3f263ef28101d34b25cf3e1bf7237b82-1
ক্যাম্পাসে নিত্যনতুন পোশাক পরে আসত মেয়েটি। জংলা প্রিন্ট লেগিংসের সঙ্গে হয়তো চড়া কোনো রঙের লম্বা শার্ট। কোনো দিন পালাজ্জোর সঙ্গে কুর্তা। চুলগুলোতেও রঙের বাহার। গলার লকেটে কোনো দিন প্যাঁচা তো কোনো দিন হাতি। আঙুলে সাপের মতো প্যাঁচানো আংটি।
ছেলেটির ছিল লম্বা কোঁকড়ানো চুল। কোনো দিন বেঁধে রাখত, তো কোনো দিন খোলা হাওয়ায় উড়ু উড়ু। আজিজ সুপার মার্কেটের পাঞ্জাবি কিংবা ফতুয়ার সঙ্গে রংচটা জিনসের বাইরে অন্য কোনো পোশাকে তাকে দেখা গেছে কি না, বন্ধুরা মনেই করতে পারে না। ক্যাম্পাসের রঙিন দিনগুলো পার করে তারা এখন পেশাজীবী। কেমন হবে এই জীবনের পোশাক-পরিচ্ছদ? বর্ণময় পোশাকগুলো আলমারিবন্দী করে একঘেয়ে আনুষ্ঠানিক বা ফরমাল পোশাকই কি হবে নিত্যদিনে সঙ্গী? সেটারই বা কী কায়দাকানুন। ফরমাল পোশাক তো পরা হয়নি কোনো দিন। পেশাজীবী আর ফ্যাশন ডিজাইনাররা জানিয়ে দিলেন অফিসে কেমন পোশাক পরা উচিত।
পালাজ্জো নকশাদার হলে টপ পরুন একরঙা। মডেল: সামিয়াএকটা কথা শুরুতেই বলে রাখা ভালো, প্রথম কয়েক দিন অফিসে পোশাক নিয়ে তেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করাই উচিত। সাক্ষাৎকার, কাজে যোগদান—এভাবে কয়েক দিন তো নিশ্চয়ই আগেই অফিসে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই অফিসের পরিবেশ বুঝে ফেলার চেষ্টা করুন। খুব ফরমাল বা খুব ক্যাজুয়াল কোনোটাই না, বরং মাঝামাঝি চলারই চেষ্টা করুন। ‘কাজের ক্ষেত্র এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়াটিকের ক্রিয়েটিভ অংশে যেমন পোশাকের নিয়মকানুন বলে তেমন কিছু নেই। মিডিয়া সার্ভিসে কিন্তু ফরমাল পোশাক পরতে হয়, কারণ তাঁরা নানা ধরনের গ্রাহকের সঙ্গে কাজ করেন। সার্ভিস অংশে আবার চলছে সেমি-ক্যাজুয়াল। সেসব বুঝেই পোশাক নির্বাচন করা উচিত।’ বললেন এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির নির্বাহী পরিচালক ইরেশ যাকের। তাঁর মতে, শুরু কয়েকটা দিন নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলে ধরাই নতুন কর্মীর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। নিজেকে একজন দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হোক আগে, তারপর ফ্যাশনের ব্যাপারটা ভাবা যাবে। এমন কিছু তাই পরা উচিত নয়, যা অন্যদের কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়।
আজকাল করপোরেট সংস্কৃতিতে ফরমাল পোশাকের চল কম। সে রকম হলে তা আগেই বলে দেওয়া হয়। নইলে সাধারণত সেমি ক্যাজুয়ালই চলছে। জানালেন খায়রুল বাশার, গ্রামীণফোনের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ (ইন্টারনাল কমিউনিকেশন) বিভাগের প্রধান হিেসবে কাজ করছেন তিনি। তবে অফিসের পরিবেশ যতই ঢিলেঢালা ধাঁচের হোক, খুব ঘরোয়া ধরনের পোশাক শুরুর দিকে না পরাই ভালো। এমন মনে করেন তিনিও। ‘পোশাকে রুচির ছাপটা থাকতেই হবে।’ বললেন তিনি।
বুদ্ধি করে জ্যেষ্ঠ এক সহকর্মীর কাছ থেকে জেনে নিয়েছিলেন কেমন পোশাক পরতে হবে, জানালেন সাবরিনা হোসেন। সিটি ইউনিভার্সিটির প্রভাষক তিনি। ‘পালাজ্জো আমি খুব পরি। তবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনো নয়। এখানে সব সময় মাথায় রাখতে হয় আমার ব্যক্তিত্ব ও আচরণ হতে হবে শিক্ষকের মতো। আমার শিক্ষার্থীরা তো আমার কাছ থেকেই শিখবে। সালোয়ার-কামিজই বেশি পরা হয় এখন।’ বললেন তিনি।
মেয়েরা খাটো জ্যাকেট পরতে পারেন।লম্বা চুলগুলো অফিস থেকে কাটতে বলা হয়নি কখনো। কেমন পোশাক পরতে হবে, তা নিয়ে বাঁধাধরা কোনো নিয়মের কথাও বলা হয়নি। তবে জিনস পরে অভ্যস্ত তরুণটি বুঝে নিয়েছে অফিসে ফরমাল প্যান্ট, জুতা, ফুলহাতা শার্ট-এসব পরতেই হবে। কথা হয় ইউনিলিভারের ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি এহতেশামুল আরেফিনের সঙ্গে। ঝালকাঠিতে এখন টেরিটরি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। ‘ঢাকায় যখন হেড অফিসে কাজ করি, তখন ফরমাল পোশাকই পরি। ঝালকাঠিতে অবশ্য পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে কিছুটা শিথিল করা যায় এটি।’ বললেন তিনি।
ছাত্রজীবনে ফরমাল পোশাক বলতে হয়তো ছেলেমেয়েরা বিয়ে বা এমন কোনো অনুষ্ঠানে পরার পোশাকের কথাই বোঝে। অফিসের ব্যাপারটি তো একদম আলাদা। কাজে যোগ দেওয়ার আগে তাই পোশাকের ব্যাপারেও একটু প্রস্তুতি চাই। সে বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিলেন ফ্যাশন হাউস আরমাডিওর ফ্যাশন পরামর্শদাতা ফারহীন লালারুখ খুররম। ‘মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ ওড়নার সেটের ধারণাটি এখন আর তেমন চলছে না। লেগিংস বা প্যান্টের সঙ্গে নানা রকম টপ, শার্ট বা কুর্তাই এখন জনপ্রিয়। আর ছেলেদের শার্টেও বেশ বৈচিত্র্য দেখা যায় এখন। সেমি ক্যাজুয়াল ব্লেজারগুলোও বেশ আকর্ষণীয়।’ বললেন তিনি।
খুব চড়া ধাঁচের কিছু পরা ঠিক নয় অফিসে। যেমন লেগিংস প্রিন্টের না হয়ে একরঙা হওয়াই ভালো। সেটা সব সময় কালো না হলেও চলবে। তবে কেউ প্রিন্টের লেগিংস পরলেও কুর্তা বা শার্ট পরুক তাহলে একরঙা। প্রিন্টের পালাজ্জোর সঙ্গে পরতে পারে একরঙা লম্বা শার্ট। স্ট্রেচ প্যান্টও অফিসে বেশ আরামদায়ক। কিছু পোশাক সংগ্রহে থাকলে ভালো বলে মনে করেন ফারহীন। সেগুলো হলো কালো ফিটেড প্যান্ট, সেটা লিনেন বা সুতির তৈরি হতে পারে। বুট কাট ধাঁচের বা চাপা-দুটি স্টাইলই চলতে পারে প্যান্টের ক্ষেত্রে। বুট কাট প্যান্ট হলে টপ হতে পারে খাটো। আর চাপা প্যান্টের সঙ্গে পরতে পারেন লম্বা কুর্তা বা শার্ট। ছেলেদের কয়েক রঙের কয়েকটা শার্ট থাকা চাই। ফরমাল জুতা, টাই-এসবও চাই। কম বয়সী ছেলেরা এখন স্লিম স্টাইলের টাই পরছেন। একটা ব্লেজার আর খাকি, কালো ও গাঢ় নীল রঙের প্যান্টও থাকুক।
পালাজ্জো বা চাপা প্যান্ট দুটোই মানায়। মডেল: তোড়া ও বৃষ্টিএভাবে পোশাকের সংগ্রহটা গুছিয়ে ফেললে রোজ কী পরা হবে, তা নিয়ে আর তেমন ভাবনা থাকবে না। আর অফিসের কোনো পার্টি থাকলে মেয়েরা নিশ্চিন্তে পরে ফেলতে পারেন সুতি জামদানি শাড়ি। দেশি সিল্ক, তাঁতের শাড়িও ভালো। তবে ব্লাউজটা হওয়া
চাই সাদামাটা ধাঁচের আর খুব খোলামেলা নয় এমন।
জাম্পস্যুট, লম্বা ফ্রক চুটিয়ে পরলেও অফিসে এগুলো একদমই পরা ঠিক নয় বলে মনে করেন ফারহীন। খাটো জ্যাকেট বা শ্রাগ অবশ্য সংগ্রহে থাকলে ভালো। যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই পরতে পারবেন।
এত সব পরামর্শ শুনে কি মনে হচ্ছে অফিসের জীবনটা একদম ফিকে হয়ে যাবে? তা নয়, ফ্যাশনেবল পোশাকের অভাব নেই এখন। অফিসের পোশাক ফরমাল তো হবেই, কিন্তু একঘেয়ে কখনোই নয়। কিছুদিন আগ পর্যন্তও পশ্চিমা ধাঁচের ফরমাল পোশাকের বৈচিত্র্য তেমন ছিল না। ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের দোকানগুলোতে অবশ্য ছেলেদের পোশাক বেশ ভালোই পাওয়া যেত। শার্ট ও প্যান্ট সেখান থেকেই পাওয়া যাবে ভালো। এ ছাড়া মেয়েদের পশ্চিমা পোশাকের দোকানগুলোতেও পাওয়া যাবে মেয়েদের শার্ট, প্যান্ট, ব্লেজার ইত্যাদি। ওয়েস্টেকস, ক্যাটস আই, ইয়েলো, আরবান ট্রুথ, লা রিভ, সেইলর, নয়ের, অ্যাম্বার-এই ফ্যাশন হাউসগুলোতে পাবেন। তবে এখানে ক্যাজুয়াল আর ফরমাল দুই ধরনের পোশাক থাকায় মানানসই পোশাকটি একটু খুঁজে জোগাড় করতে হবে। এ ছাড়া ঢাকার বনানী ১৭ নম্বর সড়কে আরমাডিওতেও পাবেন অফিসে পরার উপযোগী পোশাক।

সুরুজ বাঙালীলাইফ স্টাইল
ক্যাম্পাসে নিত্যনতুন পোশাক পরে আসত মেয়েটি। জংলা প্রিন্ট লেগিংসের সঙ্গে হয়তো চড়া কোনো রঙের লম্বা শার্ট। কোনো দিন পালাজ্জোর সঙ্গে কুর্তা। চুলগুলোতেও রঙের বাহার। গলার লকেটে কোনো দিন প্যাঁচা তো কোনো দিন হাতি। আঙুলে সাপের মতো প্যাঁচানো আংটি। ছেলেটির ছিল লম্বা কোঁকড়ানো চুল। কোনো দিন বেঁধে রাখত, তো কোনো দিন...