লা আবর্জনার স্তুপ থেকে বাতাসে ভেসে আসছে গন্ধ। নদীর পার দখল হয়ে উঠেছে ছাপরা ঘর।
এই সব কিছুকে পেছনে ফেলে শুধু আহসান মঞ্জিলের বিল্ডিংটির দিকে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায়। তবে, আসে-পাশের স্থাপনাগুলো চোখের সেই তৃপ্তিটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয় না।
আশে-পাশের পরিবেশ আহসান মঞ্জিলের সৌন্দর্যকে ম্লান করছে দিন দিন। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি শুধু ‘নামের ওপরে’ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বলে অভিমত দর্শনার্থীদের অনেকের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/ahsanmanjil-150x93.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/09/ahsanmanjil-150x93.jpgহাসন রাজাবিনোদন
মনের আবার খাবার আছে নাকি, সেটা কেমন? ‘আছে, আছে ভাই। মনের চোখ দিয়ে তা দেখতে হয়। এই জায়গায় এত মানুষ আসে তাদের সবাই তা দেখতে পারে না।’ মন্তব্য ঘুরতে আসা মনিরুল ইসলামের। রাজধানীর হাতে গোনা যে কয়টি বিনোদনকেন্দ্র আছে তার মধ্যে অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত আহসান মঞ্জিল জাদুঘর অন্যতম। শনিবার বিকেলে...