3_110823
সুন্দরগঞ্জে গুলি করে শিশু সৌরভকে আহত করার পর এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের অবস্থান সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তার বিরুদ্ধে থানায় ইতিমধ্যে দুটি মামলা দায়ের হলেও পুলিশ, প্রশাসন বা দলীয় কোনো সূত্রই তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেনি। তবে নেপথ্যে থেকে এমপি লিটন তার ঘনিষ্ঠজনদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে এলাকার আন্দোলনরত নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষের অভিযোগ। শিশু সৌরভকে গুলি করে আহতের ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় সৌরভের পিতা এমপি লিটনকে একমাত্র আসামি করে একটি মামলা দায়ের করার পর গত মঙ্গলবার এমপি লিটনের বিরুদ্ধে থানায় আরও একটি মামলা হয়েছে। উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর শাহাবাজ গ্রামের হাফিজার রহমানের বাড়িতে এমপি লিটন তার লোকজনসহ হামলা চালিয়ে গুলি করে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে এমন অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন হাফিজার রহমান। এ মামলায় এমপি লিটনসহ মোট আসামি ১০ জন। সংসদ সদস্য লিটনের অবস্থান সম্পর্কে এলাকায় এখনো নানা গুজব ও কানাঘুষা চলছে। এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২ অক্টোবর ঘটনার দিন থেকেই এমপি লিটন সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার বাড়ি থেকে স্ত্রীসহ পলাতক রয়েছেন। প্রথমে সে পার্শ্ববর্তী রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় আত্মগোপন করে থাকেন। পরে সেখান থেকে গা-ঢাকা দিয়ে ঢাকায় পালিয়ে যান। আবার অনেকে বলছেন, ঘটনার দিন তিনি রংপুরের পীরগঞ্জে গিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে অন্য কোথাও চলে যান। বর্তমানে তার বামনডাঙ্গার বাড়িও তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে পড়ে আছে তার ব্যবহৃত গাড়ি। তিনি বর্তমানে ঢাকায় কোথাও আছেন এমন ধারণাই মানুষের মধ্যে বেশি।
সুন্দরগঞ্জ নাগরিক সংগ্রাম পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদুল ইসলাম চঞ্চল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, এমপি লিটন নেপথ্যে কোথাও থেকে তার ক্যাডারদের নির্দেশনা দিয়ে চলেছেন। সে অনুযায়ী তারা এলাকায় অস্ত্রসহ ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। যাতে এমপি লিটনের বিরুদ্ধে কোথাও মিছিল-মিটিং না হয় সে ব্যাপারে তারা তৎপর। চঞ্চল ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সৌরভের স্কুলের সহপাঠীরা তাদের স্কুলে ৫ অক্টোবর এমপির গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু এমপি লিটনের কয়েকজন অনুসারীর বাধার কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। ৭ অক্টোবর বামনডাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘের চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরস্কার অর্জন এবং সুন্দরগঞ্জের এমপি লিটনের গুলি ছুড়ে শিশু আহতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়ায় অভিনন্দন জানাতে সুন্দরগঞ্জের সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি আনন্দ র‌্যালি বের করার কর্মসূচি নেয়। কিন্তু তাদের কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে স্টেশনের পূর্ব পাশে এমপি লিটনের অফিস এলাকায় লিটনের ক্যাডার বাহিনী অস্ত্র ও লাঠিসোঁটাসহ একত্রিত হয় । এ ছাড়া লিটনের গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমপির পদ থেকে অপসারণ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে বিচারের দাবিতে একটি রঙিন পোস্টার সুন্দরগঞ্জ এলাকাবাসীর পক্ষে বুধবার রাত থেকে পৌর এলাকার সর্বত্র লাগানো হয়। কিন্তু এমপি লিটনের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে গতকাল কিছু পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। তার অনুসারীরা গত বুধবার এলাকায় মিছিল করারও চেষ্টা করেছে কিন্তু সফল হয়নি। এ ছাড়া এমপি লিটনের বিরুদ্ধে যেন টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশ-প্রচার না হয় সেজন্য লিটনের পক্ষে কয়েকজন সাংবাদিক মাঠে নেমেছেন। এ জন্য বাজেট ধরা হয়েছে মোটা অংকের টাকা। ইতিমধ্যেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলা, গাইবান্ধা ও রংপুরের কিছু সংবাদকর্মীকে ম্যানেজ করতে তারা স্বশরীরে অবতীর্ণ হয়েছেন। এসব কারণে মনে হয় তার অনুসারী ক্যাডারবাহিনীর সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথাবার্তা হয়। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোবাইল ট্র্যাকিং করেও তার অবস্থান জানতে পারে বলে তিনি মনে করেন। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, এমপি লিটনের সাম্প্রতিক ঘটনাটি অবশ্যই একটি অনাকাক্সিক্ষত ও দুঃখজনক ঘটনা। তবে ইতিমধ্যেই সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে এবং প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। তাই এ পরিস্থিতিতে আর কোনো আন্দোলন বা মানববন্ধন ইত্যাদির প্রয়োজন নেই বলে গত বুধবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভায় মত প্রকাশ করা হয়েছে। এমপি লিটনের অবস্থান সম্পর্কে তারাও কিছু অবগত নন বলে জানিয়ে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতার বিষয়ে কথা বলেছেন, তাতে সবারই আশ্বস্ত হওয়া দরকার। এমপিকে গ্রেফতার না করার ব্যাপারে জানতে চাইলে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি ইসরাইল হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, সংসদ সদস্য লিটনকে গ্রেফতারে কোনো বাধা নেই। আমরা তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।আত্মসমর্পণ না করলে এমপি লিটনকে গ্রেপ্তার করা হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি এখন আত্মগোপনে আছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে, পাওয়া মাত্রই গ্রেপ্তার করা হবে। গতকাল সচিবালয়ে মাদক সংক্রান্ত এক সভা শেষে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে এসব কথা বলেন। লিটনের আত্মসমর্পণের জন্য সরকার অপেক্ষা করছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, না, বিষয়টি সে রকম নয়। তাকে খুঁজা হচ্ছে। পাওয়া গেলেই গ্রেপ্তার করা হবে। তাকে কোন রকম ছাড় দেয়া হবে না। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। প্রসঙ্গত, সুন্দরগঞ্জের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন গত ২ অক্টোবর সকালে নিজ এলাকায় শাহাদাত হোসেন সৌরভ নামে এক শিশুকে গুলি করেন। সৌরভ বর্তমানে রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে ৩ অক্টোবর লিটনের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা হয়। সৌরভের বাবা সাজু মিয়া ওই মামলার বাদি।একই সঙ্গে তার দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র পুলিশ হেফাজতে নেয় এবং দু’টি অস্ত্রেরই লাইসেন্স বাতিল করেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক। এদিকে মামলার পর থেকে লিটন পলাতক রয়েছেন। গত বুধবার তার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা হয়েছে।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/3_110823.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2015/10/3_110823-300x300.jpgঅর্ণব ভট্টপ্রথম পাতা
সুন্দরগঞ্জে গুলি করে শিশু সৌরভকে আহত করার পর এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের অবস্থান সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তার বিরুদ্ধে থানায় ইতিমধ্যে দুটি মামলা দায়ের হলেও পুলিশ, প্রশাসন বা দলীয় কোনো সূত্রই তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে...