86212_thumb_f1
মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হওয়ার পর দুই দিন ধরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটছে সারা দেশে। পথে পথে এ ধরনের যানচালক ও মালিকরা অবরোধ করে অন্য যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করছেন। এতে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। অবরোধের কারণে সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ শ্রমিকদের। তিন চাকার অটোরিকশা মালিক-চালকরা আন্দোলন করলেও সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের আড়াই লাখ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র তিন হাজার ৫৭০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা সড়কের ১ দশমিক ৪২ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়ক বাদে অন্যসব সড়কেই তিন চাকার যান চলতে পারবে। জাতীয় মাহসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত সরকার বাস্তবায়ন করবে। এ থেকে সরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো অটোরিকশা মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে অবরোধ, বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। এতে ৪ পুলিশসহ ১০ জন গুলিবদ্ধ হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ মালিক-শ্রমিকরা কোথাও কোথাও লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। অবরোধের কারণে বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। ফলে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। এদিকে বরিশাল থেকে ঢাকাসহ সব রুটের বাস বন্ধ করে রাখার ঘোষণা দিয়েছে বরিশাল বাস মালিক সমিতি। মহাসড়কে অটোচালকদের নৈরাজ্যে প্রতিবাদে এ ঘোষণা দেন তারা।
সিলেটের অর্ধ লাখ সিএনজিচালক লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করেছেন। অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি ও ধর্মঘটের ডাক দিয়ে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কমপক্ষে ২০টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। করছেন বিক্ষোভও। এই অবস্থায় গতকাল দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আন্দোলনরত মালিক শ্রমিকদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ওই বৈঠকে জেলা প্রশাসক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ঢাকা-সিলেট রুটে শেরপুর পর্যন্ত ও সিলেট-তামাবিল সড়কে কোন সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করতে পারবে না। অটোরিকশা পরিবহন শ্রমিকরা বৈঠককালে পাল্টা হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন, সন্ধ্যার মধ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা ও সিএনজির জন্য মহাসড়কে লেন নির্মাণ না করলে তারা লাগাতার অবরোধে যাবেন। ফলে সিলেটে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন প্রশাসন ও আন্দোলনরত শ্রমিক-মালিকরা। এদিকে, আন্দোলনত অটোরিকশা শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সহসভাপতি প্রকৌশলী এজাজ আহমদ। ঘোষণা করেছেন, ‘প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে দাবি আদায় করা হবে।’ সিলেটের বিভিন্ন রাস্তায় অর্ধ লাখ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। এর মধ্যে সিলেট থেকে শেরপুর ও সিলেট থেকে তামাবিল, সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত অধিকসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। এর বাইরে সিলেট নগরীতেও আরও ৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। সরকার ১লা আগস্ট থেকে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই সিলেটে পাল্টা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক, শ্রমিক পরিবহনের নেতারা। প্রথম দিন তারা ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেন। এর ফলে গোটা জেলাইয় যানবাহন চলাচল করেছে কম। যাত্রী পরিবহনে কোন সিএনজি অটোরিকশা পাওয়া যায় না। প্রথম দিন ধর্মঘট কর্মসূচি পালন শেষে রাতে ঘোষণা করা হয় গতকাল থেকে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি চলবে। এর ফলে সকাল থেকেই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চণ্ডিপুল থেকে শেরপুর পর্যন্ত কমপক্ষে ২০টি স্থানে অবস্থান নেন সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ও মালিকরা। প্রথমে তারা রশিদপুরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর চণ্ডিপুল, তেলীবাজার, লালাবাজার, নাজিরবাজার, কুরুয়া, দয়ামীর, তাজপুর, গোয়ালাবাজার, শেরপুরসহ কয়েকটি স্থানে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে মহাসড়কে সাতসকালেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সব কটি স্পটে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সিলেটের প্রবেশমুখ চণ্ডিপুল, তেলিবাজার এলাকায় সিএনজি অটোরিকশাচালকদের সবচেয়ে বড় সমাগম হয়। সিএনজিচালকরা ওই দুটি এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্ট্যান্ড থেকে চালকরা মিছিল নিয়ে ওই দুটি স্থানে এসে পৌঁছেন। চালকরা রাস্তার পাশে সিএনজি অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রেখেও প্রতিবাদ করেন। এ অবস্থায় দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ছুটে যান সিলেট মেট্রোপলিট পুলিশের এডিসি জিদান আল মুছা। তিনি গিয়ে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় জেদান আল মুছা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, পরিবহন শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে পুলিশ কোন বাধা দেবে না। অন্যান্য যানবাহন চলাচলে তাদের বাধা দেয়ার অধিকার নেই। সুতরাং পুলিশ আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতেই রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেটের জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসে অটোরিকশা শ্রমিক ও মালিকরা। সিলেট বিভাগীয় সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদের নেতৃত্বে এ সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে তারা বৈঠক করেন। বৈঠকে সিলেট বিভাগীয় সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর ও সিলেট-তামাবিল সড়কে কয়েক হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলে। সুতরাং হঠাৎ করে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় চালকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। সুতরাং মানবিক দিক বিবেচনা করে সিলেট যানবাহন চলাচলের জন্য দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশার জন্য পৃথক লেন নির্মাণের দাবি জানান। কিন্তু সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি আগাম ঘোষণা দিয়ে কার্যকর করেছে। সুতরাং এ মুহূর্তে সিলেটের জন্য নতুন করে কোন কিছু ভাবার সম্ভাবনা নেই। তিনি সিএনজিচালকদের আপাতত কর্মসূচি প্রত্যাহার করার কথা বলেন। তার এ প্রস্তাবে অটোরিকশা শ্রমিকরা সাড়া না দিয়ে পাল্টা আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত গাড়ি চলাচলের অনুমতি না দিলে তারা মহাসড়ক অবরোধ করবেন। বৈঠক শেষে সিলেট বিভাগীয় সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ জানিয়েছেন, আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি। প্রশাসনের বোধোদয় হলে আমরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবো। অন্যথায় আন্দোলন চলবে। এদিকে, সিলেটের দুটি মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলের দাবিতে গোটা জেলাতেই সিএনজি অটোরিকশা ধর্মঘট শুরু হওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সিলেট নগরীতেও কমে এসেছে যানবাহনের সংখ্যা। এ ছাড়া সিএনজি না থাকায় যাত্রীদের যাতায়াতে দুর্ভোগের অন্ত ছিল না। একই অবস্থা বিরাজ করছে সিলেটের ১২টি উপজেলায়ও।
মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সিলেট জেলা অটোরিকশা (সিএনজি) শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের অংশ হিসেবে দক্ষিণ সুরমায় সমাবেশ করেছে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন। গতকাল সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট বিভাগীয় সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ। শ্রমিক নেতা মাসুক মিয়া ও রাজু আহমদের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি প্রকৌশলী এজাজুল হক এজাজ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী এজাজুল হক এজাজ বলেন, সিলেট জেলায় ৪০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন। আমরা রাস্তায় বসে পড়বো, প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে আমাদের দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরে যাব না। দক্ষিণ সুরমা সমাবেশে সকাল থেকে তেলিবাজার, ভার্থখলা স্টেশন, নাজিরবাজার, লালাবাজার, বিশ্বনাথ, খোরুয়াবাজার, কামালবাজার, রশিদপুর, টুকোরবাজার, তৈমুখী পয়েন্টে, পাঠানটুলা, মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানের অটোরিকশা সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে কোন সুরাহা না হওয়ায় বিকাল থেকে সিলেটের রাজপথে উত্তেজনা চলছে। দুপুরের পর অধিসংখ্যক সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা অবস্থান নেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট অংশে। সেখানে তারা রাস্তায় বিক্ষোভ ছাড়াও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বাধা প্রদান করেন। এজন্য সিলেটের তেলিবাজারসহ কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ওইসব এলাকায় প্রচুরসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
হবিগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করার পরও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সিএনজি-অটোরিকশা চলাচল করায় ৭টি সিএনজি-অটোরিকশা, ৩টি অটো-টেম্পো ও ১টি নছিমন আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তিন চালককে সাড়ে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শনিবার রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা শাহ গোলাম মর্তুজা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, জেলার মাধবপুর উপজেলায় ৩টি সিএনজি-অটোরিকশা এবং ৩টি অটো-টেম্পো আটক করা হয়। সেখানে তিন চালককে সাড়ে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রোববার দুপুরে বাহুবল উপজেলার মিরপুর থেকে আরেকটি সিএনজি-অটোরিকশা আটক করা হয়। জেলার মাধবপুর, নসরতপুর, অলিপুর, শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ, মিরপুর, আউশকান্দি ও সৈয়দপুর পয়েন্টে পুলিশ অবস্থান করছে। এ ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত সকালে বাহুবল উপজেলার মিরপুর পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের মহাসড়কগুলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ৩ চাকার যানবাহন চলাচল অনেকাংশে কমে গেছে। এদিকে, এসব যানবাহন বন্ধের প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে হাটিকুমরুল গোলচত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন মালিক-শ্রমিকরা। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, মহাসড়কের পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দিন আহম্মেদ রোববার সকালে সিরাজগঞ্জ এসেছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। দ্বিতীয় দিনে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় থেকে হাটিকুমরুল মোড় পর্যন্ত ব্যস্ততম ২২ কিমি মহাসড়কে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৩টি মামলা হয়েছে। মহাসড়কে ৩ চাকার যানবাহন চলাচল অনেক কমে গেছে।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার অধীনে মহাসড়কে পুলিশের তৎপরতা বাড়লেও অবৈধ যানবাহন আটক ও ছেড়ে দেয়া সবই চলছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল সকাল থেকেই বনপাড়া বাইপাস মোড়, রেজুর মোড়, রাজ্জাকের মোড়ে পুলিশের যানবাহন নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা দেখা দিলেও বিভিন্ন সময় আটক ও পরে ছেড়ে দেয়ার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। যার ফলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মহাসড়ক থেকে তিন চাকার যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সিরাজগঞ্জ অটোরিকশা, অটো-টেম্পো ও মিশুক মালিক সমিতি গতকাল উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুল গোলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। সংগঠনের জেলা সভাপতি আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক থেকে শুরু হয়ে নাটোর ও ঢাকা মহাসড়ক ঘুরে আবার গোলচত্বরে এসে শেষ হয়।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটোরিকশা বন্ধের প্রতিবাদে মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি বিশ্বরোডে অটোরিকশা মালিক-চালকদের মহাসড়কে অবরোধ, দফায় দফায় সংঘর্ষ-গাড়ির ভাঙচুর, পুলিশের রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে ৪ পুলিশসহ আহত ১০ জন গুলিবদ্ধ। অবরোধের ফলে মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর থেকে মেঘনা-গোমতী সেতু পেরিয়ে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এ দীর্ঘ যানজটের ফলে রোগী ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সরজমিন গিয়ে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটোরিকশা বন্ধের প্রতিবাদে দাউদকান্দি উপজেলার শহস্রাধিক অটোরিকশা মালিক-চালকরা দাউদকান্দি উপজেলার বিশ্বরোডে মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সড়িয়ে নিতে রাজি করায়। হঠাৎ করে দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক তপন কুমার বাকচী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে চালকদের ওপর লাঠিচার্জ করেন। এতে মালিক-চালকরা উত্তেজিত হয়ে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। পরে মডেল থানার উপপরিদর্শক তপন কুমার বাকচীর নেতৃত্বে পুলিশ মালিক-চালকদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের গুলিতে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। চালকদের ইট-পাটকেলের আঘাতে সহকারী পুলিশ পরিদর্শক কবিরসহ ৪ পুলিশ আহত হয়। পরে মালিক-চালকরা আরও উত্তেজিত হয়ে মহাসড়কে অবরোধ করেন এবং মডেল থানার উপপরিদর্শক তপন কুমার বাকচী সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কের তারাকান্দা তিন চাকাবিশিষ্ট সব ধরনের নছিমন, করিমন, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোসিএনজি, টেম্পো চলাচলের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারাকান্দা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহম্মেদ মোল্লা ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, এ আদেশ অমান্যকারী যানবাহনসহ চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জালিয়ে তারা অবরোধ করে। অন্যদিকে একই সড়কের চান টেক্সাইল এলাকায় রাস্তায় শুয়ে নছিমন-করিমন চালকরা যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। পরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চালকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কে বিসিক বাসস্ট্যান্ড বাঘাবাড়ী নৌবন্দর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আহমেদ, অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম, ওসি তদন্ত আবদুল হাই এসব এলাকা থেকে বেশ কিছু অযান্ত্রিক যানবাহন ও রেজিস্ট্রেশবিহীন অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল আটক করে। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনার খবর পেয়ে গোটা শাহজাদপুর মহাসড়কে অটো-টেম্পো শূন্য হয়ে পড়ে। গোটা মহাসড়ক যেন ফাঁকা হয়ে যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আহমেদ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, সরকার নির্দেশিত মহাসড়কে কোন ধরনের অটোরিকশা, অটো-টেম্পো এবং সব অযান্ত্রিক যানবাহন কোন রকম চলতে দেয়া যাবে না, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, সকাল ১০টায় সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দিলে বেলা সাড়ে ১১টায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঢাকা জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাসেল শেখ ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে জানান, অটোরিকশা মালিক ও চালকরা একজোট হয়ে হঠাৎ মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে সংবাদ পেয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, গতকাল শত শত সিএনজি, অটো-টেম্পো, থ্রি-হুইলার ও মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে জমায়েত হয়। জেলার ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট, শেরপুর, কিশোরগঞ্জসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গতকাল প্রচুর সিএনজি, অটো-টেম্পো, থ্রি-হুইলার ও মাহেন্দ্র চলাচল করতে দেখা গেছে।
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে অটোরিকশা, টেম্পো, মাহেন্দ্র, ইজিবাইক, চলাচলের অনুমতি দান, অথবা গৌরনদী-আগৈলঝাড়ার আঞ্চলিক সড়কে বাস-কোচ চলাচল বন্ধের দাবিতে গতকাল বরিশালের গৌরনদীতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় অটোরিকশা, টেম্পো, মাহেন্দ্র, ইজিবাইক, নছিমন মালিক, চালক ও শ্রমিকরা। এ সময় মহাসড়কের উভয়দিকে শত শত যান বাহন আটকা পড়ে। এতে হাজার হাজার বাসযাত্রীসহ ট্রাক, লড়ি ও বাস, কোচের চালকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, মহাসড়কে মাহেন্দ্র অটোরিকশাসহ ছোট যানবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বরিশালের পরিবহন সেক্টর। গতকাল সকালে টেম্পোশ্রমিকরা গৌরনদী ও বাবুগঞ্জে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এর প্রতিবাদে বেলা ১টায় নথুলাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লা রুটের বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে জেলা বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস শ্রমিকদের হামলার মুখে ছোট যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। এ নিয়ে গোটা বরিশালে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে বাস ধর্মঘট আর সড়কে সড়কে বিশৃঙ্খলায় চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রী সাধারণ। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান ক্রাইম রিপোর্টার ২৪.কমকে বলেন, মহাসড়কে টেম্পো, অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবহন চলাচলে উচ্চ আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ পর্যন্ত কোন দিকনির্দেশনা দেয়া হয়নি। বাস ধর্মঘট নিরসনের জন্য তিনি প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেবেন।
স্টাফ রিপোর্টার, টঙ্গী থেকে জানান, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে গাজীপুর সিএনজি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এ সময় গাজীপুর ডিসি অফিসে ৭ দফার দাবিতে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। স্থানীয় চেরাগআলী থেকে গতকাল সকালে গাজীপুর সিএনজি মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ কয়েক শ সিএনজি নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় মহাসড়কে এলোপাতাড়ি থ্রি-হুইলার রেখে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করা হয়।

সুরুজ বাঙালীপ্রথম পাতা
মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হওয়ার পর দুই দিন ধরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটছে সারা দেশে। পথে পথে এ ধরনের যানচালক ও মালিকরা অবরোধ করে অন্য যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করছেন। এতে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।...