নিজস্ব প্রতিবেদক ।
আড়াই মাস নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি ফেরা ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায় একটি চিঠি লিখেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন, ‘আমি ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার’।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।
অনিরুদ্ধ রায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরএমএম গ্রুপের প্যাডে লেখা ওই চিঠি তার পরিবারের পক্ষ থেকে রবিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়েছে। চিঠির নিচে তার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে এতদিন তিনি কোথায় কীভাবে ছিলেন- সেসব বিষয়ে কিছু বলা হয়নি ওই চিঠিতে। ফলে এই অনিরুদ্ধ রায়ে অপহরণের বিষয়টি রহস্যাবৃত্তই থেকে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে ব্যবসায়িক অংশীদার তাকে অপহরণ করলে এতদিন কোথায় রেখেছিল? কিভাবে রেখেছিল? সেসব প্রশ্নের কোন উত্তর তিনি দিচ্ছেন না। চিঠিতেও এসব প্রশ্নের জবাব নেই। খোলা চিঠি লিখেলেও সাংবাদিকদের কাছে তিনি কিছু বলছেন না।

গত ২৭ আগস্ট বিকালে ঢাকার কূটনীতিক পাড়া গুলশানের এক নম্বর সেকশনে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসে অনিরুদ্ধকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে সে সময় জানিয়েছিলেন তার গাড়িচালক। দীর্ঘ ৮১ দিন নিখোঁজ থাকবার পর শুক্রবার তিনি বাসায় ফেরেন। আরএমএম লেদার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ বেলারুশের ‘অনারারি কনসাল’ ছিলেন। তিনি কানাডার নাগরিক। টরন্টো-ঢাকা মিলিয়েই তার বসবাস। তবে অনিরুদ্ধর মালিকানাধীন হাজারীবাগের এলআইবি ট্যানারি ফ্যাক্টরির কর্মকর্তারা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলছেন, ৩০ অক্টোবর অনিরুদ্ধ ফিরেছেন। ৩ নভেম্বর চিকিত্সার জন্য তিনি ভারতে যান। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ভারত থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছেন। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে তিনি গুলশানের বাড়িতে ফিরেন। এরপরও নিশ্চুপ ছিলেন। শনিবার মিডিয়ার কাছে মুখ খোলে পরিবার।

খোলা চিঠিতে অনিরুদ্ধ বলেছেন, ‘আমার ব্যবসায়িক অংশীদার মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন গং আমার প্রতিষ্ঠিত তিনটি প্রতিষ্ঠান আরএমএম লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আরএমএম নিট ক্লথিং লিমিটেড ও আরএমএম সোয়েটার লিমিটেড (যার সম্পদের মূল্য ১৫০ কোটি টাকার অধিক) হস্তগত করার জন্য হেন কাজ নাই যা করেনি।’ গুলশানের ইউনিয়ন ব্যাংকে এক বৈঠক শেষে গত ২৭ আগষ্ট তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছিল জানিয়ে চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘সম্ভবত ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার কারণে এমনটা হয়েছে বলে আমি আশঙ্কা প্রকাশ করি।’

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, অপহরণকারীরা তার সব সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ দেয়। ‘কিন্তু আমি দৃঢ়তার সাথে তা মোকাবেলা করি এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় গত ১৭ নভেম্বর বাসায় ফিরি।’ ‘অপহরণের পর’ বিভিন্নভাবে অনিরুদ্ধর ক্ষতি করার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। এর বিবরণ দিতে গিয়ে চারটি পয়েন্টে ব্যবসায়িক অংশীদার মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘আমার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এলআইবি-এর শিপমেন্ট সার্টিফিকেট প্রদানে বিএফএলএলএফইএ এর চেয়ারম্যান হিসেবে অনৈতিকভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য কোম্পানি থেকে পাওনা ৫ কোটি টাকা কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার পরিবর্তে নিজের নামে গ্রহণ করা হয়েছে, ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের হুমকি দেওয়াসহ বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, আমার অনুপস্থিতিতে আমার অনুমতি ব্যতিরেকে আমার অফিস কক্ষ থেকে জরুরি নথিপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ ন্যায় বিচার, ব্যবসায়িক সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান এই ব্যবসায়ী।

অভিযোগের বিষয়ে অনিরুদ্ধের ব্যবসায়িক অংশীদার মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গুলশান থানা পুলিশ বলেছে, অনিরুদ্ধের ফেরার দুই দিন পর পরিবার তাদের বিষয়টি জানিয়েছে। এখন এ বিষয়ে তারা তদন্ত শুরু করছেন। অনিরুদ্ধকে তুলে নেওয়ার পর উদ্বেগ জানিয়ে তাকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছিল হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। অনিরুদ্ধের পর সাংবাদিক উত্পল দাশ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজারসহ কয়েকজন নিখোঁজ হন সম্প্রতি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে জোর তত্পরতা চলছে। তারা আশাবাদী, অচিরেই নিখোঁজদের ফিরে পাওয়া যাবে।
খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের।

http://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/152.jpghttp://crimereporter24.com/wp-content/uploads/2017/11/152-300x300.jpgজান্নাতুল ফেরদৌস মেহরিনপ্রথম পাতা
নিজস্ব প্রতিবেদক । আড়াই মাস নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি ফেরা ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ কুমার রায় একটি চিঠি লিখেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন, ‘আমি ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার’।খবর ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমের। অনিরুদ্ধ রায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরএমএম গ্রুপের প্যাডে লেখা ওই চিঠি তার পরিবারের পক্ষ থেকে রবিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হয়েছে। চিঠির...