87859_x5
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যুতে আড়াই বছরের শিশুপুত্র আইয়ান আল সাদীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। মায়ের হত্যার অভিযোগে পিতা আসিফ ওরফে পিসলী কারাগারে। ওই হত্যার মামলায় আসামি হয়ে শিশু আইয়ানের দাদা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও দাদি নাজমুন নাহারও আত্মগোপনে রয়েছেন। অভিযোগ আছে, গ্রেপ্তার এড়াতে আড়াই বছরের শিশু আইয়ানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তার দাদা-দাদি।
এদিকে শিশু আইয়ানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত নানী ফারজানা বানু তাকে ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ই এপ্রিল রাজশাহী নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক শিশু আইয়ানকে উদ্ধার করে তার নানীর হাতে তুলে দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়। তবে পুলিশ তাকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে গত ৫ই মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। রাজপাড়া থানার এসআই আবু রায়হান স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াহিদা সিফাতের মৃত্যুর পরপরই দাদা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও দাদি নাজমুন নাহার শিশু আইয়ানকে নিয়ে আত্মগোপন করে। অ্যাডভোকেট রমজানের বাসাটি বর্তমানে তালাবন্ধ। তারা কোথায় আত্মগোপন করেছে, তার তথ্য আশপাশের কেউ দিতে পারেনি। গতকাল নগরীর মহিষবাথান এলাকায় অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় তলার বাসার প্রথম ও দ্বিতীয় তলা তালাবন্ধ। এর মধ্যে প্রথম তলায় স্ত্রীসহ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজান এবং দ্বিতীয় তলায় শিশুপুত্র ও স্ত্রীসহ বাস করতেন তার পুত্র মো. আসিফ ওরফে পিসলী। ওই বাসার তৃতীয় তলার ভাড়াটে পবা উপজেলার গোবিন্দ শিতলাই গ্রামের শরীফা আকতার ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যুর পর তার স্বামী আসিফ গ্রেপ্তার হলে শিশু আইয়ানকে নিয়ে তার দাদা-দাদি আত্মগোপন করে। যাওয়ার আগে তারা বাসার প্রথম ও দ্বিতীয় তলা তালাবন্ধ করে চলে যায়। এরপর থেকে তারা আর বাসায় ফিরেননি। একই তথ্য দেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের প্রতিবেশী লুতফুল হোসেন ও আব্দুস সামাদ। শিশু আইয়ানের নানী ফারজানা বানু ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, তার একমাত্র কন্যা ওয়াহিদা সিফাতকে ভালবাসার নামে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিল পিসলী। অথচ ২০ লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে পিসলী ও তার পিতমাতা গত ২৯শে মার্চ আমার মেয়েকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে। এখন আমার মেয়ের একমাত্র সন্তান আড়াই বছরের আইয়ানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তার দাদা-দাদি মামলা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। আমি জানি না, আইয়ান এখন কোথায়? এই মুহূর্তে অবুঝ শিশুটির মায়ের মতো আদর-স্নেহ পাওয়া খুব দরকার। তা না হলে শিশুটির বড় ক্ষতি হয়ে যাবে, বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আদালতের নির্দেশের পরও শিশু আইয়ানকে উদ্ধারে পুলিশের ব্যর্থতা আছে কিনা, জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, আদালতের নির্দেশের পর শিশু আইয়ানকে উদ্ধার এবং তার দাদা-দাদিকে গ্রেপ্তারের জন্য তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একাধিকবার একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অ্যাডভোকেট রমজান ও তার স্ত্রী শিশুটিকে নিয়ে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করায় তাদের গ্রেপ্তার এবং শিশুটিকে উদ্ধার করা যায়নি। তিনি বলেন, সিফাতের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রথমে রাজপাড়া থানা এবং পরে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করেছে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজশাহী সিআইডির পুলিশ সুপার শাহরিয়ার আলম ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, মামলাটি কিছুদিন হলো সিআইডিতে এসেছে। এখন এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্তের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্তের পর মামলাটির তদন্ত এবং আনুষঙ্গিক কাজ শুরু হবে। প্রসঙ্গত, গত ২৯শে মার্চ সন্ধ্যায় নগরীর মহিষবাথান এলাকার অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজানের বাড়িতে তার পুত্রবধূ আড়াই বছরের এক সন্তানের জননী ওয়াহিদা সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ঘটনার চার দিন পর সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার রাজপাড়া থানায় ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় সিফাতের স্বামী মোহাম্মদ আসিফ ওরফে পিসলী, শ্বশুর মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও শাশুড়ি নাজমুন নাহার নাজলীকে আসামি করা হয়।

সুরুজ বাঙালীএক্সক্লুসিভ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতের রহস্যজনক মৃত্যুতে আড়াই বছরের শিশুপুত্র আইয়ান আল সাদীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়েছে। মায়ের হত্যার অভিযোগে পিতা আসিফ ওরফে পিসলী কারাগারে। ওই হত্যার মামলায় আসামি হয়ে শিশু আইয়ানের দাদা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন রমজান ও দাদি নাজমুন নাহারও আত্মগোপনে রয়েছেন। অভিযোগ...