1440873173
ভাবমূর্তি রক্ষায় সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে আছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ তথা সরকার। সরকার ও দলীয় প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রলীগের সম্মেলনে। আর দলের সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাতীয় শোক দিবসের এক অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করেই বলেছেন, হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি নিয়ে কোন্দল বন্ধ না হলে পরিণতি হবে ভয়ঙ্কর।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের অনেক জায়গায় প্রশাসনের ওপর এক ধরনের অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে সরকারি দলের লোকজন। কথা না শুনলে হয়রানিমূলক বদলির হুমকি মাথায় নিয়ে কাজ করতে হয় তাদের। লাগিয়ে দেয়া হয় জামায়াত-বিএনপির তকমা। এ ছাড়াও যেসব কর্মকাণ্ড তারা করছেন তাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু নেতা-কর্মীর লাগামহীন কর্তৃত্ব জাহির আর অর্থকড়ি কামানোর অবাধ সুযোগ সৃষ্টি নিয়ে উপ-দলীয় কোন্দল তৈরি হচ্ছে। আর এসব নিয়েই সৃষ্ট সংঘাত-সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ অখুশি হচ্ছে, অনেকের প্রাণও যাচ্ছে।

অতীতে বিএনপি কিংবা বিএনপি জামায়াত এবং জাতীয় পার্টির শাসনামলেও এমন ঘটনার পরিণতি শুভ হয়নি- তা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষজন। আর এ থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে তা এবারও যে সুখকর হবে না তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হুঁশিয়ারি এবং সৈয়দ আশরাফের কণ্ঠেই পরিষ্কার।

এরকম বাস্তবতায় মহাপুলিশ পরিদর্শক এ কে এম শহিদুল হক যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থানায় থানায় বার্তা পাঠিয়েছেন। মহানগর এলাকাগুলোতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমিশনারও অনুরূপ বার্তা দিয়েছেন। বসে নেই গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরাও। সকল মহলই এখন তত্পর। কোন্দলের উত্স আর জড়িতদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরেই মূলত হানাহানি-সংঘাতময় পরিস্থিতি হয়। ব্যতিক্রম ছাড়া ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে একাধিক উপ-দল সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এমপি-মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী-উপ-মন্ত্রীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে সুবিধাভোগীদের বলয়। বলয়ে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কথা বলাও দুষ্কর। এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা বলছেন। বলয়াধীন ব্যক্তিরা এতটাই শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে বিএনপি-জামায়াত চিহ্নিত করাসহ সহিংসতার আসামি বানিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওইরকম কিছু নেতা-কর্মী বা সুবিধাভোগী সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধার ভাগ পাচ্ছেন। বঞ্চিত অংশে এ নিয়ে আপত্তি-বিরোধ। শুধু তাই নয়, সুবিধাবাদী এসব নেতা-কর্মীর অঙ্গুলি হেলনেই চলতে হচ্ছে মাঠ প্রশাসনকেও। কথার এদিক সেদিক হলেই হয়রানিমূলক বদলির আতঙ্কে প্রশাসন। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব কথা স্বীকারও করছেন।

প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা জানেন তথাকথিত নেতা-পাতি নেতাদের কথা না শুনলে তাদের পরামর্শে পরিচালিত হওয়া (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এমপি-মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা উপ-মন্ত্রীর রোষানলের খড়গ চাপতে পারে তাদের গলায়। এমনকি বিএনপি-জামায়াতের ছাপও পড়তে পারে গায়ে। তাই এসব ব্যক্তির ন্যায়-অন্যায় সব মেনেই মুখবুজে চলছে প্রশাসন। তারা বলছেন প্রশাসন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার আশংকা থাকে এসব প্রক্রিয়ায় যা সার্বিকভাবে সরকারকে দুর্বল করে দেয়।

এদিকে প্রশাসনের ওপর এ ধরনের খবরদারির সুযোগ নিচ্ছেন একশ্রেণির দুর্নীতিপরায়ণ ও সুবিধাবাদী কর্মকর্তারাও। ফলে খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যে সাধারণ মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এত কাজ-পরিকল্পনা তা যেনো ম্লান হতে বসেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রচার নয়, সুবিধাভোগীরা ব্যস্ত আখের গোছানোর কাজে।

মাগুরায় যুবলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে মাতৃগর্ভেই গুলিবিদ্ধ হয় শিশু। হঠাত্ করেই সারাদেশে শুরু হওয়া শিশু হত্যা-নির্যাতনের ঘটনাও উদ্বিগ্ন করে তোলে সরকারকে। এরসঙ্গে যোগ রয়েছে বেশিরভাগ জেলা ও উপজেলায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অব্যাহতভাবে ঘটা সংঘর্ষ এবং নানা অপ্রীতিকর ঘটনা।

যেসব বিষয় নিয়ে উপ-দলীয় কোন্দল

দেশের বেশিরভাগ সংসদীয় এলাকায় উপ-দলীয় কোন্দলের কারণ সম্পর্কে যেসব তথ্য পাওয়া যায় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে টেণ্ডারবাজি, দখল-বেদখলে সহায়তা বাণিজ্য, টিআর-কাবিখা-কাবিটার ভাগাভাগি, স্থানীয় কর্তৃত্ব বজায়, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় পিয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য, বিভিন্ন অনৈতিক কাজে সহযোগিতা করা।

পিয়ন থেকে শিক্ষক নিয়োগে এখন দর বেঁধে দেয়া হচ্ছে। ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এই দর হাঁকা হচ্ছে। টিআর-কাবিখায় টনপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা আদায় হচ্ছে। সোলার প্যানেল বরাদ্দেও লেনদেন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরি পাওয়ার জন্য এমপিদের কাছ থেকে ডিওলেটার নেয়ার ক্ষেত্রেও বাণিজ্য হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের দালিলিক কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বাজার-ঘাটে চায়ের কাপে এসব নিয়ে সমালোচনা হলেও তা কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছায় না বলে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব কাজে লাভবান হচ্ছেন কতিপয় নেতা-কর্মী। টিআর-কাবিখা-কাবিটা থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন উঠছে। বেশিরভাগ নেতা-কর্মী এ কমিশন থেকে উপেক্ষিত থাকছেন। এ নিয়ে একাধিক উপ-দল তৈরি হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কৌশলে এসব উপ-দল তৈরির ঘটনা রয়েছে। উদ্দেশ্য, অপকর্মের কথা প্রচার হতে না দেয়া; কিন্তু এতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন; কিন্তু তার এ বার্তা বোধকরি এখনো সবার কাছে বোধগম্য হয়নি। তাই বিচ্ছিন্নভাবে হলেও এখনো বিভিন্ন জায়গায় কোন্দলের জেরে ঘটছে অপ্রীতিকর সব ঘটনা। আর অব্যাহতভাবে এরকম ঘটনার কারণে দলের সাধারণ সম্পাদককেও ভয়ঙ্কর পরিণতির শঙ্কা প্রকাশ করতে হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। বন্দুকযোদ্ধাদের পরিণতি বন্দুকেই ভোগ করতে হচ্ছে বা হয়েছে। আর যারা হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি নিয়ে উপ-দলীয় কোন্দলে আছেন তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পুলিশ শুধু সন্ত্রাসীদের দমন নয়, এখন ক্ষমতাসীন দলের কোন্দল সৃষ্টির কারণ ও যাদের কারণে কোন্দল সৃষ্টি তাদেরকেও চিহ্নিত করে রাখছে। ক্ষেত্রমতে দলীয় ব্যবস্থা আর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্তও রয়েছে উপর মহলে। গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্ষেত্রের বিষয়ে তারাও সজাগ রয়েছেন মাঠে। এসব তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া।

অপরদিকে যেসব নেতা, এমপি, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী কোন্দলের কারণ— তাদের আমলনামাও জমা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। আসছে নির্বাচনে তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে বর্তমান কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করেই।

তুনতুন হাসানজাতীয়
ভাবমূর্তি রক্ষায় সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে আছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ তথা সরকার। সরকার ও দলীয় প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রলীগের সম্মেলনে। আর দলের সাধারণ সম্পাদক জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাতীয় শোক দিবসের এক অনুষ্ঠানে স্পষ্ট করেই বলেছেন, হালুয়া-রুটির ভাগাভাগি নিয়ে...